জেনে রাখুন, কলকাতায় কোভিড চিকিৎসায় অনেক ওষুধই পাওয়া যাচ্ছে না

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় কোভিড অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা রোজই প্রায় লাফিয়ে বাড়ছে। গোটা রাজ্যে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ও ক্রিটিকাল পেশেন্টের সংখ্যাও বাড়ছে হু হু করে। তার মধ্যে কঠিন বাস্তব হল, কলকাতায় কোভিডের চিকিৎসায় অনেক ওষুধই পাওয়া যাচ্ছে না। সেই ওষুধ হাসপাতালের কাছে নেই। কলকাতায় কোনও ওষুধের দোকান, স্টকিস্ট, ডিস্ট্রিবিউটারের কাছে নেই। এমনকি সরকার ও স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আমলাদের কাছে এ ব্যাপারে সাহায্য প্রার্থনা করলেও হাত তুলে দেওয়া হচ্ছে।

কখনও বা বলা হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি স্থানীয় কোভিড নোডাল অফিসারকে মেল করলে ওষুধ সেই হাসপাতালে পাঠানো হবে। কিন্তু তাতেও কোনও সুরাহা হচ্ছে না।

যেমন, সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক তরুণ কোভিড আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন। তাঁর শরীরে কোমর্বিডিটি রয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁকে পাঁচ ডোজ রেমডিসিভির দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর শরীরে কোভিডের সংক্রমণের কারণে সাইটোকিন স্টর্ম হচ্ছে। তাঁকে ইমিউনোগ্লবোনি দিতে হবে। কিন্তু কলকাতায় কোথাও ইটুলিজুমাব বা টোসিলিজুমাব ভায়াল পাওয়া যাচ্ছে না। এই রোগীর বিষয়টি কোনও ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। কোভিডে আক্রান্ত হয়ে অনেকের শরীরেই এমন অবস্থা হচ্ছে। ফলে এই ওষুধটি অপরিহার্য হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া রেমডিসিভির ওষুধের কালোবাজারির অভিযোগ তো রয়েছেই। এও অভিযোগ যে কালোবাজারে তা বহুগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।

কলকাতায় অক্সিজেন সরবরাহের যে ঘাটতি রয়েছে সে কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেছেন। তিনি আবার বলেছেন, এখানকার অক্সিজেন উত্তরপ্রদেশে চলে যাচ্ছে। সে সবের পাশাপাশি কোভিড চিকিৎসার ওষুধ বা ইঞ্জেকশনের সংকট উদ্বেগ বাড়িয়েছে শহরে।

গত সপ্তাহেই সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল যে কোভিড চিকিৎসায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের বেড বাড়ানো হবে। সেই সঙ্গে সেফ হোমের সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু শহরে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড বেডের আকাল নিয়ে ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে। আবার অন্য রোগের চিকিৎসাও ধাক্কা খাচ্ছে। কারণ, হাসপাতাল কোভিড টেস্ট ছাড়া কোনও রোগীকে ভর্তি করছে না। আবার কোভিড টেস্টের পরিকাঠামোর অভাবও স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চাইলে যে কোনওদিন টেস্ট করানো যাচ্ছে না। টেস্টের জন্য যোগাযোগ করলে কোথাও কোথাও ৪৮ ঘণ্টা পর অ্যাপয়ন্টমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। কলকাতার সরকারি হাসপাতালের বাইরে কোভিড টেস্টের জন্য গিয়ে রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিতে হচ্ছে।

সার্বিক এই পরিস্থিতিতেও কলকাতায় অনেকেই সতর্ক ও সচেতন যে নন তাও স্পষ্ট। রাস্তা ঘাটে এখনও অনেককেই মাস্ক ছাড়া ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। তা ছাড়া কোভিড বিধি মেনে চলার ব্যাপারে গা ছাড়া ভাব রয়েছে। এই মনোভাব যে সংকট আরও তীব্র করে তুলতে পারে সে বিষয়ে কোনও সংশয় নেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More