বলিউড মাফিয়াদের ভয়ে সুশান্ত কাণ্ডে দোষীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধব, তোপ সুশীল মোদীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ঘটনায় ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি। তদন্ত চালাচ্ছে বিহার ও মুম্বই পুলিশ। কিন্তু এই ঘটনায় মুম্বই পুলিশ ও মহারাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলছেন অনেকেই। সেই একই অভিযোগ এবার তুলতে শোনা গেল বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদীকে। সরাসরি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে নিশানা করলেন তিনি।

বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদী জানিয়েছেন, বলিউড মাফিয়াদের থেকে ভয় পেয়েই এই ঘটনা যারা দোষী, তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধব। বিজেপি নেতা টুইট করে বলেন, “কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় থাকা বলিউড মাফিয়াদের থেকে ভয় পাচ্ছেন উদ্ধব ঠাকরে। সেই কারণেই তিনি সুশান্ত কাণ্ডে যারা প্রকৃত দোষী তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।”

সুশান্ত সিংয়ের মৃত্যুর ঘটনায় মুম্বইয়ে তদন্ত করতে যাওয়া বিহার পুলিশের আধিকারিকদেরও বাধা দিচ্ছে মুম্বই পুলিশ, এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন মোদী। তিনি টুইটে বলেন, “বিহার পুলিশ নিজেদের সেরাটা দিয়ে তদন্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু মুম্বই পুলিশ তদন্তের কাজে সাহায্য করছে না। বিজেপির মনে হচ্ছে এই তদন্তের ভার সিবিআইয়ের নেওয়া উচিত।”

সূত্রের খবর, বিহার সরকার জানিয়েছে, যদি সুশান্তের পরিবার সিবিআই তদন্ত চায়, তাহলে সেই ব্যাপারে আবেদন করবে তারা। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার জানিয়েছেন, তিনি সিবিআই তদন্তের আবেদন করতে রাজি। তবে সেটা তখনই হবে যখন সুশান্তের বাবা সেটা চাইবেন ও তিনি সরকারকে জানাবেন।

বেশ কিছুদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং হয়েছে সিবিআই ফর সুশান্ত হ্যাশট্যাগ। শুধু সুশান্তের ভক্তরা নন, তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব, অনেক সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দাবি করেছেন এই তদন্তের ভার সিবিআইয়ের উপর দেওয়া হোক। কিন্তু মহারাষ্ট্র সরকারের তরফে বারবার বলা হয়েছে মুম্বই পুলিশের ক্ষমতা রয়েছে এই তদন্তভার নেওয়ার।

গতকাল উদ্ধব ঠাকরে বলেন, মানুষের উচিত এই তদন্তে মুম্বই পুলিশের উপর ভরসা রাখা। তিনি বলেন, “মহারাষ্ট্র পুলিশ ও মুম্বই পুলিশ করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়ছে। তাঁরা কোভিড যোদ্ধা। তাই তাঁদের বিশ্বাস না করার মানে হল তাঁদের অপমান করা। আমি সুশান্তের ভক্তদের বলতে চাই মুম্বই পুলিশের উপর ভরসা রাখুন। সেইসঙ্গে আপনাদের কাছে যা তথ্য রয়েছে পুলিশকে জানান। যদি এই তদন্তের সমাধান না হয় তাহলে পুলিশের সমালোচনা করবেন আপনারা।”

এদিকে কয়েক দিন আগে সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী ও আরও ৫ জনের বিরুদ্ধে পটনার রাজেন্দ্র নগর পুলিশ স্টেশনে একটি ছ’পাতার এফআইআর দায়ের করেন সুশান্তের বাবা কৃষ্ণ কুমার সিং। সেই এফআইআরে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৬, ৩৪১, ৩৪২, ৩৮০, ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়, যার মধ্যে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, চুরি, বিশ্বাসভঙ্গ, বেআইনিভাবে সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়া প্রভৃতি ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করতে গত চারদিন ধরে মুম্বইয়ে রয়েছেন বিহার পুলিশের চার আধিকারিকের একটি দল।

সুশান্তের বাবার করা অভিযোগের ভিত্তিতে মূলত আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। তাতে ইডির হাতে এমন অনেক প্রমাণ মিলেছে যাতে বোঝা যাচ্ছে, টাকার বেআইনি লেনদেন করা হয়েছে। এই লেনদেনের সঙ্গে ২৮ বছর বয়সী রিয়া ও তাঁর পরিবারের অন্যরা যুক্ত বলেই সন্দেহ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। তারপরেই ১৫ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার মামলা দায়ের করেছে ইডি।

এদিকে ক্রমাগত তাঁর বিরুদ্ধে উঠতে থাকা অভিযোগের জবাবে শুক্রবার একটি ভিডিও বার্তায় রিয়া চক্রবর্তী জানিয়েছেন, দেশের আইন ব্যবস্থার উপর তাঁর ভরসা রয়েছে। সত্য ঠিক বেরিয়ে আসবে।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More