কাশ্মীরে মাথাচাড়া দিয়েছে প্রায় ২০০ জঙ্গি, ওপারে লঞ্চ প্যাডে অপেক্ষায় আরও ২৫০

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরে একের পর এক সন্ত্রাসবাদী হামলার চেষ্টা বানচাল করছে পুলিশ। প্রায় রোজই দক্ষিণ কাশ্মীরে সেনা-পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের তুমুল সংঘর্ষ বেঁধে যাচ্ছে। সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে নিয়ন্ত্রণরেখায় ও আন্তর্জাতিক সীমান্তে গোলাগুলি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে ভারতীয় সেনাও চরম প্রত্যাঘাত হানছে নিয়ন্ত্রণরেখায়। একদিকে চিনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণরেখা তথা এলওসি-তে কীভাবে জঙ্গি তৎপরতা বাড়ছে সে নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দিলেন জম্মু-কাশ্মীরের ডিজিপি দিলবাগ সিং।

দক্ষিণ কাশ্মীরে গত একমাসে বেশ কয়েকবার জঙ্গি হামলার প্রচেষ্টা রুখে দেওয়া গেছে। পুলওয়ামার ধাঁচে ফিদাঁয়ে হামলার ছকও কষেছিল জঙ্গিরা, পুলিশি তৎপরতায় সে চেষ্টাও বানচাল হয়েছে। ধরা পড়েছে চার জঙ্গি। গতকাল শোপিয়ানে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র সহ সাত জঙ্গিকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। ডিজিপি বলছেন, উপত্যকায় এই মুহূর্তে সক্রিয় কম করেও ২০০ জঙ্গি। জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তৈবা, হিজবুল মুজাহিদিন গোষ্ঠীর হ্যান্ডলাররা অতিসক্রিয় হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের নাম না করেও ডিজিপি বলেন, উপত্যকার জঙ্গি মডিউলে পূর্ণ সহযোগিতা করছে প্রতিবেশী দেশ। অস্ত্র, আর্থিক সাহায্য সবই এসে পৌঁছচ্ছে কাশ্মীরে। এমনকি নেপাল হয়ে ঘুরপথে আইএসআই মারফৎ টাকা ঢুকছে কাশ্মীরে, গোয়েন্দা সূত্রে এমন খবরও মিলেছে।

As security forces tighten noose, Pak-based terror groups resort to cyber  recruitment in Jammu and Kashmir: Reports, India News News | wionews.com

ডিজিপি দিলবাগ বলছেন, আগে জঙ্গি কার্যকলাপ এবং অনুপ্রবেশের চেষ্টা পিরপাঞ্জলের উত্তর দিকে সীমাবদ্ধ ছিল। এ বার পিরপাঞ্জলের দক্ষিণ অর্থাৎ জম্মুতেও অনুপ্রবেশের চেষ্টা বা়ড়ছে। বাড়ছে নাশকতার ঘটনা। সে জন্য, দুই এলাকাতেই তৎপরতা বেশ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে সেনা। তাঁর বক্তব্য, নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে বিভিন্ন লঞ্চ প্যাডে এই মুহূর্তে অপেক্ষায় রয়েছে অন্তত ২৫০ জঙ্গি। গত বছর এই সংখ্যা ছিল পাঁচশোর কাছাকাছি। এই জঙ্গিদের রুখতে যে কোনও রকম পদক্ষেপ করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে সীমান্তে অবস্থানরত বাহিনীকে।

নিয়ন্ত্রণরেখায় কঠোর অবস্থান ভারতের

সীমান্তে বা নিয়ন্ত্রণরেখায় পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করলেই যাতে তৎক্ষণাৎ যোগ্য জবাব দেওয়া হয়, তার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বাহিনীকে। ডিজিপি বলছেন, পাক সীমান্ত চৌকিগুলি লক্ষ্য করে মাঝেমধ্যেই ভারী গোলাবর্ষণ করছে ভারত। পাক সীমান্ত চৌকি লক্ষ্য করে স্নাইপার হামলাও চালানো হচ্ছে বলে খবর।

Indian Army killed 20 Pak soldiers along LoC in 2018: What must it do next?  | Business Standard News

আগে দেখা গিয়েছিল, পাকিস্তানের জইশ শিবির থেকে প্রায় ১৫০ ফুট লম্বা টানেল চলে এসেছে নিয়ন্ত্রণরেখার এ পারে। এই সুড়ঙ্গ ধরে হামাগুড়ি দিয়েই উপত্যকায় ঢুকছে জঙ্গিরা। এই সুড়ঙ্গ পথ পাকিস্তানের জইশ ক্যাম্প অবধি গিয়েছে। জইশ শিবির থেকে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এই পথেই ভারতে পাঠানো হচ্ছে বলে সন্দেহ। জইশেরই কোনও অপারেশনাল কমান্ডার রয়েছে যে সুড়ঙ্গ থেকে জঙ্গিদের নিরাপদে বের করে উপত্যকার গোপন ঘাঁটিগুলিতে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ড্রোন মারফৎ অস্ত্রশস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে উপত্যকায়।

India's escalatory approach has Pak rattled on LoC, IB

নিয়ন্ত্রণরেখায় এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে চুপচাপ বসে নেই ভারতীয় বাহিনীও। পাকিস্তানের তরফ থেকে আসা প্রতিটি প্ররোচনার জবাব দেওয়া হচ্ছে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানাচ্ছে, গত কয়েকমাসে ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়েছে জঙ্গিরা। ভারতীয় সেনা ক্যাম্পের উপর নজরদারি চালানো, উপত্যকার জঙ্গি ঘাঁটিগুলিতে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য ড্রোনের সাহায্যই নিচ্ছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি। কয়েকমাস আগেও পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক ও অস্ত্র পাচার করা প্রায় রুটিনে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। ভারতীয় সেনার তৎপরতায় ড্রোনের আনাগোনা কিছুটা কমলেও বন্ধ হয়নি। সশস্ত্র ড্রোন ভারতীয় আকাশসীমায় পাঠানোর জন্য নানা ফন্দি-ফিকির খুঁজছে পাক জঙ্গিরা। তবে ভারতও তৈরি। শত্রুসেনার যে কোনও হামলা রুখে দেওয়ার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির সশস্ত্র ড্রোনও আছে ভারতের হাতে। শত্রুসেনার ড্রোন ধ্বংস করার জন্য আরও বেশি অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম সীমান্তে মোতায়েন করার তোড়জোড় চলছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More