‘ইন্টারনেটে স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে’, গণতান্ত্রিক দেশগুলিকে জেগে ওঠার ডাক দিলেন গুগল প্রধান

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক বছর আগেও ঠিক এমনটা দেখা যেত না। সোশ্যাল মিডিয়ায় মন খুলে কথা বলতেন নেটিজেনরা। বাক স্বাধীনতা প্রয়োগ করার অন্যতম মাধ্যম মনে করা হত সোশ্যাল মিডিয়াকে। কিন্তু দিনকাল বদলেছে।

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু লিখতে বা পোস্ট করতে গেলেও দশ বার ভাবতে হয়। তা সে ফেসবুক হোক আর টুইটার। সবসময় মাথায় রাখতে হয়, যেভাবে যা বলতে চাইছি, তা করলে কারও ভাব বিশ্বাসে আঘাত লাগবে না তো! আচমকা টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে না তো! ফেসবুক থেকে আচমকা তাড়িয়ে দেওয়া হবে না তো!

নেট মাধ্যমে এভাবে যে নিরাপত্তাহীনতার আবহ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে এবার মুখ খুললেন খোদ সুন্দর পিচাই, গুগল প্রধান। বিবিসিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এদিন সুন্দর পিচাই বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় জনগণের অবাধ বিচরণ, অবাধ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা চলছে। বহু দেশেই এটা হচ্ছে। আর এভাবে মুক্ত খোলামেলা ইন্টারনেট ব্যবস্থার যে মূল কথা, তাকেই আক্রমণ করা হচ্ছে। ইন্টারনেট সম্বন্ধে মানুষের ধারণাই যাচ্ছে বদলে।

সুন্দর পিচাই বলেছেন, ‘প্রত্যেক দেশে আজকাল বিতর্ক তৈরি হচ্ছে যে কোন কথাটা ঠিক আর কোন কথাটা বলার অনুমতি দেওয়া যাবে।’ ইন্টারনেটের উদ্দেশ্যই হল সারা বিশ্বের মানুষের মধ্যে তথ্যের আদানপ্রদান। ‘কিন্তু আমার মনে হয়, তথ্যের এই অবাধ গতিকেই রোধ করা হচ্ছে। দেশে দেশে সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে’, বলেন তিনি।

বিভিন্ন দেশের সরকারের এই আচরণে আদতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মত গুগল প্রধানের। তিনি আর্জি জানিয়েছেন, যে সমস্ত দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুদৃঢ় তারা এই আচরণের বিরুদ্ধে গর্জে উঠুক। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনগণের অবাধ স্বাধীনতা যেন খর্ব না হয়, তা সুনিশ্চিত করার চেষ্টা করুক।

সম্প্রতি ভারতের অবস্থার সাপেক্ষে সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ভারত সরকার সম্প্রতি একাধিক আইনকানুনে জর্জরিত করেছে সোশ্যাল মিডিয়াকে। গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনকেও একাধিক আইনি বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এছাড়া, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বাধ্যবাধকতা তো আছেই। টুইটারেও বিতর্কিত পোস্ট ডিলিট করে দেওয়া হয় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। নিয়মের বেড়াজাল বিস্তৃত হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপেও।

সম্প্রতি টুইটারের সঙ্গে ভারত সরকারের সংঘাত কারও অবিদিত নয়। সরকার নির্ধারিত নিয়ম কানুন মানা না মানা নিয়ে দীর্ঘ দিন চলেছে দড়ি টানাটানি। সরকারের তরফে বলা হয়েছে নতুন নিয়ম আদতে দেশবাসীকেই সুরক্ষা দেবে। কিন্তু সমালোচকদের বক্তব্য, এই নিয়ম আদতে ব্যবহারকারীর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফেও ভারত সরকারের নানা নীতির সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ভারত সরকারের নতুন আইটি পলিসি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের ধারার সঙ্গে মিলছে না। এবার ভারতের নাম না করলেও মুখ খুললেন সুন্দর পিচাই।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.