কুয়ো থেকে উদ্ধার ৬ বাঙালি-সহ ৯ অভিবাসী শ্রমিকের দেহ! তেলেঙ্গানার পাটকলে কাজ করতেন তাঁরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হল ন’জন অভিবাসী শ্রমিকের! তেলেঙ্গানার ওয়ারাঙ্গলে কুয়ো থেকে উদ্ধার হল তাঁদের দেহ! কীভাবে তাঁরা কুয়োয় পড়লেন, পড়ে গেছেন নাকি আত্মহত্যা করেছেন, অন্য কোনও ষড়যন্ত্র আছে কিনা– তা এখনও স্পষ্ট হয়নি তদন্তে। গোটা এলাকায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে এত জনের দেহ উদ্ধারের ঘটনায়।

এই ৯ জন শ্রমিকের মধ্যে ৬ জন পশ্চিমবঙ্গের একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। এঁদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। অন্য ২ শ্রমিক বিহারের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। কারও দেহে কোনও আঘাতের ছাপ মেলেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, পাটকলে কাজ করার সূত্রে প্রায় বছর ২০ তাঁরা তেলেঙ্গানাতেই বসবাস করছিলেন। সাত জন বাঙালি বলে জানা গেলেও, তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলার বাসিন্দা তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। তাঁদের নাম মাকসুদ আলম, তাঁর স্ত্রী নিশা আলম। দুই ছেলে সোহেল ও শাবাদ। তাঁদের মেয়ে এবং তিন বছরের নাতির দেহও মিলেছে। আরও এক মৃত শ্রমিক ত্রিপুরার বাসিন্দা, নাম শাকিল আহমেদ। শ্রীরাম ও শ্যাম বিহারের বাসিন্দা।

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারই চার জনের দেহ উদ্ধার করা হয় ওয়ারাঙ্গলের গোরেকুন্তা গ্রামের একটি কুয়ো থেকে। শুক্রবার আরও পাঁচ জন শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়ারাঙ্গলের পুলিশ। জানা গেছে, ওয়ারাঙ্গলের ওই এলাকারই স্থানীয় একটি জুটমিলে কাজ করতেন এই শ্রমিকরা। লকডাউনের কারণে মার্চের শেষ থেকে বন্ধ ছিল কাজ। ফলে খাবার জোগাড় করাই সমস্যা হয়ে গেছিল তাঁদের। এর ফলে মানসিক অবসাদে ওই শ্রমিকরা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান পুলিশের।

তবে এখানেও একটা খটকা রয়েছে। কারণ স্থানীয় বাসিন্দারা অবশ্য জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগেও ওই শ্রমিকদের বাজারহাট করতে দেখা গেছিল। ফলে হাতে যে একেবারেই টাকা ছিল না, তা হয়তো নয়। সেদিক থেকে দেখলে এটি আত্মহত্যা না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে, এটি খুনের ঘটনা কিনা সে বিষয়ে জানতে তদন্ত শুরু করেছে তেলেঙ্গানা পুলিশ। দেহগুলি পাঠানো হয়েছে ময়না-তদন্তে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More