৬ মাস গ্রামের মহিলাদের জামাকাপড় কেচে, ইস্ত্রী করতে হবে! বিহারে শ্লীলতাহানি মামলায় জামিনের শর্ত

1

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের এক আদালত শ্লীলতাহানি মামলায় (molestation case) অভিযুক্ত এক যুবককে জামিন দিল  এই শর্তে  যে, নিখরচায় নিজের গ্রামের সব মহিলার জামাকাপড় (women clothes) ধুয়ে, কেচে (wash, iron) ইস্ত্রী করে প্রায়শ্চিত্ত করবে সে! ৬ মাস এই শর্ত পালন করবে সে। মধুবনী জেলার ঝঞ্ঝারপুর কোর্টের অতিরিক্ত জেলা বিচারক ১ অবিনাশ কুমার অভিযুক্ত যুবককে নির্দেশ দিয়েছেন, সে যে শর্ত ( bail condition) পূরণ  করেছে, সেব্যাপারে গ্রাম পঞ্চায়েতের মুখিয়া, সরপঞ্চ বা যে কোনও সরকারি অফিসারের শংসাপত্র পেশ করতে হবে। বিচারক বলেছেন, অভিযুক্ত ২০ বছরের লালন কুমারকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মেয়েদের জামাকাপড় সংগ্রহ করে কেচে পরিষ্কার করে ইস্ত্রী করে দিতে হবে। এই শর্তে জামিন দেওয়া হল। এতে মহিলাদের সম্পর্কে ওর মনে শ্রদ্ধাবোধ জাগবে।

পরিষ্কার, ইস্ত্রী করা জামাকাপড়  বাড়ি বাড়ি বয়ে পৌঁছে দিয়ে আসতে হবে  যুবককে, এও বলেছেন বিচারপতি। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি জামিনের  বন্ডও  পেশ করতে হবে।

পেশায় লালন ঝোপা। কোর্টের নির্দেশের একটি কপিও গ্রাম পঞ্চায়েতকে পাঠানো হয়েছে যাতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সে শর্ত মানছে কিনা, সেদিকে নজর রাখতে পারেন।

অভিযোগ, মাঝহউরা গ্রামের বাসিন্দা ছেলেটি গত ১৭ এপ্রিল রাতে লৌকাহা বাজার এলাকায় এক মহিলাকে নিগ্রহ, তাঁর শ্লীলতাহানির চেষ্টাও করেন। পরদিন স্থানীয় থানায় মামলা রুজু হয়। পুলিশ তাকে  সেদিনই গ্রেফতার করে জেলে ঢোকায়। লৌকাহার স্টেশন হাউস অফিসার সন্তোষ কুমার বলেন, লালনকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪  বি (কোনও মহিলাকে বিবস্ত্র করার  জন্য হামলা বা ফৌজদারি বল প্রয়োগ করা) ধারায় অভিযুক্ত করা হয়।

পুলিশও নজর রাখবে, লালন কোর্টের শর্ত মানছে কিনা, জানান এসএইচও।

ঘটনাচক্রে নির্যাতিতার আইনজীবী জানান, তিনি মামলাটি নিয়ে আর এগতে চান না।  আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ করতে আপস-রফার লক্ষ্যে একটি পিটিশনও পেশ করা হয়।

 

 

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.