নগেন্দ্রর মা কোভিডে মৃত, গোরখপুরে শেষকৃত্য সেরেই ভোটের দায়িত্বে ফিরবেন কর্তব্যে অবিচল ছেলে

রফিকুল জামাদার

নন্দীগ্রামের বয়ালের বুথের সেই দৃশ্য মনে পড়ে! ‘উর্দিতে দাগ নেব না ম্যাডাম’। খাকি উর্দির বাঁ দিকের কলার ধরে নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখে চোখ রেখে বলছেন তরুণ আইপিএস অফিসার।

সেই তিনি নগেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠির মায়ের মৃত্যু হল কোভিডে। নগেন্দ্রর বাড়ি উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে। কোভিডে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তাঁর মা। বুধবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

তা হলে ভোটের দায়িত্বের কী হবে? নন্দীগ্রামে নগেন্দ্রর কাজের নিষ্ঠা ও কর্তব্যপরায়ণতা দেখে নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট। তাই এ বার তাঁকে পাঠানো হয়েছে বীরভূমের পুলিশ সুপার করে। শেষ দফায় ভোট হবে বীরভূমে। যেখানে বিগত ভোটগুলিতে তৃণমূল জেলা সভাপতি কখনও ভোটের দিন গুড় বাতাসা দেওয়ার কথা বলেছেন, কখনও চড়াম চড়াম ঢাক বাজানোর কথা বলেছেন বা বিরোধীদের পাচনের বারি দেওয়ার কথা বলেছেন। পঞ্চায়েত ভোটের সময় আবার উন্নয়ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকায় বিরোধীরা কার্যত কোনও আসনেই প্রার্থী দিতে পারেননি।

ফলে নগেন্দ্র ত্রিপাঠিকে কমিশন বীরভূমের দায়িত্বে পাঠাতেই বিরোধীরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন। এদিন গোরখপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে দ্য ওয়ালকে নগেন্দ্র বলেন, “আমি আজ গোরখপুরে যাচ্ছি। কাল শেষকৃত্য সেরে পরশুই ফিরে আসব। ডিউটি তো করতেই হবে। ওতে কোনও ফাঁক থাকবে না।”

নগেন্দ্র জানিয়েছেন, “মায়ের বয়স খুব বেশি হয়নি। ৭০ ছুঁয়েছেন সবে। অন্য কোনও অসুবিধা শরীরে ছিল না। কোভিড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আজ ছেড়ে চলে গেলেন”। ফোন এ কথা বলতে বলতেই ভারী গলা বুজে আসে। বলেন, “মায়ের ইচ্ছে ছিল দ্বারকা ও সোমনাথ মন্দির দেখার। গত বছরই মাকে সেই সব ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন। ইচ্ছা ছিল আরও দেশ দেখানোর। তা আর হল না”।

ষোলো সালের নির্বাচনে কর্তব্যে নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার কারণে বিভিন্ন মহলের প্রশংসা পেয়েছিলেন তৎকালীন কলকাতা পুলিশের কমিশনার সৌমেন মিত্র। এ বার নগেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠির নাম আম বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছেছে। রাজ্য রাজনীতিতে যখন বার বার পুলিশের রাজনীতিকরণের অভিযোগ উঠছে, যখন এক শ্রেণির পুলিশ বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাত ও দুর্নীতির অভিযোগে সরব বিরোধীরা তখন তরুণ এই আইপিএস অফিসার সকলের নজর কেড়েছেন। বীরভূমে অবাধ শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে তিনি সফল হবেন বলে প্রত্যাশাও তাই বাড়ছে। সাধারণ মানুষের বুথে যাওয়ার পথে ‘উন্নয়ন’ যাতে আর বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে তা নিশ্চিত করার গুরু দায়িত্ব এখন তাঁরই হাতে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More