আলিপুরদুয়ারে মানসিক ভারসাম্যহীনকে গণপিটুনির হাত থেকে বাঁচালেন একদল যুবক

দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: ছেলেধরা সন্দেহে আটক এক ব্যাক্তিকে প্রাণে বাঁচিয়ে নজির তৈরি করলেন আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লকের পলাশবাড়ি এলাকার যুবকেরা। আর মারমুখী জনতার হাত থেকে ওই ব্যক্তিকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেদের পিঠেও কিল-চড়-ঘুঁষি পড়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

ছেলেধরা সন্দেহে আটক ওই মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যাক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে পেরেছেন যুবকেরা। পুলিশ আক্রান্ত ব্যাক্তিকে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনা ঘটেছে আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লকের পলাশবাড়ি এলাকায়। স্থানীয় যুবক ললিত দাস বলেন, “ওই ব্যাক্তিকে নিয়ে আমাদেরও সন্দেহ হয়েছিল। কিন্তু জনতা আইন নিজেদের হাতে নিয়ে ওঁকে মারধর করুক, এটা আমরা চাইছিলাম না। সেই কারণেই আমরা রুখে দাঁড়িয়েছিলাম। আমরাও মার খেয়েছি। কিন্তু সেটা কোন বিষয় নয়। ওঁকে যে আমরা উদ্ধার করতে পেরেছি সেটাই বড় বিষয়।”

উল্লেখ্য আলিপুরদুয়ারে লাগাতার ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। এমনকী, আক্রান্ত ব্যাক্তিকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশকে একাধিকবার আক্রমণ করেছে উত্তেজিত জনতা। কিন্তু উত্তেজিত জনতার হাত থেকে এভাবে আটক ব্যাক্তিকে উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনা গোটা রাজ্যেই নজিরবিহীন বলে মনে করছেন পলাশবাড়ি এলাকার মানুষেরা।

এদিন সকাল থেকে এক অপরিচিত ব্যাক্তিকে এলাকায় ভিক্ষে করতে দেখা যায়। সন্ধ্যার পর ওই ব্যাক্তিকে দেখে এলাকার লোকেদের সন্দেহ হয়। তখন প্রায় দুই হাজার মানুষ অপরিচিত ওই ব্যাক্তিকে আটক করে মারধর করতে উদ্যত হয়। কিন্তু স্থানীয় যুবক ললিত দাসের নেতৃত্বে একদল যুবক রুখে দাঁড়ান। তাঁরাই ওই ব্যাক্তিকে উদ্ধার করে নিজেরাই মারুতি গাড়ি ভাড়া করে শিলবাড়ি হাট পুলিশ ফাঁড়িতে পৌঁছে দেন। এদিকে এই ঘটনার পর মারমুখী জনতা শিলবাড়ি হাট পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। আটক ব্যাক্তিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি তোলে জনতা। কিন্তু আলিপুরদুয়ার থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ললিতদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী। তিনি বলেন, “অসাধারণ কাজ করেছেন ললিত ও তাঁর সঙ্গে অন্য ছেলেরা। কিন্তু আমরা প্রত্যেক গ্রামে এই রকম একজন করে ললিত দেখতে চাই। ওই ব্যাক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন। তাঁকে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। কেউ ওই ব্যাক্তিকে মারধর করতে পারেননি। আমরা লাগাতার ছেলেধরা গুজবের বিরুদ্ধে সচেতনতা শিবির করেছি। মানুষ সচেতন হচ্ছেন জেনে খুব ভালো লাগছে। সুস্থ হলে ওই ব্যাক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More