সীমান্তে লঞ্চ প্যাড, ট্রেনিং ক্যাম্প, ৪০০ জঙ্গি ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছে: সেনাপ্রধান

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়ন্ত্রণরেখায় অশান্তি জিইয়ে রেখেছে পাকিস্তান। সীমান্তে একটিও লঞ্চ প্যাড নষ্ট করা হয়নি, বরং সেখানে ৩৫০ থেকে ৪০০ জঙ্গি মোতায়েন করা হয়েছে, সেনা দিবসে এমনটাই জানালেন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে।

সেনা দিবস উপলক্ষ্যে দিল্লিতে ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে শ্রদ্ধা জানান তিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান। নারাভানে বলছেন, গত বছর পাঁচ হাজার বার সংঘর্ষ বিরতি ভেঙেছিল পাকিস্তান। এ বছর পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভাল হলেও জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়েই রাখা হয়েছে। পাকিস্তানের মদতে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছে সশস্ত্র জঙ্গিরা। সেনাপ্রধান আরও বলছেন, গোয়েন্দা সূত্রে খবর মিলেছে সীমান্তে একটিও লঞ্চ প্যাড নষ্ট করেনি পাক সেনারা। বরং সেখানে নতুন করে জঙ্গি মোতায়েন করা হয়েছে। অন্তত ৩৫০ থেকে ৪০০ জঙ্গিকে ভারতে ঢোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

জঙ্গিদের জন্য ট্রেনিং ক্যাম্প খোলা হয়েছে সীমান্তের ওপারে। সেখানে তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে পাক কম্যান্ডাররা। গোয়েন্দা সূত্রে আরও খবর মিলেছে,

পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলোর মাথারা আগে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে প্রশিক্ষিত জঙ্গিদের বেছে ভারতে পাঠাত। উপত্যকার কম্যান্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হত। কিন্তু এখন সে রাস্তা প্রায় বন্ধ। তাই সাইবার প্রযুক্তির সুবিধার নিয়ে এই কাজ শুরু হয়েছে। একাধিক ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করছে জঙ্গিরা। ভুয়ো ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে, গোপন লিঙ্ক পাঠানো হচ্ছে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছর অনলাইনে ডজন খানেক জঙ্গি মডিউলের পর্দা ফাঁস করা হয়েছিল।

কুড়ির ডিসেম্বরে তাওয়ার ওয়াঘে ও আমির আহমেদ মীর নামে পাক জঙ্গি সংগঠনের দুই হ্যান্ডলারকে পাকড়াও করেন গোয়েন্দা অফিসাররা। জেরায় তারা জানিয়েছিল, অনলাইনে লাগাতার জঙ্গি নিয়োগ চলছে উপত্যকায়। ফেসবুকে পাক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে উপত্যকার জঙ্গি কম্যান্ডাররা। তাওয়ার ও আমিরকেও নিয়োগ করা হয়েছিল ফেসবুকের সূত্রেই। শুধুমাত্র ফেসবুক নয়, একাধিক ডিজিটাল মিডিয়া সাইটকে ব্যবহার করছে জঙ্গিরা। যাদের কাছে তাদের নিয়োগ করা হচ্ছে, সেই হ্যান্ডলারদের গোপন কোড রয়েছে।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপের পরে ভারতে জঙ্গির স্লিপাল সেল ঢোকাতে আরও মরিয়া হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। সেনা সূত্র বলছে, লস্কর, জইশের একাধিক জঙ্গি সীমান্ত পার করার চেষ্টা করেছে। সেনার গুলিতে তারা বেশিরভাগই পিছু হটেছে। এই সব জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণ রেখা পার করতে সাহায্য করছে পাকিস্তানের বেশ কিছু গ্রামবাসী। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, নতুন করে মানসেরা, গুলপুর, কোটলির জঙ্গি শিবিরে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।  খাইবার পাখতুনখোয়ার  বিভিন্ন এলাকা থেকে জইশ নতুন করে জঙ্গি নিয়োগ করছে। তাদের ফিদায়েঁ প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে বলে খবর।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.