বিরুদ্ধে খবর করায় সাংবাদিককে সপাটে চড় মারার অভিযোগ ময়নাগুড়ির তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: সাংবাদিককে সপাটে চড় মারার অভিযোগ উঠল ময়নাগুড়ির তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে। ঘটনায় নিন্দার ঝড় ময়নাগুড়িতে। বিধায়ক অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

প্রায় একমাস যাবত পিকের টিমের বিরুদ্ধে ক্রমাগত বিষোদগার করে যাচ্ছিলেন ময়নাগুড়ির তৃণমুল বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী। গতকাল ময়নাগুড়ি জল্পেশ মন্দিরে শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির এক অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। সেই খবর করে বাংলার একটি প্রথম সারির দৈনিক।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে ময়নাগুড়ি ফুটবল ময়দানে ওপেন জিমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী। মাঠের পাশে কয়েকজনের সঙ্গে বসেছিলেন তিনি। সেখানেই ওই সাংবাদিককে ডেকে আনেন তিনি। কেন তাঁর বিরুদ্ধে খবর করা হয়েছে তার কৈফিয়ত চান। শুরু হয় কথা কাটাকাটি। এরপর মেজাজ হারিয়ে ফেলে ওই সাংবাদিককে বিধায়ক সপাটে চড় মারেন বলে অভিযোগ।

ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েন উপস্থিত তৃণমূল নেতারা। নিন্দার ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে। কলেজে ছাত্র পরিষদের সদস্য হয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি তাঁর। এরপর ৭১ সালে ছাত্র পরিষদের ময়নাগুড়ি ব্লকের সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। ভাল সংগঠক হিসেবে কংগ্রেস নেতৃত্বের নজরে পড়ায় সেই বছর সল্টলেকে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্মেলনে জলপাইগুড়ি জেলা থেকে প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭৮ সালে কংগ্রেস থেকে তাঁকে গ্রামপঞ্চায়েতের সদস্য হিসেবে দাঁড় করাতে চাইলে তিনি চান পঞ্চায়েত সমিতিতে দাঁড়াতে। শুরু হয় মনোমালিন্য। তিনি দলত্যাগ করে আরএসপি দলের টিকিটে ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হন। এরপর তিনি শিক্ষক হিসেবে স্কুলে যোগ দেন। এরপর ২০১১ সালে আরএসপির টিকিটে ময়নাগুড়ি বিধানসভায় দাঁড়িয়ে জেতেন। ২০১৪ সালে রাজ্যসভা ভোটের সময় ময়নাগুড়ি উন্নয়নের স্বার্থে আরএসপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। উপনির্বাচনে ৩২০০০ ভোটে জেতেন। ফের ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের টিকিটে দাড়িয়ে ৩৪০০০ ভোটে জেতেন।

সাংবাদিককে মারার তীব্র নিন্দা করে ময়নাগুড়ির আদি তৃণমুল নেতা শশাঙ্ক বাসুনিয়া বলেন, ‘‘এই ধরনের ঘটনা কখনই কাম্য নয়। আমি এই ধরনের ঘটনার নিন্দা করছি। এই ঘটনা রাজ্য জুড়ে আমাদের দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে।’’

ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তৃণমুল নেতা মিতু চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এই ধরনের ঘটনা একেবারেই অনভিপ্রেত। জেলা নেতৃত্ব নিশ্চয়ই বিষয়টি নিয়ে বসবে। সেখানে আমাকে ডাকলে আমি নিশ্চয়ই যা বলার বলব।’’

প্রথম সারির দৈনিকের ওই সাংবাদিক বলেন, ‘‘উনি গতকাল জেলাপরিষদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সভামঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখার পর সভামঞ্চ ত্যাগ করেন সভাধিপতি। আমি সেই খবর করি। আজ সেই খবর প্রকাশিত হয়েছে। এরপর আজ ফুটবল ময়দানে আমাকে ডেকে উনি হুমকি দেন। এরপর চড় মারেন। আমি থানায় এসে মৌখিক অভিযোগ করে গেলাম।’’

তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এই সাংবাদিক ক্রমাগত লিখে যাচ্ছে। গতকাল আমার ভাষাকে বিকৃত করে লিখেছে। যেই ভাষা দেখলে যে কোনো মানুষের রাগ উঠবে।’’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More