লকডাউনের ভয়ে ফের কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গতবছর দেওয়ালির সময় থেকে ফের ভিন রাজ্যের কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে দেখা গিয়েছে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ। আঞ্চলিকভাবে লকডাউন বা কনটেনমেন্ট জোন জারি করার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফের বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। বিশেষত যে এলাকাগুলিতে সংক্রমণ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, সেখান থেকে অনেকে ফিরে আসছেন।

ঝাড়খণ্ড সরকার জানাচ্ছে, প্রতিদিনই কয়েকশ পরিযায়ী শ্রমিক ফিরছেন রাঁচিতে। তাঁরা মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, দিল্লি ও তেলঙ্গানায় কাজে গিয়েছিলেন। ওড়িশার গঞ্জাম জেলাতেও ফিরেছেন অনেক পরিযায়ী শ্রমিক। মুম্বই ও সুরাট থেকে যে ট্রেনগুলি ওড়িশায় আসছে, তাতে চড়েই ফিরছেন পরিযায়ীরা। সুরাটে সম্প্রতি কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন ওড়িশার চার শ্রমিক। তার পরেই পরিযায়ীরা ওই শহর থেকে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

বর্তমানে চার রাজ্য, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু ও কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরিতে ভোট হচ্ছে। ভিন রাজ্য থেকে ভোট দিতে নিজের রাজ্যে ফিরেছেন অনেক শ্রমিক। এর মধ্যে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁরা আর কর্মস্থলে ফেরেননি।

ঝাড়খণ্ডের গিরিডি থেকে কাজের সন্ধানে মুম্বইতে গিয়েছিলেন গোবিন্দ কুমার। তিনি বাণিজ্যনগরীতে এক কফি শপে কাজ করছেন গত পাঁচ বছর। মুম্বইতে আগামী ৩০ এপ্রিল অবধি জারি হয়েছে নাইট কার্ফু। গোবিন্দ যে কফি শপে কাজ করেন, তার মালিক কর্মচারীদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, সময় হলে ফের কর্মীদের ডেকে পাঠাবেন। গোবিন্দ তাঁর বেতনের এক বড় অংশ ব্যয় করে প্লেনের টিকিট কিনেছেন। শুক্রবার তিনি পৌঁছেছেন রাঁচির বীরসা মুন্ডা বিমান বন্দরে।

এদিনই বেঙ্গালুরু থেকে ফিরেছেন অনিল কুমার মাহাতো। তিনি ওই শহরে ছুতোরের কাজ করতেন। শহরে নাইট কার্ফু জারি হওয়ার পরে তাঁদের সংস্থার মালিক কর্মচারীদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেছেন। তিনি বলেন, গতবছর কয়েকমাস বাড়িতে বসেছিলাম। দেওয়ালির সময় ফের কাজে ফিরি। এখন আমার চাকরি ফের অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া বুলেটিন বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৯৬৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শুধু মহারাষ্ট্রেই প্রায় ৬০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। কর্ণাটক, কেরল, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাব, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশের ছবিটাও রীতিমতো উদ্বেগজনক।

এর ফলে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩০ লক্ষ ৬০ হাজার ৫৪২ জন। মোট মৃতের সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৬৪২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৭৮০ জনের, যা দৈনিক হিসেবে চলতি বছরে সর্বোচ্চ।

যত মানুষ সংক্রামিত হচ্ছেন, তত মোটেও সেরে উঠছেন না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনামুক্ত হয়েছেন ৬১ হাজার ৮৯৯ জন। যা দৈনিক আক্রান্তের থেকে অর্ধেকেরও কম। যার ফলে দেশের মোট অ্যাকটিভ কেস একধাক্কায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লক্ষ ৭৯ হাজার ৬০৮ জন। দেশে পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ১৯ লক্ষ ১৩ হাজার ২৯২ জন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More