বাংলাদেশের হিরো আলমকে দেখতে হলের বাইরে ভিড়, ভিতরে ভোঁ-ভাঁ

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ নাম তাঁর হিরো আলম। নামেই যাঁর হিরো রয়েছে, কাজে তাঁর না হলে কি হয়। আর তাই একসময় সিডি বিক্রি করা থেকে আজকে নায়কের ভূমিকায় উঠে এসেছেন তিনি। করোনা সংক্রমণের মধ্যেই তাঁর প্রযোজিত ও অভিনীত ছবি মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশে। ছবির নাম ‘সাহসী হিরো আলম।’ ছবি মুক্তির পরে বসে থাকার সময় নেই অভিনেতার। নিজের প্রাডো গাড়িতে চেপে একের পর এক হলে ঘুরছেন তিনি। যেখানেই তিনি যাচ্ছেন সেখানেই তাঁকে ঘিরে ধরছে উৎসাহী জনতা। হলের বাইরে ভিড় হলেও হলের ভিতরটা কিন্তু একদম ফাঁকা। হাতে গোণা দর্শক আসছেন ছবি দেখতে।

করোনা সংক্রমণের জন্য ২১১ দিন বন্ধ থাকার পরে গত ১৬ অক্টোবর বাংলাদেশে সিনেমা হল খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখনও অনেক হলে বন্ধ থাকলেও খুলেছে কিছু হল। আর তার মধ্যেই অন্তত ৩৯ টি হলে মুক্তি পেয়েছে ‘সাহসী হিরো আলম।’ হল মালিকরা হিরো আলমের ছবি রিলিজ করার সাহস দেখালেও দর্শকরা তা গিয়ে দেখার সাহস পাচ্ছেন না। তার ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। ফাঁকা হলেই চলছে ছবি।

করোনা কালে এতদিন বন্ধ থাকার পরে এই ছবির মুক্তি মানতে পারেননি ঢাকার আনন্দ ও ছন্দ হলের ডিস্ট্রিবিউটর মহম্মদ শামসুদ্দিন। তিনি সাফ বলেন, “এতদিন পরে লোকে সিনেমা হলে এসে এই ছবি দেখলে দ্বিতীয়বার কেন আসবে বলুন? আমি জানি না কারা এইসব সিনেমাকে মুক্তি দেয়। এর থেকে পুরনো সিনেমা চালালেও বোধহয় ভাল হত। হলের বাইরে ভিড় আর ভিতর খালি। নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে সিনেমা চালাতে হচ্ছে। এটা ভাবা যায়।”

তাতে অবশ্য তাপ-উত্তাপ নেই হিরো আলমের। নিজের প্রাডো গাড়ি নিয়ে এক হল থেকে অন্য হলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। যেখানেই তিনি যাচ্ছেন, লোকে ঘিরে ধরছে তাঁকে। সেলফি তোলার আবদার করছে। কিন্তু হলের ভিতরে গিয়ে ছবি দেখছে না। তার ফলে লোকসানেই চলতে হচ্ছে ডিস্ট্রিবিউটারদের।

কিন্তু কে এই হিরো আলম?

একসময় বগুড়ার এরুলিয়া গ্রামে সিডি বিক্রি করতেন হিরো আলম। সেই ব্যবসা মার খাওয়ায় কেবলের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। তারপরে নিজের গানের ভিডিও তৈরি করতে থাকেন তিনি। ইউটিউবে প্রায় ৫০০ গানের ভিডিও প্রকাশ করার পরে আলোচনা শুরু হয় তাঁকে নিয়ে। যদিও তাঁকে নিয়ে কৌতুকও হত বেশি। কোনও ট্রল নিয়ে অবশ্য মাথা ঘামাননি তিনি। ছবিতে অভিনয় করার কাজ শুরু করেন। প্রযোজনাও করেন নিজে। গত নির্বাচনে প্রার্থীও হয়েছিলেন হিরো আলম। কিন্তু হারতে হয়েছিল তাঁকে। তাতেও অবশ্য দমিয়ে রাখা যায়নি তাঁকে। নিজের ছবি নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন তিনি।

সিনেমা হল নিয়ে খানিকটা একই অবস্থা কিন্তু এপার বাংলাতেও। পশ্চিমঙ্গেও ১৫ অক্টোবর থেকে সিনেমা হল খুলেছে। কিন্তু এখনও অনেক মাল্টিপ্লেক্স বন্ধ। যেগুলি খুলেছে তার মধ্যে অনেক হলেই পুরনো ছবি দেখানো হচ্ছে। নতুন ছবি মুক্তি দেওয়ার সাহস এখনও দেখাতে পারছেন না মালিকরা। উৎসবের মরসুম হলেও এখনও হলে ভিড় তেমন হচ্ছে না। দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনাও অনেকটা কম।

যদিও হল মালিকরা জানাচ্ছেন, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি ভাল হবে। হলগুলিতে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। নির্ভয়ে দর্শকদের আসার আবেদন করা হচ্ছে। অবশ্য এখনও দর্শকের সংখ্যা অনেকটা কম। যদিও আগামী দিনে পরিস্থিতি ভাল হবে বলেই আশা করছেন তাঁরা। আর তাই নতুন ছবি রিলিজের আগে জল মেপে এগোতে চাইছেন প্রযোজকরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More