মাথা কামাবেন সৌমিত্র, শমীক বললেন ‘যায় আসে না’, মুকুল ঝরার পর কী প্রতিক্রিয়া বিজেপির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুল বদলালেন মুকুল রায়। আবার।

শুক্রবারের বৃষ্টিভেজা বিকেলে তৃণমূল ভবনে বসে আনুষ্ঠানিকভাবে জোড়াফুলে যোগ দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায়। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলে শুভ্রাংশুও। বাংলায় একুশের ভোটে বিপর্যয়ের পর সম্ভবত এটাই গেরুয়া দলের সবচেয়ে বড় ভাঙন।

এমন বিপর্যয়ের পর কী বলছেন বাংলা বিজেপি নেতৃত্ব? কেউ এড়িয়ে যাচ্ছেন, কেউ আবার প্রকাশ্যেই তুলোধুনো করছেন ‘গদ্দার’দের।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে মুকুল রায়ের তেমন ‘হৃদ্যতা’ দেখা যায়নি কখনওই। ফুল বদলের এই ঘটনায় মোটামুটি নির্বিকারই থাকতে চেয়েছেন দিলীপ বাবু। মুকুল রায় যখন তৃণমূল ভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে, তখন দিলীপ ঘোষকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কী করব? আমাদের এখন অনেক কাজ, দলের কর্মীরা ঘরছাড়া। কে এল কে গেল তা নিয়ে আমি ভাবতে চাই না।’

রাজ্য সভাপতি নির্বিকার থাকলেও চুপ করে থাকেননি বাকিরা। কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপির যুব সভাপতি সৌমিত্র খাঁ। একসময় মুকুল রায়কে চাণক্য, দ্রোণাচার্যের সমান মনে করতেন তিনি। দিল্লি থেকে এদিন তাঁর পোস্ট, ‘যে পাপ করেছি আগামীকালই যমুনা তীরে গিয়ে মস্তক মুণ্ডন করে তা খণ্ডন করব।’

ভোটের আগে বালির তৃণমূল বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া যোগ দিয়েছিলেন গেরুয়া শিবিরে। মুকুলের প্রত্যাবর্তনে এদিন একেবারে বিরোধী দলনেতার দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘আমি শ্রদ্ধেয় বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীকে অনুরোধ করব, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের দল থেকে আবর্জনা সাফ করুন।’

প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যও। তবে বিশেষ বিতর্কে যেতে চাননি তিনি। মুকুল প্রসঙ্গে শমীক বাবুর সাফ বক্তব্য, ‘যে যেখানে ভাল থাকবেন, যাবেন। বিজেপি একজনের দল নয়। কে এল বা গেল তাতে যায় আসে না।’

মুকুল রায়ের যোগদানের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তাঁকে ভয় দেখিয়ে বিজেপিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ কথায় একেবারে ফোঁস করে উঠেছেন গেরুয়া নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। বলেছেন, ‘বিজেপিতে সকলকে সম্মান দেওয়া হয়। মুকুলবাবু ভয় পেয়ে বিজেপিতে এসেছিলেন বললে, মুকুলবাবুকেই অপমান করা হবে।’ তবে নতুন ইনিংস শুরু করার জন্য মুকুল রায়কে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি।

মুকুল রায়ের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন রাজ্য বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল। এমন অবস্থায় নেতা কর্মীদের চাঙ্গা করতে টুইট করেছেন স্বপন দাশগুপ্ত। লিখেছেন, ‘নির্বাচনে হারের মূল্যায়ন করে আগামীর পথ ঠিক করবে বিজেপি।… দলের নতুন বা পুরনো কর্মীদের ভেঙে পড়ার বা ঘরে ঢুকে যাওয়ার কোনও কারণ নেই বাংলায় ২ কোটির বেশি ভোট পেয়েছে বিজেপি।’

সবমিলিয়ে পদ্ম বাগান থেকে মুকুল ঝরে পড়ার পর এখন সংগঠন সামাল দিতে ব্যস্ত রাজ্য বিজেপি।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More