মোদীজি ভাষণবাজি ছাড়ুন, যাদের দরকার তাদের ভ্যাকসিন দিন, তোপ রাহুলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ৬৮ হাজারের বেশি। এই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী টুইট করে বললেন, “মোদীজি, ইভেন্টের আয়োজন করা ছাড়ুন। তার বদলে সকলকে ভ্যাকসিন দেওয়ার উদ্যোগ নিন।” একইসঙ্গে রাহুল দাবি করেন, অতিমহামারীর ফলে যাঁরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন, সরকার তাঁদের অর্থ সাহায্য করুক।

টুইটারে ভিডিও বার্তা পোস্ট করে রাহুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, ১৮ দিনের মধ্যে করোনা জয় করবেন। প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি মোদীর উদ্দেশে বলেন, “আপনি ঘণ্টা বাজাতে বলেছেন, থালি বাজাতে বলেছেন, মোবাইল ফোনের টর্চ জ্বালাতে বলেছেন। করোনা কিন্তু বেড়েই চলেছে।” পরে রাহুল বলেন, “এখন ইভেন্টবাজি শেষ করুন। যাঁদের প্রয়োজন, তাঁদের সকলকে ভ্যাকসিন দিন। বিদেশে ভ্যাকসিন পাঠানো বন্ধ করুন। গরিবদের আর্থিক সাহায্য দিন।”

ভারতে মোট কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১ কোটি ৩৫ লক্ষ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছেন ৯০৪ জন। অতিমহামারী শুরু হওয়ার পরে এই নিয়ে মোট মৃত্যু হল ১ লক্ষ ৭০ হাজার ১৭৯ জনের। অতিমহামারীতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মহারাষ্ট্র। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৩ হাজার ২৯৪ জন। মারা গিয়েছেন ৩৪৯ জন। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, চলতি সপ্তাহেই মহারাষ্ট্রে পুরোপুরি লকডাউন জারি হতে পারে।

রবিবারই মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। কোভিড ১৯ টাস্ক ফোর্সের সেই বৈঠকে ছিলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও, যাঁদের বেশিরভাগেরই মত, অন্তত ১৪ দিন রাজ্যে পূর্ণ লকডাউন চালু থাকা উচিত। বিধিনিষেধের গাইডলাইন নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপী বলেন, লকডাউনের মেয়াদ, অর্থনীতিতে তার সম্ভাব্য ফলের মোকাবিলা কীভাবে করা হবে, সে ব্যাপারে বৈঠকে আলোচনা হয়। টাস্ক ফোর্সের অভিমত, রাজ্যে চলতি করোনা পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগের যে লকডাউনের দরকার আছে। রাজ্যে অক্সিজেন উত্পাদনের প্ল্যান্ট খোলা নিয়েও কথা হয়েছে বৈঠকে।

কিছুদিন আগে মোদী বলেছিলেন, ১১ থেকে ১৪ এপ্রিল টিকা উৎসব পালন করুন। দেশে টিকাকরণ বাড়ানোই ছিল তাঁর লক্ষ্য। যদিও মহারাষ্ট্র সহ অনেক রাজ্যই জানিয়েছে, তাদের স্টকে যথেষ্ট সংখ্যক ভ্যাকসিনের ডোজ নেই। মহারাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন সেন্টার বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার স্থির করেছে, যাঁদের বয়স ৪৫-এর বেশি, তাঁদের টিকা দেওয়া হবে। কিন্তু অনেকেই দাবি তুলেছেন, সব বয়সের নাগরিকদের টিকা দেওয়া হোক।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More