দীপাবলিতে তেতে উঠল উপত্যকা, গ্রেনেড হামলা শ্রীনগরে, জখম ৬ জওয়ান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভূস্বর্গের দরজা আবার পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার পরেই ফের গ্রেনেড হামলা শ্রীনগরে। কারাননগর এলাকায় শনিবার বিকেলের দিকে গ্রেনেড ছোড়ে জঙ্গিরা। এলাকায় তখন টহল দিচ্ছিলেন সিআরপিএফের জওয়ানরা। তাঁদের মধ্যে ছ’জনের অবস্থা গুরুতর। দীপাবলির আগে পরিস্থিতি ফের থমথমে।

বিস্ফোরণের পর গোটা এলাকা কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। সতর্কতা জারি হয়েছে শ্রীনগর হাইওয়েতেও। গত ১২ অক্টোবর শ্রীনগরের হরি সিংহ হাই স্ট্রিটে পসরাওয়ালাদের লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়ে পালিয়ে যায় জঙ্গিরা। এক মহিলা-সহ সাত জন আহত হন। ফের এই গ্রেনেড হামলায় রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

গত ৫ অগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকেই কাশ্মীরে চোরাগোপ্তা উত্তেজনার খবর আসছিল। বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা তুলে নেওয়া এবং জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে দুটি পৃথক কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল ঘোষণা করার পর গত দু’মাসের মধ্যে এই নিয়ে তিনবার গ্রেনেড হামলা হল উপত্যকায়।

অগস্ট মাসে শ্রীনগরের পারিমপোরা এলাকায় জঙ্গিদের হাতে নিহত হন এক দোকানি। অনন্তনাগে জঙ্গিদের গ্রেনেড নিশানা করে দোকানিদের। অনন্তনাগেই ৫ অক্টোবর ডেপুটি কমিশনারের অফিস লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোঁড়ে জঙ্গিরা। নিশানা ডেপুটি কমিশনারের দফতর হলেও গ্রেনেড ফাটে অফিস চত্বরের বাইরের রাস্তায়। প্রচণ্ড বিস্ফোরণে স্প্লিনটার ছিটকে গিয়ে জখম হন পথচারীরা। আহতদের মধ্যে ট্রাফিক পুলিশ এবং সাংবাদিকও ছিলেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্ট জানাচ্ছে, গত ২৯ বছরে কাশ্মীরে প্রাণ হারিয়েছেন ভারতের ৫ হাজার ২৭৩ জন নিরাপত্তাকর্মী। প্রাণ গিয়েছে ১৪ হাজার ২৪ জন সাধারণ কাশ্মীরির। সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টাও চলছে লাগাতার। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) জানাচ্ছে, জানুয়ারির পর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত  মোট ২৩১৭ বার সংঘর্ষবিরতি ভেঙেছে পাকিস্তান। আর কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপের পর থেকে মাত্র ২৫ দিনেই সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ২২২ বারে।

আরও পড়ুন:

২৯ বছরে কাশ্মীরে ৫ হাজার সেনা ও ১৪ হাজার সাধারণ মানুষের মৃত্যু, উল্লেখ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্টে

মায়ের সঙ্গে কথাবার্তা

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More