অবাধ ভোগের ডালি নিয়ে বেঙ্গালুরুতে বাঙালির ঘরোয়া পুজো

গৌতমী সেনগুপ্ত

বেঙ্গালুরুর এই পুজো মণ্ডপে এলেই সাজানো পাতে বসে পড়তে পারেন, খিচুড়ি ভোগের সঙ্গে আনুষাঙ্গিক নানা রকমের খাবার খেয়ে ফেলতে পারেন বিনা দ্বিধায়। পুজোর গন্ধ মাখা সেই খিচুড়ির স্বাদ পেতে বছর ভর অপেক্ষা করে থাকেন সিলিকন ভ্যালির বাঙালিরা। বেঙ্গালুরুর বানেরঘাট্টা দুর্গা ফাউন্ডেশনের মূল চমক ঠিক এইখানেই। কলকাতার বাইরে বাঙালির আন্তরিকতা অটুট রেখেই ছিমছাম দুর্গা পুজোর আয়োজন হয়। চার দিন ধরে সম্পূর্ণ নিষ্ঠা মেনে চলে দুর্গা পুজো। চারটে দিনই ভোগ-প্রসাদের আয়োজন, মণ্ডপে  ভিড় জমান প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। ৬ বছর ধরে এইভাবেই বাঙালির মনের মতো পুজোর আবহ বজায় রেখে চলেছে বানেরঘাট্টা দুর্গা ফাউন্ডেশন।

বেঙ্গালুরুর বুকে এক টুকরো বাঙালি পাড়া বানেরঘাট্টা। এলাকারই কমিউনিটি হলে পুজোর আয়োজন। মা দুর্গাও একেবারেই ঘরোয়া সাজে। তবে, বাঙালি শিল্পীর হাতেই প্রতিমা মূর্তি গড়ে ওঠে। বানেরঘাট্টা দুর্গা ফাউন্ডেশনের অন্যতম উদ্যোক্তা গৌরব ঘোষাল জানাচ্ছেন, কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরুতে শিল্পী এসে প্রতিমা মূর্তি নির্মাণ করেন। পুজোর সাবেকিয়ানার সঙ্গে আপস না করে কলকাতা থেকে ঢাকি ও রাঁধুনি আসে, মায়ের ভোগের বিশেষ আয়োজনে হাত লাগান এলাকার প্রত্যেকে, পঞ্জিকা মেনে রান্না করা হয় মায়ের প্রত্যেক দিনের ভোগ।

পড়ুনঃদ্য ওয়াল পুজো ম্যাগাজিন ১৪২৫ পড়তে ক্লিক করুন

 বেঙ্গালুরুতে দুর্গা পুজোর সংখ্যা কম নয়, তবে বেশ কয়েকটি কারণে বানেরঘাট্টা দুর্গা ফাইউন্ডেশন অন্যান্য পুজোর থেকে আলাদা, তার প্রথম কারণ হল এই পুজো পুরোপুরি এলাকাবাসীর উদ্যোগে হয়, কোনওরকম ব্যবসায়িক মোড়ক নেই। দ্বিতীয়ত, অবাধ আন্তরিকতাই এই পুজোকে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে। বানেরঘাট্টা এলাকার বাসিন্দা দেবলীনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, পুজোর চারটে দিন শুধুই হুল্লোড়, কলকাতার বাইরে এই দুর্গা পুজো যেন নিজের ঘরেরই পুজো। উদ্যোক্তাদের দাবি, বেঙ্গালুরুর অন্যান্য পুজোয় টাকার বিনিময়ে ভোগ বিতরণ হয়, বিজ্ঞাপনের ডামাডোলের বাঙালির ভিড়ই কমে যাচ্ছে বেঙ্গালুরুর হেভিওয়েট দুর্গাপুজোগুলিতে। সেখানে বাঙালির একেবারে মনের গভীরে পৌঁছতে সফল বানেরঘাট্টার দুর্গা পুজো, আর সেটাই এই পুজোর মূল আকর্ষণ।

বানেরঘাট্টার এখনকার চিত্র শুধুই প্রস্তুতির। হাতে মাত্র আর কয়েকটা দিন, তাই কোনওরকম খামতি না রেখেই চলছে পুজোর কাজ, মণ্ডপসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। এলাকাবাসীরাই পুজোর চার দিন কিছু না কিছু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়ে থাকেন, এখন অপেক্ষা তৈরী কাঠামোয় মায়ের পূর্ণ রূপের।

 

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.