বিশ্বভারতীর সমাবর্তনে দেশের অখণ্ডতা রক্ষা, শিক্ষার জগতে বাংলাকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বললেন মোদী

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার বিশ্বভারতীর আম্রকুঞ্জে সমাবর্তনে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তথা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য নরেন্দ্র মোদী। করোনা আবহে সেই সমাবর্তনে ছাত্রছাত্রীরা ছিলেন না। কেবল শিক্ষক ও অধ্যাপকরা উপস্থিত ছিলেন। মোদী ভারচুয়ালি ভাষণ দেন। তিনি প্রথমেই বলেন, এই অনুষ্ঠানে আসতে পারলে আনন্দিত হতেন। কিন্তু এখন নানা নিয়মের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। পুরো ভাষণে বার বার রবীন্দ্রনাথের কবিতা উদ্ধৃতি দিলেন মোদী। জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে বাংলার অগ্রণী ভূমিকা, গত বাজেটে শিক্ষায় ব্যয়বরাদ্দ, মেয়েদের শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করলেন।

মোদীর কথায়, “বিশ্বভারতীর মাটি পবিত্র। এই মাটিকে প্রণাম করি।” তিনি স্মরণ করিয়ে দিলেন, এদিন শিবাজি মহারাজের জন্মদিবস। রবীন্দ্রনাথও শিবাজি উৎসব উপলক্ষে কবিতা লিখেছিলেন। এক শতাব্দী আগে, দেশের সেই ছিন্নভিন্ন অবস্থায় শিবাজি ছিলেন ঐক্যের প্রেরণা। এই ভাবনাকে আমাদের কখনও ভোলা উচিত নয়। গুরুদেব চেয়েছিলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় একদিন সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরবে ভারতের মর্মকথা। মোদীর কথায়, “বিশ্বভারতী ছিল গুরুদেব টেগোরের এক প্রয়াস। ভারতবাসীকে গুরুদেবের উপহার বিশ্বভারতী।”

প্রাচীন ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার প্রশংসা করেন মোদী। তিনি বলেন, গান্ধীবাদী নেতা ধর্মপাল আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে টমাস মুনরোকে নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন। তাতে আছে, প্রাচীন ভারতে মন্দির কেবল ধর্মাচরণের স্থান ছিল না। সেখানে গুরু শিক্ষা দিতেন। রাজারা মহাবিদ্যালয় নির্মাণ করতেন। ২০০ বছর আগে ভারতে শিক্ষিতের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। ইংরেজ আমলে শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি হয়েছে। গুরুদেব শিক্ষাকে পরাধীনতা থেকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন।

অন্য প্রসঙ্গে বিশ্বভারতীর আচার্য বলেন, জ্ঞানের সীমা নেই। জ্ঞান স্থির নয়, চলমান প্রক্রিয়া। জ্ঞান ও ক্ষমতা আসে দায়িত্ববোধ থেকে। যারা হিংসা ছড়াচ্ছে তাদের মধ্যেও স্কিলড লোক থাকে। ক্ষমতায় থাকলে সংযমী হওয়া জরুরি। আমাদের নিজেদের দিকে তাকানোর সময় এসেছে। আপনার চিন্তাধারা সমাজকে গৌরবান্বিত করতে পারে। অথবা তা সমাজকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করতে পারে। শুধু স্বার্থ দেখলে আপনি চারপাশে সমস্যাই দেখবেন। সদর্থক চিন্তাধারায় সব সমস্যার সমাধান হয়।

গত বাজেট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে গবেষণার জন্য আগামী পাঁচ বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে শক্তিশালী করবে। তাতে মহিলাদের অনেক নতুন বিষয়ে শিক্ষালাভের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যুবকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে মোদী বলেন, তাঁদের সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাঁরা যাতে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সরকার তার সুযোগ করে দেবে।

শেষে তিনি বলেন, ভারতের শিক্ষাজগতে একসময় বাংলার নেতৃত্ব ছিল। আধুনিক শিক্ষার ক্ষেত্রে দেশ এখনও তাকিয়ে আছে বাংলার দিকে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More