কেরলে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হচ্ছেন মেট্রো ম্যান ই শ্রীধরন, বললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সপ্তাহে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন ‘মেট্রো ম্যান’ ই শ্রীধরন। বৃহস্পতিবার তাঁকেই কেরলে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভি মুরলিধরন। এদিন সকালে তিনি টুইট করে বলেন, “কেরলে বিজেপি ই শ্রীধরনজিকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করবে। আমরা কংগ্রেস ও সিপিএম, উভয় দলকেই পরাজিত করব। কেরলে দুর্নীতিমুক্ত, উন্নয়নকেন্দ্রিক সরকার গড়ব আমরা।”

পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লেখেন, “নরেন্দ্র মোদীজির নেতৃত্বে বিজেপি কেরলের দায়িত্ব নিতে চায়। ই শ্রীধরনজির নেতৃত্বে নতুন কেরলে দক্ষ প্রশাসন কাজ করবে।” কেরলের বিজেপি প্রধান কে সুরেন্দ্রন বলেন, “মেট্রো ম্যান ই শ্রীধরন পাঁচ মাসে একটি সেতু নির্মাণ করেছিলেন। তাতে কোনও দুর্নীতি হয়নি। সিপিএমের আমলে উড়াল পুল ভেঙে পড়েছে। আমরা দলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলাম, শ্রীধরনজিকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরা হোক।”

পরে সুরেন্দ্রন বলেন, “মেট্রো ম্যানের নেতৃত্বে এনডিএ যদি কেরলে ক্ষমতায় আসে, তাহলে মোদীজির উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি ১০ গুণ বেগে কার্যকরী হবে।” শ্রীধরন নিজে এদিন বলেন, “আমি রাজনীতিকদের মতো কাজ করব না। আমি টেকনোক্র্যাট হিসাবে কাজ করব।” পরে তিনি বলেন, “আমার লক্ষ্য হল বিজেপিকে রাজ্যে ক্ষমতায় নিয়ে আসা। যদি বিজেপি কেরলে ক্ষমতায় আসে, আমি তিন-চারটি ক্ষেত্রের ওপরে জোর দেব। প্রথমত পরিকাঠামোর উন্নতি করব ব্যাপকভাবে। দ্বিতীয়ত রাজ্যে শিল্প আনার চেষ্টা করব।”

এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকারে মেট্রো ম্যান বলেন, “বিজেপি যদি চায়, আমি নির্বাচনে লড়ব। মুখ্যমন্ত্রী না হলে আমি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি করতে পারব না।”

কেরলের সঙ্গে এবার বিধানসভা ভোট হবে পশ্চিমবঙ্গেও। এদিন শিবসেনা জানিয়েছে, তারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করবে।

দীর্ঘকাল শিবসেনা ছিল বিজেপির জোটসঙ্গী। ২০১৯ সালে সেই জোট ভেঙে যায়। কংগ্রেস এবং এনসিপি-র সঙ্গে জোট বেঁধে মহারাষ্ট্র বিকাশ আগাদি নামে মঞ্চ গড়ে তোলে শিবসেনা। সেই মঞ্চের সদস্য এনসিপি ইতিমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধেছে।

আগামী ২৭ মার্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হবে ভোটপর্ব। আট দফায় ভোট হবে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত। ফলাফল জানা যাবে ২ মে। কেন পশ্চিমবঙ্গে আট দফায় ভোট করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। মমতা বলেছেন, “ওরা বিহারে কারচুপি করেছে। তেজস্বী লড়ছে। আমিও লড়ছি। দেখুন, কীভাবে ওরা ভোটের দিনক্ষণ স্থির করেছে।”

কিছুদিন আগে আরজেডি-র নেতা তেজস্বী যাদব পশ্চিমবঙ্গে এসে মমতার সঙ্গে দেখা করেন। আরজেডি-র জোটসঙ্গী কংগ্রেস এখানে মমতার বিরুদ্ধে লড়াই করচ্ছে। কিন্তু তৃণমূলের সঙ্গে আরজেডি-র জোটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গত সোমবার তেজস্বী বলেন, “কেবল বিহারেই আমাদের সঙ্গে কংগ্রেস ও বামপন্থীদের জোট আছে। এখানে দিদি যাতে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারেন, সেজন্য তাঁর হাত শক্ত করা আমাদের কর্তব্য।”

উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের জোটসঙ্গী সমাজবাদী পার্টি বলেছে, পশ্চিমবঙ্গে তারা তৃণমূলের হয়ে প্রচার করবে। সপা-র শীর্ষ নেতা অখিলেশ যাদব বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি যেভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তার মোকাবিলা করার জন্য তারা মমতাকে সমর্থন করবে।

কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে হিন্দিভাষী মানুষের সংখ্যা কম নয়। তেজস্বী ও অখিলেশের দলের প্রচার তাদের ওপরে প্রভাব ফেলতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More