‘নকশাল কাকু, প্লিজ, আমার বাবাকে ফিরিয়ে দাও!’ নিখোঁজ জওয়ানের ছোট্ট মেয়েকে দেখে চোখে জল সকলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘বাবার আদরের মেয়ে বাবাকে খুব মিস করছে। বাবাকে খুব ভালবাসি আমি। নকশাল-কাকু, প্লিজ, আমার বাবাকে ফিরেয়ে দাও।’ ঠিক তিনটে বাক্য ক্যামেরার সামনে কোনওমতে বলার পরেই কান্নায় ভেঙে পড়ল একরত্তি মেয়েটা। বাঁধভাঙা কান্নার রোল উঠল পরিবারজুড়ে। মাত্র ৪০ সেকেন্ডের একটা ভিডিওতে মাওবাদীদের উদ্দেশে ঠিক এভাবেই বার্তা পৌঁছে দিও বিজাপুর এনকাউন্টারে নিখোঁজ জওয়ান রাকেশ্বর মানহাসের পাঁচ বছরের মেয়ে রাঘবি।

শনিবারের ঘটনা। বিজাপুরে সেনা জওয়ান এবং নকশালদের সংঘর্ষে প্রাণ হারান ২৩ জন নিরাপত্তারক্ষী। সেদিন থেকেই হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে পড়েন রাকেশ্বর। জোর কদমে তল্লাশি শুরু করে সেনা বাহিনী। কিন্তু এখনও তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ — দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আশ্বাস মিললেও আশঙ্কা আর উদ্বেগ কাটেনি রাকেশ্বরের পরিবার-পরিজনদের। তাই নিজেদের তরফ থেকে চেষ্টার কোনও কসুর রাখতে চাননি তাঁরা। যে-কারণে মাওবাদী নেতাদের কাছে হাত পেতেছে ছোট্ট রাঘবি।

শুধু রাঘবি নয়। আবেদন-নিবেদন জুড়েছে খুদে আকাশও। সম্পর্কে রাকেশ্বরের ভাইপো। সাত বছরের আকাশ সংবাদমাধ্যমের লোকজন দেখলেই বলে উঠছে, ‘আপনি তো মিডিয়ার লোক। আপনি নিশ্চয় জানেন আমার কাকু কোথায় রয়েছেন!’

শুধু মিডিয়াকর্মীরাই নন। মাওবাদীদের হাতে আটক হওয়ার খবর শুনে রাকেশ্বরের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন তাঁর আত্মীয়েরাও। সকলের চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। অজানা আশঙ্কা আর উদ্বেগে কালো মেঘ জমেছে মিনুর মনেও। কেমন কেটেছে গত কয়েক দিন? মিনু, রাকেশ্বরের স্ত্রী জানান,, ‘পাঁচ দিন আগে রাকেশের সঙ্গে শেষ বার কথা হয়। তখনই আমায় অপারেশনে যাওয়ার কথা জানায়৷ ফিরে এসে ফোন করার আশ্বাসও দেয়৷ কিন্তু সেটা আর আসেনি। এরই মধ্যে টিভিতে সংঘর্ষের কথা জানতে পারি। তারপর থেকে লাগাতার ফোন করে গেলেও কোনও লাভ হয়নি।’

দেখুন ছোট্ট বাচ্চাটি কী বলছে-

কিন্তু সহজে হাল ছাড়েননি মিনু। স্বামীকে না পেয়ে তাঁরই এক বন্ধুকে ফোন করেন তিনি। তখনই খবর পান, রাকেশকে তুলে নিয়ে গিয়েছে মাওবাদীরা।

এই খবর শুনে বাড়ির সবাই যখন ভেঙে পড়েছে, সেই সময় একটি উড়ো ফোন পান মিনু। বিজাপুরের স্থানীয় সাংবাদিকের পরিচয়ে এক ব্যক্তি বলেন, মাওবাদীদের উদ্দেশে ভিডিও-বার্তা রেকর্ড করে সেটা শেয়ার করতে। তাতে ফল মিললেও মিলতে পারে। এরপর আর দেরি করেননি মিনু। দেরি করেনি রাঘবিও। ক্যামেরা দেখে নিজেই এগিয়ে আসে সে। বাবাকে যে-কোনও মূল্যে ফিরে পেতে চায় রাঘবি। তাই নিখাদ ভালোবাসা, যন্ত্রণা আর আর্তি মিশিয়ে বলতে শুরু করে সে, ‘বাবার আদরের মেয়ে…’

রাঘবির এই বার্তা তার পরিবারের সককের জোর বাড়িয়েছে। বুকে বল পেয়েছেন মিনুও। তিনি বলেন, ‘উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আমি আশা রাখছি, আমার স্বামীর জন্যও তিনি একইভাবে তৎপর হবেন।’ একই কথা জানিয়েছেন রাকেশের অশীতিপর বৃদ্ধা মা কুন্তী দেবীও। বাড়ির ছোট মেয়ের ৪২ সেকেন্ডের বার্তায় নতুন করে লড়াইয়ের অক্সিজেন পেয়েছেন সকলে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More