নিখোঁজ সেনা রাকেশ্বর কি আহত হয়ে কোথাও পড়ে আছেন! জল্পনা বাড়াল সিআরপিএফ প্রধানের মন্তব্য

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘অপারেশন চলাকালীন মাটিতে বসে পড়েছিলেন রাকেশ্বর সিং মানহাস। রীতিমতো বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল তাঁকে৷’ — বিজাপুর এনকাউন্টারে সেনা জওয়ান অন্তর্ধান রহস্যে এবার নয়া জল্পনা উসকে দিলেন সিআরপিএফ চিফ কুলদীপ সিং। একটি সাক্ষাৎকারে সেদিনের চোখে দেখা অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাহলে কি শনিবার মাওবাদীদের গুলিতে রাকেশ্বর কোনওভাবে আহত হন? কুলদীপের জবাব, সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও পাশাপাশি টানা লড়াইয়ের ধকল এবং অতিরিক্ত গরমকেও কারণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন তিনি।

ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন? কুলদীপ বলেন, ‘শনিবার সুকমা এবং বিজাপুর সংলগ্ন জঙ্গলে মাওবাদীদের সঙ্গে জোরকদমে গুলির লড়াই চলছিল। রাকেশ্বর আমার খুব একটা দূরে ছিল না। এনকাউন্টার করতে করতে যখন আমাদের এগিয়ে যাওয়ার কথা, তখনই নজরে আসে, রাকেশ বসে পড়েছে। অথচ সেই সময় পরিস্থিতি এমন ছিল না যে, আমি ওর কাছে ফিরে যাই। রাকেশ্বর আহত হতেই পারে। কিংবা গরমের জেরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল।’

প্রায় পাঁচ ঘণ্টার টানা সংঘর্ষ। শনিবারের এই ভয়াবহ এনকাউন্টার কেড়ে নেয় ২২ জন সেনা জওয়ানের প্রাণ। মাওবাদীদের শিবিরেও হতাহতের খবর মিলেছে। আহতদের দ্রুত আরোগ্যলাভ কামনা করে টুইট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি মাওবাদীদের শায়েস্তা করতে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু সমস্তকিছু ছাপিয়ে আপাতত সারা দেশের নজরে মাওবাদীদের হাতে রাকেশ্বরের আটক হওয়ার রহস্য।

গত দু’দিন ধরে অপহরণের ঘটনা একটু একটু করে জাল ছড়িয়েছে। কখনও মাও নেতার উড়ো ফোন, কখনও-বা অপহৃত জওয়ানের বাচ্চা মেয়ের ভিডিও বার্তা। রাকেশ্বরের অন্তর্ধান নিয়ে বিকল্প কোনও সম্ভাবনা এতদিন চাউর হয়নি। কুলদীপের বক্তব্য হঠাৎ করে সেই জমি তৈরি করল বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

আরও পড়ুন: ‘নকশাল কাকু, প্লিজ, আমার বাবাকে ফিরিয়ে দাও!’ নিখোঁজ জওয়ানের ছোট্ট মেয়েকে দেখে চোখে জল সকলের

অনেকগুলি কারণেই সিআরপিএফ প্রধানের বক্তব্যকে মান্যতা দিতে চাইছেন তাঁরা। একটা বড় কারণ অবশ্যই এনকাউন্টার পয়েন্টে তাঁর সরাসরি উপস্থিতি। আর সেটাকেই আর একটু উস্কেছে কুলদীপের মন্তব্য, ‘গোলাগুলির হানা বন্ধ হলে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। আমরা বুঝতে পারি, আমাদের অনেক জওয়ানই নিখোঁজ। তখন সন্ধ্যা হয়ে এসেছিল… তাই পরদিন ভোরবেলা তাঁদের সন্ধানে ফের অপারেশন শুরু হয়।’

ঘটনার উলটো দিকের ছবিটা ঠিক অন্য কথা বলছে। জানা যায়, সোমবার ছত্তিশগড়ের অন্তত দু’জন সাংবাদিক উড়ো ফোন পেয়েছেন। মাওবাদী পরিচয় দিয়ে বলা হয়েছে, রাকেশ্বর নাকি তাদের হেফাজতে আছে। খবর জানাজানি হতেই রাকেশের স্ত্রী সরাসরি প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহের কাছে আবেদন জানান।

কিন্তু এখনই এই তত্ত্বে বিশ্বাস রাখতে বারণ করছেন কুলদীপ। তিনি বলেন, ‘অপহরণের কোনও জোরালো প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। আমরা তল্লাশি চালাচ্ছি। পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক সমাজের কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে। জানি না, রাকেশ এখন ঠিক কোথায় কী অবস্থায় রয়েছেন। তবু লড়াই জারি রয়েছে। আর সেটা আগামী দিনেও চলবে।’

কোনও গোপন সূত্রের ইঙ্গিত কি মিলেছে? জল্পনায় জল ঢেলেছেন কুলদীপ। তিনি বলেন, ‘জানি না, মাওবাদীরা ঠিক কী ভাবছে। রাকেশকে এগিয়ে দিয়ে কোনও মুক্তিপণের দাবি জানাবে কিনা, সেটাও স্পষ্ট নয়। যখন যেমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, আমরা সেইমতো অপারেশন চালাব।’ সাফ জানিয়েছেন সিআরপিএফ-প্রধান।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More