ভোটের আগে কাটফাটা রোদে আলুর জমিতে লাঙল টানলেন মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া : ভোট বড় বালাই। ভোট এলে কত কিছুই না করতে হয় রাজনীতির মানুষদের। রোদে পুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সুখ-দুঃখের খবর নেওয়া তো আছেই, সঙ্গে আরও আরও কত কিছু। বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ার কোতুলপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রঘুমণ্ডলসায়ের গ্রামের মানুষ যা দেখলেন তা যেন ছাপিয়ে গেল অনেক কিছুকেই।

তাঁর দল কৃষকদের পাশে আছে এই বার্তা দিতে ভরদুপুরে বাঁকুড়ার প্রায় চল্লিশ ডিগ্রির কাঠফাটা রোদে মাঠে নেমে পড়লেন রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা। কখনও চাষিদের সঙ্গে লাঙল টানলেন তো আবার কখনও চাষিদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে আলু কুড়োলেন জমি থেকে।

পেশায় অধ্যাপক মন্ত্রীমশাই। ধোপদুরস্ত জামাকাপড় মাঠে কাজ করা চাষিদের সঙ্গে তাঁর ফারাকটা বুঝিয়ে দিলেও মন্ত্রীমশাই চাষের কাজ করলেন রীতিমত নিপুণ হাতেই। আর এসব কাজের মাঝেই মাঠের আলুচাষিদের হাতে শ্যামলবাবু তুলে দিলেন গত দশ বছরে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের সাফল্যের রিপোর্ট কার্ড। দেখে শুনে বিরোধীদের কটাক্ষ, গত দশ বছরে সরকারের বঞ্চনায় রাজ্যের আলু ও ধান চাষিদের কোনঠাসা অবস্থা। কেউ ফিরেও তাকাননি।

বিজেপির রাঢ় বঙ্গ কনভেনার পার্থ সারথী কুণ্ডু বলেন, “কৃষকরা ফসলের দাম পাচ্ছেন না। মন্ত্রী মশাই নিজেও কখনও চাষিদের অবস্থা তাকিয়ে দেখেননি। এখন নির্বাচন এসে পড়ায় মন্ত্রীমশাই চাষিদের সঙ্গে আলুর জমিতে নেমে নাটক করছেন।”

শ্যামলবাবু অবশ্য বিরোধীদের এই কটাক্ষের কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “দরিদ্র পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠার কারণে মাঠে কাজ করার অভ্যাস আমার রয়েছে। সেই অতীতকে ভুলে গেলে বর্তমানকেও অস্বীকার করতে হয়। বিরোধীরা ঠান্ডা ঘরে বসে রাজনীতি করে বলেই তাঁরা কটাক্ষ করছেন। আমরা মাটি থেকে উঠে এসেছি। এসব আমাদের অভ্যেস।

Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More