লাদাখ সমস্যার মাঝে পাকিস্তান সীমান্তে গতিবিধি বাড়াচ্ছে না, বরং রক্ষণাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা, জানালেন সেনা কম্যান্ডার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব লাদাখে ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্তে উত্তাপ বাড়ছে। এই মুহূর্তে সেদিকেই সবার নজর। কিন্তু ভারতের আর এক পড়শি রাজ্য পাকিস্তান এই মুহূর্তে কী করছে? ভারত-চিনের সংঘাতের সুযোগ নিয়ে সীমান্তে তারাও কি সমস্যা তৈরি করার চেষ্টা করছে? এখনও পর্যন্ত অন্তত সেই রকমের কোনও গতিবিধি দেখা যায়নি। বরং বেশ খানিকটা রক্ষণাত্মক প্রস্তুতি নিতেই দেখা গেছে তাদের।

সম্প্রতি শ্রীনগরে মোতায়েন সেনার এক কম্যান্ডার এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে এই খবর জানিয়েছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল বি এস রাজু জানিয়েছেন, “এখনও পর্যন্ত আমি বা আমার রেজিমেন্টের জওয়ানরা পাকিস্তানের তরফে কোনও গতিবিধির খবর পাইনি। এখনও পর্যন্ত সীমান্তের ওপারে সেনার পরিমাণ বাড়ানো হয়নি। উলটে পাকিস্তান তাদের রক্ষণাত্মক প্রস্তুতি বাড়িয়েছে। এটা ওরা তখনই করে, যখন ওরা ভয়ে থাকে। আমরা যে কোনও পরিস্থিতির জন্য তৈরি আছি।”

লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজু আরও বলেন, “পাকিস্তান তাদের রিজার্ভে থাকা সেনা জওয়ানদের এগিয়ে নিয়ে এসেছে। এটা ওরা তখনই করে যখন ওরা নিজেদের সামলানোর চেষ্টা করে। এই মুহূর্তে পাকিস্তানের অন্য কোনও উদ্দেশ্য নেই।”

সেনার গতিবিধি না বাড়লেও সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা পাকিস্তান এখনও পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে বলেই জানিয়েছেন সেনা কম্যান্ডার। জঙ্গিদের পাঠিয়ে জম্মু-কাশ্মীরে নাশকতা চালাতে চায় ওরা। কম্যান্ডার বলেন, “জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ করানোর সব চেষ্টা পাকিস্তান করছে। জঙ্গি ঘাঁটিগুলি ভর্তি রয়েছে। প্রায় ৩০০ জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। আমাদের সেনা তাদের আসার অপেক্ষা করছে। ভিতরে ঢুকলেই ওদের খতম করা হবে। উপত্যকায় নাশকতা ছড়ানোই পাকিস্তানের এখন প্রধান লক্ষ্য।”

ভারতীয় সেনার তরফে সব রকমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেই জানিয়েছেন রাজু। তিনি বলেন, “আমরা সীমান্তে ও লাগোয়া এলাকা, দু’জায়গাতেই সেনা মোতায়েন করে রেখেছি। এই এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব আমার। সীমান্তের পিছনে কাশ্মীরের একাধিক এলাকায় শান্তি বজায় রাখার দায়িত্বও আমাদের। এই দুই বাহিনী ছাড়াও আমাদের আরও দুটি বাহিনী রিজার্ভে রয়েছে। দরকার পড়লে তাদের মোতায়েন করা হবে। সীমান্তের ওপার থেকে কোনও ধরনের নাশকতার কাজ আমরা চালাতে দেব না।”

সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিরাট সাফল্য সেনা পেয়েছে বলেই দাবি করেছেন রাজু। প্রচুর জঙ্গিকে এই সময়ের মধ্যে নিকেশ করা হয়েছে। মে মাসে হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধান রিয়াজ নাইকুকে খতম করা সেনার অন্যতম বড় সাফল্য বলেই মনে করেন তিনি। কারণ নাইকু যুবদের ভুল পথে চালিত করে জঙ্গিশিবিরে নাম লেখাচ্ছিল বলেই জানিয়েছেন তিনি।

রাজু বলেন, “নাইকুর ক্ষমতা ছিল অন্যদের জঙ্গি দলে ভর্তি করানোর। ও না থাকায় হিজবুলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। অন্য জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোরও ক্ষতি হয়েছে। হিজবুল খুবই বড় জঙ্গি সংগঠন। এই সংগঠন উপত্যকার ছোট সংগঠনগুলোকে অস্ত্র ও জঙ্গি দিয়ে সাহায্য করে। তাই যদি জঙ্গি প্রধানদের খতম করা যায়, তাহলে জঙ্গিদের মনোবল অনেকটাই ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়।”

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More