ওমিক্রন এসে গেছে, ভয়ে কাঁটা সকলে! এদেশে বিমান সফরের নতুন নিয়ম জেনে নিন

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিস্থিতি ক্রমে স্বাভাবিক হওয়ার পথে হাঁটছিল। তারই মধ্যে আচমকা এসে গেল ওমিক্রনের চোখরাঙানি। এদিকে ক্রিসমাস, নিউইয়ার– এসব নিয়ে উৎসবের মরসুমও এসে গেছে। এসে গেছে লম্বা ছুটিতে বেড়াতে যাওক সময়। তার মধ্যে করোনাভাইরাসের এই নতুনতম প্রজাতিকে নিয়ে বেশ চিন্তায় হু। ভারত-সহ বিভিন্ন দেশকে ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই নড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় সরকারও। বিভিন্ন রাজ্যে অবিলম্বে করোনা পরীক্ষা বাড়াতে বলা হয়েছে। ভ্যাকসিনেশন আরও বাড়াতে হবে বলেও নির্দেশ। পাশাপাশি, যে এলাকাগুলিতে সাম্প্রতিক কালে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে, সেই সব এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।

এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক বিমান সফরে নতুন নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। এবার থেকে আন্তর্জাতিক বিমানে দেশে ঢোকার আগে প্রতিটি যাত্রীকে ১৪ দিনের যাতায়াতের বিস্তারিত বিবরণ এবং আরটি-পিসিআর নেগেটিভ রিপোর্ট আপলোড করতে হবে ‘এয়ার-সুবিধা’ পোর্টালে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে এই নতুন নিয়ম।

ওই করোনা পরীক্ষার রিপোর্টটি যে ভুয়ো নয়, সেই সংক্রান্ত একটি ডিক্লারেশনও জমা করতে হবে। করোনা পরীক্ষার রিপোর্টে কোনওরকম হেরফের করা হলে, ওই যাত্রীকে বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে।

এখানেই শেষ নয়। সংক্রমণের নিরিখে যে দেশগুলি বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, সে সব দেশের যাত্রীদের জন্য রয়েছে আরও কড়াকড়ি। এগুলির মধ্যে রয়েছে ব্রিটেন সহ ইউরোপীয় দেশগুলি, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজ়িল, বাংলাদেশ, বৎসোয়ানা, চিন, মরিশাস, নিউজ়িল্যান্ড, জ়িম্বাবোয়ে, সিঙ্গাপুর, হংকং এবং ইজরায়েল।

এই সব দেশের যাত্রীরা এয়ারপোর্টে পৌঁছনোর পরে কোভিড টেস্ট করা হবে। এর পরে নেগেটিভ রিপোর্ট এলেও সাত দিনের কোয়ারেন্টাই বাধ্যতামূলক। এর পরে অষ্টম দিনে ফের টেস্ট করে, নেগেটিভ রিপোর্ট এলে আরও সাত দিন  নিজের ওপরে নিজে নজর রাখার পরে,  তবেই স্বাভাবিক ঘোরাফেরায় অনুমতি পাবেন সংশ্লিষ্ট যাত্রী।

সবার প্রথমে এই নতুন ‘ওমিক্রন’-এর সংক্রমণের হদিশ পাওয়া গেছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। তারপর কয়েক দিনের মধ্যেই বৎসোয়ানা, হংকং, ইজরায়েল, বেলজিয়াম ও ব্রিটেনে মিলেছে এই ভাইরাসের নতুন প্রজাতির হদিশ।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা হু জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ‘ওমিক্রন’ ভ্যারিয়েন্ট। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের থেকে ওমিক্রন অনেক বেশি সংক্রামক। এর জেরে সংক্রমণের আরও একটি ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে।

হু বলছে, বিধি শিথিল হলেও মাস্ক স্যানিটাইজার ব্যবহারে ঘাটতি হলে চলবে না, ওমিক্রন থেকে সতর্ক হতে হবে। কোভিডবিধি শিথিল করে দিলে চলবে না। এখন থেকেই যদি সতর্ক না হয় ভারতবাসী, তবে আগামীদিনে ফের ভোগাবে করোনা। তা সে যতই ভ্যাকসিন নেওয়া থাক না কেন।  ওমিক্রনের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে হবে বিজ্ঞানসম্মত পথেই।

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম করোনার এই মিউট্যান্ট প্রজাতির হদিশ মিলেছে। ভাইরোলজিস্টরা বলছে, নতুন এই প্রজাতিতে অন্তত ৫০টি মিউটেশন হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যার মধ্যে স্পাইক প্রোটিনেই (s) ৩০ বার অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোড বদলে গেছে। ডেল্টা বা ডেল্টা প্লাস প্রজাতির জিনের বিন্যাস বদে এই নয়া প্রজাতি তৈরি হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি এখনও। তবে মানুষের শরীরে এই প্রজাতি খুব দ্রুত ছড়াতে পারে বলেই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, গত বছর মার্চ থেকে করোনার যে প্রজাতি ভারতে ছড়াতে শুরু করেছিল তা এখন অনেক বদলে গিয়েছে। সুপার-স্প্রেডার হয়ে উঠেছে, মানে অনেক দ্রুত মানুষের শরীরে ঢুকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। সার্স-কভ-২ হল আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) ভাইরাস। এর শরীর যে প্রোটিন দিয়ে তৈরি তার মধ্যেই নিরন্তর বদল হচ্ছে। এই প্রোটিন আবার অ্যামাইনো অ্যাসিড দিয়ে সাজানো। ভাইরাস এই অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলোর কোড ইচ্ছামতো বদলে দিচ্ছে। কখনও একেবারে ডিলিট করে দিচ্ছে। এইভাবে বদলের একটা চেইন তৈরি হয়েছে। আর এই এই রূপ বদলের কারণেই নতুন নতুন প্রজাতির দেখা মিলতে শুরু করেছে।

বর্তমান সময় কোভিডের ডবল ভ্যারিয়ান্ট চিন্তার কারণ। ব্রিটেন স্ট্রেনের (বি.১.১.৭)পরে এই প্রজাতিই এখন সবচেয়ে বেশি ছোঁয়াচে। তার সঙ্গেই আরও নানা প্রজাতি মাথা চাড়া দিচ্ছে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.