কোভিড-১৯ বিরোধী লড়াইয়ে বিনামূল্যে নিজের শোধনাগার থেকে অক্সিজেন পাঠাচ্ছেন মুকেশ অম্বানি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস সংক্রমণ লাল চোখ দেখাচ্ছে গোটা ভারতকেই। প্রতিদিনই নতুন সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়ছে।  মহারাষ্ট্রের অবস্থা বিশেষ করে উদ্বেগজনক, কেননা দেশের অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বইকেই প্রায় বিপর্যস্ত করে তুলেছে কোভিড-১৯ সংক্রমণ, যা রুখতে বাকি এপ্রিল মাসটা কার্ফু বহাল থাকবে গোটা রাজ্যে। কার্ফু বহাল থাকার অর্থ ব্যবসায়িক লেনদেন মার খাওয়া। রেকর্ড সংক্রমণের ধাক্কায় রাজ্যের স্বাস্থ্য, চিকিত্সা পরিকাঠামোর ওপরও চাপ পড়ছে। এই অবস্থায়  মারণ ভাইরাস মোকাবিলায় এগিয়ে এলেন মুকেশ অম্বানি। দেশের প্রথম সারির শিল্পপতি করোনা মোকাবিলায় দেশকে সাহায্য করতে নিজের শোধনাগারে তৈরি অক্সিজেন সরবরাহ শুরু করলেন। মুকেশের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড মহারাষ্ট্রে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রিফাইনিং কমপ্লেক্স চালায়। তারা নিখরচায় গুজরাতের জামনগর থেকে মহারাষ্ট্রে অক্সিজেন সরবরাহ করছে বলে জানিয়েছেন পরিচয় প্রকাশে নারাজ কোম্পানির এক পদস্থ কর্তা। রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী একনাথ শিন্ডে ট্যুইট করেছেন, রিলায়েন্স থেকে ১০০ টন গ্যাস পাবে মহারাষ্ট্র। ঘটনাচক্রে মুকেশ থাকেন মুম্বইয়ে। সেখানে তাঁর কোম্পানির সদর অফিসও।

 

ভারতে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। কী করে তা সামাল দেবে, বুঝে উঠতে পারছে না কেন্দ্র, রাজ্যগুলি। সংক্রমণ গত বছরের শেষে কিছুটা কমলে আবার কোনও সময় বাড়তে পারে, এটা মাথায় রেখে সম্ভবতঃ আগাম প্রস্তুতি নেয়নি কেউ। যদিও কেন্দ্রের তরফে দাবি করা  হচ্ছে, ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ পুরোদমে চলছে পরিস্থিতি মোকাবিলায়। তবে ভ্যাকসিনের ঘাটতির অভিযোগও তুলছে একের পর এক  রাজ্য। একাধিক রাজ্যেই অক্সিজেনের অভাবে, হাসপাতালে পর্যাপ্ত বেড না থাকায় করোনা রোগীরা মারা যাচ্ছেন বলে স্থানীয় মিডিয়ার দাবি।

রিলায়েন্সের ওই কর্তা জানিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের পেট্রলিয়াম কোক গ্যাসিফিকেশনের জন্য বরাদ্দ কিছুটা অক্সিজেন মেডিকেল বা চিকিত্সায় ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার পর সরবরাহ করছেন। যদিও  এনিয়ে কোম্পানির মুখপাত্র কোনও প্রতিক্রিয়া  দেননি।

এদিকে সরকারি সংস্থা ভারত পেট্রলিয়াম কর্পোরেশনও তাদের কেরলের কোচির শোধনাগারে ২০ টন অক্সিজেন মজুত করেছে, যা তারা চিকিত্সার কাজে ব্যবহারের জন্য বটলারদের সরবরাহ করছে বলে খবর।

শোধনাগারগুলি সীমিত পরিমাণে শিল্পের কাজে ব্যবহৃত অক্সিজেন তৈরি করতে পারে এয়ার সেপারেশন প্ল্যান্টে। ওই প্ল্যান্ট নাইট্রোজেন উত্পাদনের জন্য।  চিকিত্সার কাজে লাগা অক্সিজেন কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো অন্য গ্যাস নিষ্কাশন করে বের করা হয়, যাতে তা ৯৯.৯ শতাংশ নির্ভেজাল, খাঁটি হয়।

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More