মাথায় লাল-নীল পাগড়ি জড়িয়ে ট্যাক্টর চালালেন রাহুল, স্লোগান দিলেন, ‘মোদীজি চলতে হ্যায়…’

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার কংগ্রেস শাসিত রাজস্থানের আজমিরে কৃষকদের সমাবেশে ভাষণ দেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তার আগে তিনি মাথায় লাল-নীল পাগড়ি জড়িয়ে ট্র্যাক্টর চালান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট এবং রাজস্থানের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসারা।

রাহুল ভাষণে বলেন, “সবসে বড়া বিজনেস কৃষি কা হ্যায়… ৪০ লাখ ক্রোর কা বিজনেস হ্যায় আউর ৪০ পারসেন্ট পপুলেশন ইসপে নির্ভর করতে হ্যায়।” অর্থাৎ, দেশের মধ্যে কৃষির চেয়ে বড় ব্যবসা কিছু নেই। এই ব্যবসার পরিমাণ ৪০ লক্ষ কোটি টাকা। দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ এই ব্যবসার ওপরে নির্ভরশীল।

এর পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করে রাহুল বলেন, “মোদীজি চলতে হ্যায় ইয়ে দো মিত্রোঁ কে হাওয়ালে কো…”। অর্থাৎ মোদীজি কৃষিকে তাঁর দুই বন্ধুর হাতে সমর্পণ করতে চান।

গত শুক্রবার রাজস্থানের হনুমানগড় ও গঙ্গানগরে কৃষক সমাবেশে ভাষণ দেন রাহুল। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চিনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারেন না। কিন্তু কৃষকদের হুমকি দিতে পারেন। শনিবার রাহুল কৃষক সমাবেশ করেন কিষাণগড় ও রূপনগরে।

এদিন সংসদে রাহুলের কড়া সমালোচনা করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তিনি রাহুলকে ‘ডুমস ডে ম্যান’ বলে কটাক্ষ করেন। ২০০০ সালে মুক্তি পেয়েছিল হলিউডি চলচ্চিত্র ‘ডুমস ডে ম্যান’। তাতে দেখানো হয়েছিল, এক চিকিৎসক সারা পৃথিবীকে ভয় দেখাচ্ছেন, তিনি মারাত্মক ভাইরাস ছড়িয়ে মানবজাতিকে শেষ করে দেবেন। নির্মলার দাবি, গণতন্ত্রের ওপরে কংগ্রেসের আর ভরসা নেই। রাহুল গান্ধী সম্ভবত ভারতের ‘ডুমস ডে ম্যান’ হয়ে উঠছেন।

কংগ্রেস কেন্দ্রীয় বাজেটের সমালোচনা করে বলেছিল, তাতে কেবল সরকারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শিল্পপতির সুবিধা হবে। এদিন লোকসভায় সেই অভিযোগেরও জবাব দেন নির্মলা।

তিনি বলেন, “কারা আমাদের ঘনিষ্ঠ? দেশের সাধারণ মানুষ আমাদের ঘনিষ্ঠ।” পরে তিনি বলেন, “ঘনিষ্ঠরা কোথায়? তারা সম্ভবত সেই দলের ছত্রছায়ায় লুকিয়েছে, যাদের পরিত্যাগ করেছে সাধারণ মানুষ। ঘনিষ্ঠদের একটি বন্দরের উন্নয়ন করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমি আবার বলছি, আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কোনও টেন্ডার ডাকা হয়নি।”

অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করার জন্য কংগ্রেস নিজের অবস্থান বদলে ফেলেছে। তাঁর কথায়, “আমি জানতে চাই, কংগ্রেস কেন কৃষি আইন নিয়ে ইউ টার্ন নিয়েছে? কিন্তু কেউ আমার প্রশ্নের জবাব দেয়নি।”

পরে নির্মলা বলেন, “প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি একটা প্রশ্নের জবাব দেননি। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিসগড়ে তাঁদের সরকার কৃষি ঋণ মকুব করেনি কেন? তাঁদের নির্বাচনী ইস্তেহারে তো সেরকমই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More