মমতাদির সঙ্গে আজ দেখা করতে যাব, দ্য ওয়ালকে জানালেন মুকুল রায়

শঙ্খদীপ দাস

জল্পনার অবসান। আজ, শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন মুকুল রায়। ‘দ্য ওয়াল’কে এ কথা নিজেই জানিয়েছেন মুকুলবাবু। তবে কালীঘাট নাকি তৃণমূল ভবনে দিদির সঙ্গে দেখা হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি বলেই জানিয়েছেন মুকুলবাবু। জানা যাচ্ছে, মুকুল রায়ের সঙ্গে তাঁর ছেলে শুভ্রাংশও যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে।

মুকুল রায়কে এদিন প্রশ্ন করা হয়, এই সিদ্ধান্ত কেন নিলেন? জবাবে প্রবীণ নেতা বলেন, “বিজেপি পার্টি আমার ভাল লাগছে না। বিজেপি বড় পার্টি। কিন্তু আমার সেখানে ভাল লাগছে না। এর চেয়ে বড় কারণ আর কী হতে পারে।”

ঠিক কেন বিজেপি ভাল লাগছে না, কেনই বা বিজেপি ছাড়তে চলেছেন মুকুল রায়, তার কারণ এক-দুই করে তিনি নিজে ব্যাখ্যা করেননি ঠিকই। কিন্তু মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা-কর্মীরা স্পষ্টভাবেই এই সিদ্ধান্তের কার্য-কারণ জানেন। একথা অনস্বীকার্য, উনিশের লোকসভা ভোটে বাংলায় ১৮টি আসন বিজেপিকে জেতানোর অন্যতম কারিগর ছিলেন এই মুকুল রায়। অমিত শাহ প্রকাশ্যে এই কথা স্বীকারও করেছিলেন জনসভায়।

কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল, দু’বছর পরে যখন বাংলায় বিধানসভা ভোট হল, সেই মুকুল রায়কে তেমন ভাবে ব্যবহারই করল না বিজেপি। তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেন শিবপ্রকাশ, অরবিন্দ মেননরা। অথচ যে মুকুল রায় লোকসভা ভোটে বাংলায় বিজেপিকে ১৮টি আসন জেতানোর কারিগর, তিনি সল্টলেকের নিজের গেস্টহাউসে অনুগামীদের নিয়ে কার্যত বসে থাকলেন, কখন দিল্লি তাঁকে ডাকবে, ব্যবহার করবে। সেটা আর কখনওই হয়নি। বরং তাঁকে কলকাতার ওয়াররুম থেকে ঠেলে কৃষ্ণনগর উত্তরের প্রার্থী করে দেওয়া হয় বিধানসভা নির্বাচনে।

মুকুল রায়-ঘনিষ্ঠরা বলছেন, দাদা কেবল একটা বিধানসভার বিধায়ক হওয়ার জন্য বিজেপি-তে যোগ দেননি। তাঁর প্রত্যাশা ছিল, তৃণমূলে থাকাকালীন যে ভূমিকা ও দায়িত্ব তিনি পালন করতেন, সেটাই করবেন বিজেপিতে যোগ দিয়েও। বিজেপি অবশ্য অনেক দিন অপেক্ষা করিয়ে মুকুল রায়কে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির পদ দিয়েছিল। তবে সেই পদের মাহাত্ম্য কেবল আলঙ্কারিক। সে পদের কার্যকরী ভূমিকা ছিল না বিশেষ।

এই পরিস্থিতিতে, যে মানুষটি দিনে ২৪ ঘণ্টাই রাজনীতি করেন, তাঁর পক্ষে কেবল একটি আলঙ্কারিক পদ নিয়ে বসে থাকাটা প্রজ্ঞা ও মেধার অপচয় মাত্র। ফলে ভবিতব্য যা ছিল, তাই হয়েছে।

এছাড়াও চড়া দাগের হিন্দুত্বের রাজনীতি নিয়েও বরাবরই আপত্তি ছিল মুকুল রায়ের। সাম্প্রতিক বিধানসভা ভোটের সময়েও মুকুল রায় বলেছিলেন, এমন আড়াআড়ি ধর্মীয় বিভাজন করে পশ্চিমবঙ্গে ভোটে জেতা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু-মুসলমানের সহাবস্থান দরকার। মুসলমানদের সঙ্গে নিয়েই ভোট চাইতে হবে মানুষের কাছে। সেই দর্শন বিজেপি মানেনি।

ফলে সামগ্রিক এই অস্বস্তির কারণেই এবার দল ছাড়তে চলেছেন মুকুল রায়।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More