মমতা বলেছিলেন ‘আগে সুপ্রকাশকে লড়’, টিকিট না পেয়ে আগ্নেয়-গিরি অখিল-পুত্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: ১৮ জানুয়ারি তেখালির মাঠে দিদির সেই জনসভার কথা মনে পড়ে? চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আগে তো সুপ্রকাশদের লড়, তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লড়তে আসবে!”

সুপ্রকাশ মানে সুপ্রকাশ গিরি। রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরির ছেলে তথা যুব তৃণমূলের পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সভাপতি। অনেকেই সেদিন ভেবেছিলেন, শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে দিদি বোধহয় তরুণ সুপ্রকাশকে লড়াইয়ে নামাতে চাইছেন। হয়তো সুপ্রকাশেরও সুপ্ত বাসনা ছিল প্রার্থী হবেন। কিন্তু মমতা গতকাল যে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছেন তাতে নাম নেই অখিল-পুত্রের। আর তারপরেই সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় ক্ষোভ উগরে দিলেন সুপ্রকাশ। 

শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছাড়ার পর ছত্রভঙ্গ নেতা কর্মীদের হাল ধরতে এগিয়ে এসেছিলেন তিনি। গত কয়েকদিন ধরে একটানা বিজেপি ও শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ময়দানে লড়াই করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। সেই উৎসাহেই যেন ভাটা পড়েছে শুক্রবার।

ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন “মজা করে বন্ধুরা বলত, পয়সা না থাকলে রাজনীতি করতে যাস না। আজ পারফরম্যান্সকে হার মানতে হল পয়সার কাছে, আজ বুঝলাম পারফরম্যান্সের কোনও দাম নেই এই যুগে।’’ মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তা ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও তিনি প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ফেসবুক পোস্ট প্রকাশ করে দিল সুপ্রকাশের ক্ষোভের আগ্নেয় গিরি থেকে কী পরিমাণ লাভা বের হচ্ছে!

যুব তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সুপ্রকাশ গিরি। তাঁর বাবা বিধায়ক অখিল গিরি এবারও প্রার্থী হয়েছেন রামনগর কেন্দ্র থেকে। ভোটের আগে শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়ার পর থেকেই খুবই সক্রিয় দেখা গিয়েছিল সুপ্রকাশ গিরিকে। শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে চোখা আক্রমণ শানানোর পাশাপাশি বারবার বিজেপির বিরুদ্ধে কর্মসূচি নিয়েছেন তিনি। আশা ছিল প্রার্থীও হবেন এবার। কিন্তু….

অন্যদিকে চণ্ডীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জয়ী বিধায়ক অমিয়কান্তি ভট্টাচার্যের নামও এবার বাতিল হয়েছে প্রার্থী তালিকা থেকে। সে জায়গায় প্রার্থী হিসেবে রয়েছে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর নাম। এমন ঘটনায় বিস্মিত বর্তমান বিধায়ক অমিয়বাবু। তবে মুখ্যমন্ত্রীর প্রার্থী তালিকা নত মস্তকে মেনে নিয়েছেন তিনি।

অমিয়বাবু বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী তাঁর মনোনীত প্রার্থী বেছে এখানে দাঁড় করিয়েছেন। তাতে আমার কোনও দুঃখ নেই। ৯২ সাল থেকে দিদির সঙ্গে আছি। ভবিষ্যতেও থাকব।  দল পরিবর্তনের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। কর্মী হিসেবে কাজ করে যাব। তবে আমাকে প্রার্থী না করানোর কারণে আমার চণ্ডীপুর বিধানসভার অন্তর্গত নব্বই ভাগ কর্মী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সোহম দাঁড়িয়েছে। কত ভোটে জেতাতে পারব, কি পারব না, তা মানুষ বলতে পারবে। জনগণ বলতে পারবে। আমরা বলতে পারব না। তবে আমরা যত ভোটে জিতেছি, তাঁর থেকে বেশি ভোটে নিশ্চই জিতবেন সোহম।’’

চোখেমুখে দুঃখের ছাপ। তবু বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না গত বিধানসভা ভোটে চণ্ডীপুরের জয়ী বিধায়ক অমিয়কান্তি ভট্টাচার্যের। সব মিলিয়ে তুষের আগুন যেন ধিকিধিকি জ্বলছে জেলার ঘাসফুল শিবিৱে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More