গাছের ডালে বসে দিব্যি ভিডিও গেম খেলছে বাঁদর! এলন মাস্কের কীর্তিতে তাজ্জব নেট দুনিয়া

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকালকার ডিজিটাল যুগে সময় কাটানোর জন্য ভিডিও গেমের বিকল্প খুব কমই আছে। ছোটো বড় সকলকেই কমবেশি এতে আসক্ত হতে দেখা যায়। কিন্তু মানুষের হাতে ভিডিও গেমের রিমোট তো পরিচিত, তাই বলে বাঁদর? সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে দেখা গেল সেই ছবিও।

গাছের ডালে বসে জমিয়ে ভিডিও গেম খেলছে আস্ত একটা বাঁদর, এদিন এমনই এক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে। জয়স্টিকের হাতল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে রীতিমতো সে নিয়ন্ত্রণ করছে পর্দার ছোট্ট বলটিকে। আনাড়ি খেলোয়াড় নয়, বাঁদরের আদব কায়দা দেখে গেম দুনিয়ায় তাকে বেশ পাকাপোক্ত বলেই মনে হয়। কিন্তু মানুষের পূর্বপুরুষের বুদ্ধিতে এমন তীক্ষ্ণতা এল কবে থেকে? ইতিহাস কি তবে উল্টে গেল? ভিডিও দেখে তেমন খটকা লাগতে বাধ্য।

কিন্তু ইতিহাস নয়, বাঁদরের ভিডিও গেম আসলে বিজ্ঞানেরই কারসাজি। আর এমন ভিডিওর পিছনে মূল কাণ্ডারি আর কেউ নন, স্বয়ং এলন মাস্ক। টেলসা মোটরসের কর্ণধার মাস্ক এই মুহূর্তে বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তির তালিকায় রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। তাঁর কোম্পানিই সম্প্রতি বানিয়ে ফেলেছে অত্যাধুনিক এক নিউরালিঙ্ক মেশিন। আর তারই সাহায্যে এদিন ভিডিও গেম খেলে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সাধারণ এক বাঁদর।

জানা গেছে, ভিডিওতে দৃশ্যমান বাঁদরটির নাম পেজার। তাঁর মাথায় লাগানো হয়েছে এক বিশেষ ব্রেন চিপ। এর ফলে পেজারের বুদ্ধি আর পাঁচটা সাধারণ বাঁদরের চেয়ে অনেকটা বেড়ে গেছে। ভিডিও গেম কীভাবে খেলতে হয় তাকে তা শেখাতেই হয়নি। নিজে নিজে ভেবে নিয়েই গেম খেলেছে পেজার।

ট্যুইটারে এই বিশেষ ব্রেন চিপের কার্যকারিতা জানান এলন মাস্ক। মূলত প্যারালাইসিস রোগীদের কথা ভেবেই এই নতুন চিপ বানিয়েছে তাঁর কোম্পানি। মাস্ক বলেছেন, “এই নিউরালিঙ্কের প্রথম প্রোডাক্টটি প্যারালাইসিস রোগীকেও স্মার্টফোন ব্যবহার করতে সাহায্য করবে। এতে তাঁদের ব্রেন তুলনামূলক ভাবে অনেক দ্রুত কাজ করবে।” এমনকি সুস্থ মানুষ যাঁরা হাতের আঙুল দিয়ে ফোন ব্যবহার করেন, ব্রেন চিপের মাধ্যমে প্যারালাইসিস রোগীর কাজের গতি হবে তার থেকেও দ্রুত, জানান এলন মাস্ক।

অভিনব এই আবিষ্কারের ফলে আমেরিকাবাসী এই ব্যবসায়ীকে কুর্নিশ জানিয়েছেন অনেকেই। তবে ভাইরাল ভিডিওটি দেখে বেজায় চটেছেন পশুপ্রেমী নেট নাগরিকরা। অবলা বাঁদরকে কাজে লাগানোর ঘোর বিরোধিতা করে কেউ কেউ বলেছেন, “এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। এই ধরণের রিসার্চ নিষিদ্ধ করা উচিত।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More