স্ত্রীর অভিযোগ, মধ্যপ্রদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনে আটক স্বামী

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশে এক মহিলা অভিযোগ করেছিলেন, স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য লোকজন তাঁর ওপরে অত্যাচার করছেন। তাঁকে উর্দু ও আরবি শিখতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এরপরে ওই ব্যক্তিকে মধ্যপ্রদেশের ধর্ম স্বতন্ত্রতা আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে জানা যায়, বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ‘লাভ জেহাদ’-এর বিরুদ্ধে আইন আনা হবে। দক্ষিণপন্থীদের বক্তব্য, মুসলিম পুরুষরা পরিকল্পনা করে হিন্দু রমণীদের বিবাহ করে। এর মাধ্যমে তাঁরা কৌশলে হিন্দু মহিলাদের ধর্মান্তর করতে চায়। যদিও গত ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, চলতি আইনে লাভ জেহাদ বলে কিছু নেই।

মধ্যপ্রদেশে যে মহিলা স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন, তিনি জন্মসূত্রে হিন্দু। ২০১৮ সালে তিনি বাড়ির অমতে ইরশাদ খান নামে এক ব্যক্তিকে বিবাহ করেন। শনিবার মহিলা বাবা-মায়ের কাছে ফিরে গিয়েছেন। পরে তিনি বলেন,   “ইরশাদ আমার ওপরে রোজ অত্যাচার করত। আমাকে উর্দু ও আরবি ভাষা শিখতে বলত। আমি শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে এসেছি। আর কখনও ফিরে যাব না। দু’বছর আগে ইরশাদকে বিয়ে করে ভুল করেছিলাম।” অন্যদিকে ভরত দুবে নামে এক উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার বলেন, ইরশাদ পাল্টা অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্ত্রীকে জোর করে বাপের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই মহিলা তাঁর বাবা-মা সঙ্গে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন, ইরশাদের কাছে তিনি আর ফিরে যাবেন না। কারণ ইরশাদ রোজ তাঁর ওপরে অত্যাচার করতেন। এর পরে ধর্ম স্বতন্ত্রতা আইনে ইরশাদকে গ্রেফতার করা হয়।

কিছুদিন আগে ভোপালে এক মহিলা মধ্যপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রের কাছে অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে বিবাহ করেছেন। স্বামী যে মুসলিম তিনি বিবাহের আগে জানতেন না। এখন শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর ওপরে অত্যাচার করছেন। তাঁকে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। ভোপালের পুলিশ প্রধান ইরশাদ ওয়ালি বলেন, “অভিযোগকারিণীর কথা শুনে পুলিশ ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারায় মামলা করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মগোপন করেছেন।”

মধ্যপ্রদেশে ‘ধর্ম স্বতন্ত্রতা বিল ২০২০’ নামে একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে বিবাহ করলে ১০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। যে ধর্মগুরু এই ধরনের বিবাহ দেবেন, তাঁর জেল হবে পাঁচ বছর। ভুয়ো পরিচয় দিয়ে বিয়ে করলেও শাস্তি হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More