স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজের ১২৫তম জন্মতিথি উপলক্ষে প্রকাশিত হচ্ছে তিনটি নতুন স্মারক মুদ্রা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামী প্রণবানন্দজি মহারাজের ১২৫তম জন্মতিথি উপলক্ষে প্রকাশিত হতে চলেছে স্মারক মুদ্রা। জানা গেছে, ১০০, ৫০ ও ১০ টাকার স্মারকমুদ্রায় থাকবে তাঁর ছবি। ভারত সেবাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা, মহাপুরুষ প্রণবানন্দজির এই সম্মানের কথা আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করেছে ভারত সেবাশ্রম সংঘ। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ মন্ত্রকের তরফে গেজেটেড নোটিফিকেশনও প্রকাশিত হয়েছে।

জানা গেছে, ভারত সেবাশ্রম সংঘের তরফে এই অনুরোধ বহু দিন ধরেই ছিল। সম্প্রতি কংগ্রেস সাংসদ শ্রী অধীররঞ্জন চৌধুরীর কাছে এই স্মারক মুদ্রার কথা জানান সংঘের স্বামীজিরা। অধীরবাবুরই এর পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করে স্বামী প্রণবানন্দজির কথা বলেন বিস্তারিত ভাবে। অনুরোধ করেন, তাঁর ১২৫তম জন্মতিথি উপলক্ষে যদি স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করা যায়। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন।

শেষমেশ অর্থ মন্ত্রকের তরফে জানানো হল, প্রণবানন্দ মহারাজের ১২৫তম জন্মতিথি উপলক্ষে ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত হতে চলেছে তিনটি কয়েন। অধীরবাবুর প্রচেষ্টায় এবং কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি এবং কৃতজ্ঞ ভারত সেবাশ্রমের স্বামীজিরা।

অর্থ মন্ত্রকের নোটিসে জানা গেছে, ১০০ টাকার কয়েনটির আকৃতি হবে গোল। ৪৪ মিলিমিটার হবে তার ব্যাস। রুপো, তামা, নিকেল, জিঙ্ক ইত্যাদি ধাতুর সংমিশ্রণে তৈরি হবে কয়েনটি। ৫০ টাকার কয়েনটির ব্যাস হবে ৩৯ মিলিমিটার। সেটিও একাদিক ধাতুর সংমিশ্রণে তৈরি। ২৭ মিলিমিটার ব্যাসের দশ টাকার কয়েনটি তামা, নিকেল ও জিঙ্ক দিয়ে তৈরি।

১৮৯৬ সালে ২৯ জানুয়ারি এক মাঘীপূর্ণিমা তিথিতে বর্তমান বাংলাদেশের মাদারিপুর জেলার বাজিতপুর গ্রামে বিষ্ণুচরণ ভূইঞা ও মাতা সারদাদেবীর ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন প্রণবানন্দ। তাঁর বাল্যকালের নাম ছিল বিনোদ। ব্রহ্মচারী বিনোদ সে সময়ে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমর্থন করতেন। বিপ্লবী দল মাদারিপুর সমিতির সদস্যও ছিলেন তিনি।

এর পরে ১৯১৩ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে গোরক্ষপুরের মহাযোগী বাবা গম্ভীরনাথজীর কাছে তিনি দীক্ষালাভ করেন। সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন ২০ বছর বয়সেই।

১৯১৭ সালে তিনি একটি আশ্রম স্থাপন করেন। সে সময়ে তেমন কোনও বড় ভাবনা না থাকলেও, দু’বছর পরেই ১৯১৯ সালে প্রচণ্ড প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বহু মানুষ মারা যান। সে সময়ে বিনোগ সেবার কাজে এগিয়ে আসেন। তাঁর কাজের পরিধি ক্রমে বাড়তে শুরু করলে, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনুরোধে “মাদারিপুর সেবাশ্রম” স্থাপিত করেন তিনি। এর কয়েক বছরের মধ্যে খুলনা, নওগাঁ, আশাশুনি প্রভৃতি জায়গায় আরও কয়েকটি সেবাশ্রম স্থাপিত হয়। ১৯২২ সালে কলকাতার বাগবাজারে ডিসপেনসারি লেনে একটি ঘর ভাড়া করে কলকাতায় প্রথম আশ্রম স্থাপন করা হয়। পরে ১১৮ নম্বর শোভাবাজার ষ্ট্রিটে ১৮ টাকা ভাড়ায় দুটি কোঠা ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে কলকাতা আশ্রম স্থানান্তরিত করা হয়। এটাই ভারত সেবাশ্রম স্থাপনের ইতিহাস।

এর পরে ১৯২৪ সালে প্রয়াগে অর্ধকুম্ভমেলায় স্বামী গোবিন্দানন্দ গিরির কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে সন্ন্যাস গ্রহণ করে স্বামী প্রণবানন্দ নামে পরিচিত হন। ১৯৪১ সালে ৮ জানুয়ারি, মাত্র ৪৫ বৎসর বয়সে তিনি দেহত্যাগ করেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More