দিদির উস্কানিতেই মাথাভাঙার ঘটনা: শিলিগুড়িতে মোদীর বক্তৃতার হাইলাইটস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চতুর্থ দফার ভোট যখন চলছে তখন শিলিগুড়িতে জনসভা করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সভায় মোদীর বক্তৃতার হাইলাইটস—

আপনারা জানেন আমি চা ওয়ালা। গোটা উত্তরবঙ্গ আমাদের আশীর্বাদ দিয়েছেন।

বাংলায় বিজেপির জয় হতে চলেছে। তিন দফায় ‘বাম্পার জয়’ হচ্ছে বিজেপির।

কোচবিহারে যে ঘটনা ঘটেছে, তা দুর্ভাগ্যজনক। আমি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। গোটাটা করেছে দিদির গুন্ডাবাহিনী। আমি কমিশনকে অনুরোধ করব, দোষীদের শাস্তি দিন।

সুরক্ষাবলের উপর হামলা করার উস্কানির কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। দিদি, এই হিংসা আপনাকে রক্ষা করতে পারবে না।

আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম, বাংলার পর্যটন মন্ত্রী, এখানকার বিদায়ী বিধায়ক মানুষকে ধমকাচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, বিজেপিকে ভোট দিলে উৎখাত করবে।

এই ভাষা, হুমকি আপনারা পছন্দ করেন? আমি প্রধানমন্ত্রী হয়ে কি দেশের কাউকে বলতে পারি যে, তোমাকে উপড়ে বাইরে ফেলে দেব? এই অধিকার আমার আছে? গণতন্ত্র মানে আইনের শাসন। আর দিদির মন্ত্রী ক্যামেরার সামনে হুমকি দিচ্ছেন। এটাই দিদির ১০ বছরের শাসনের নমুনা।

আজ বাংলার মানুষ বিজেপিকে ভোট দিচ্ছে। আর তৃণমূলের লোক তাঁদের বাংলার বাইরে ছুড়ে ফেলে দেবে? এত হিম্মত?
দিদি… ও দিদি… শুনে রাখুন। বাংলার মানুষ এখানেই থাকবেন। যেতে হলে আপনাকে সরকার থেকে যেতে হবে।
আরে দিদি… বাংলার মানুষ আপনার জমিদারি নয়। আপনাকে যেতেই হবে।

দিদি… ও দিদি… মনে রাখবেন আপনি একা যাবেন না। আপনারা সঙ্গে সঙ্গে তোলাবাজ যাবে, সিন্ডিকেট যাবে। আপনার সঙ্গে যাবে উত্তরবঙ্গে বিভেদসৃষ্টিকারী শক্তি, তুষ্টিকরণের রাজনীতি। বাংলার মানুষ তুষ্টিকরণ আর ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি শেষ করবে।

বাংলার মানুষের মধ্যে নেতিবাচক মানিসিকতার সঞ্চার করেছেন দিদি। বিজেপির সরকার এসে গোর্খা, রাভা, সমস্ত জনজাতিকে রক্ষা করবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও দেখলাম। দিদির এক নেতা বলছেন, তফসিলী জাতিভুক্ত মানুষরা ভিখারি। দিদি… এত অহঙ্কার?

দিদিকে ঈশ্বর বাংলার মানুষের সেবা করার সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু দিদি বাংলাকে বরবাদ করে ছেড়েছেন।

দিদি তোলাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলেন না। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী যখন বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ সুনিশ্চিত করছে, তখন সেই নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে চিৎকার করছেন।

আসলে পঞ্চায়েত ভোটে যেমন ছাপ্পা হয়েছিল, তা এবার হচ্ছে না। তাই দিদি এত রেগে যাচ্ছেন।

যেখানে দিদি মিটিং করতে যাচ্ছেন, মোদীকে গালি দিচ্ছেন। ১০ বছরের হিসেব দিচ্ছেন না। ভাইপোর কাটমানির জবাব দিচ্ছেন না। একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্য সভা থেকে ট্রেনিং দিচ্ছেন, কীভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করতে হবে। কীভাবে পেটাতে হবে।

আরে দিদি… আমাদের বীর জওয়ানরা সন্ত্রাসবাদীদের ভয় পায় না, নকশালদের ডরায় না। আপনি তো কোন ছাড়!

দিদি চা বাগানের জন্য কী করেছেন? সিঙ্কোনা বাগানের জন্য কী করেছেন? শুধু অভাব দিয়েছেন উত্তরবঙ্গের মানুষকে।
লকডাউনের সময়ে যে ‘চাওল’ পাঠিয়েছিলাম, তাতেও তৃণমূল থাবা বসিয়েছে।

আদিবাসী, তফসিলী, জনজাতি—কাউকে দিদি শোষণ থেকে বাদ দেননি। দিদি ঘরে জল পৌঁছে দেননি, চাষের জমিতে সেচের জল পৌঁছে দেননি।

বিজেপি সরকার এলে কাটমানি ছাড়া রাজ্যের সমস্ত মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

কয়েকদিন আগে এক চা বাগানের বোনের কথা শুনছিলাম। শৌচালয় নেই, জল নেই, শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নেই।

আমি উত্তরবাংলার মানুষকে আশ্বস্ত করছি, বিজেপির সরকার আপনাদের বিকাশে দিন-রাত এক করে কাজ করবে।

অসমের বিজেপি সরকার চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য বাসস্থান, পর্চা, পাট্টা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য দিয়েছে। বাংলাতেও তাই হবে।
সিঙ্কোনা চাষিদেরও মানোন্নয়ন ঘটবে। মজুরি দ্বিগুণ হবে।

বিজেপির সরকার এসেই প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মাননিধির বকেয়া টাকা দেবে।

উত্তরবঙ্গে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর আমূল বদল হবে।

পর্যটনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেবে সরকার। টয় ট্রেনকে পৌঁছে দেওয়া হবে বিশ্ব দরবারে।

ট্রিপল টি-কে মাফিয়াদের থেকে রক্ষা করব–ট্যুরিজম (পর্যটন), টিম্বার (কাঠ), টি (চা)।

আপনারা ভয় পাবেন না। আমরা আপনাদের সাথে আছি। সাথে থাকব। নতুন বছরে নতুন বাংলার উদয় হবে।

নতুন প্রজন্ম, নতুন ভোটার, নতুন বাংলাকে উজ্জ্বলিত করবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More