সমস্ত পুরসভা থেকে প্রশাসকদের সরাতে হবে, নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি মুকুল-কৈলাসের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের ১২৫ টি পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সেখানে ভোট করায়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। বরং সেখানে প্রশাসক বসিয়ে রাখা হয়েছে। যাঁরা অধিকাংশই বিদায়ী বোর্ডের চেয়ারম্যান। বাকি যাঁরা রয়েছেন তাঁরাও শাসক দলের কাছের লোক বলে পরিচিত।

বিধানসভা ভোটের আগে এই সমস্ত প্রশাসককে পুরসভা থেকে বরখাস্ত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানালেন সর্বভারতীয় বিজেপির সহ সভাপতি মুকুল রায় ও সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরার সঙ্গে দেখা করেন মুকুল-কৈলাস। তার পর কমিশন থেকে বেরিয়ে মুকুলবাবু বলেন, আমার এত বছরের রাজনৈতিক জীবনে এমন অনিয়ম আমি কোনও কালে দেখিনি। সাংবিধানিক রীতিনীতি, চক্ষুলজ্জা, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা—সব শিকেয় তুলে দিয়েছে। এমন প্রশাসন বাংলায় কখনও ছিল না। স্রেফ রাজনীতির স্বার্থে মানুষের পরিষেবা নিয়ে পর্যন্ত আপস করেছে তৃণমূল। যাতে বিধানসভা ভোটের সময়ে পুরসভায় দলের প্রশাসক বসিয়ে গোটা ভোট প্রভাবিত করতে পারে।

মুকুলবাবুর কথায়, বাংলায় পুরসভা এলাকায় ২ কোটি মানুষ বসবাস করেন। এই ২ কোটি মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। এই অনিয়ম কমিশন বন্ধ করুন।
ঘটনাচক্রে এদিন দুপুরেই কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের পুর প্রতিনিধিদের নিয়ে তৃণমূল ভবনে বৈঠক করেছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। যাঁরা নিজের নিজের ওয়ার্ডে বিধানসভা ভোটে লিড দিতে পারবে সেই সব ওয়ার্ড ১ কোটি টাকা করে উন্নয়নের জন্য ইনাম পাবে।
পুরমন্ত্রী এ কথা প্রকাশ্যে বলেননি। কিন্তু পোড় খাওয়া রাজনীতিক মুকুল রায়দের মতে, এটা শুধু কলকাতায় থেমে থাকবে না, জেলায় জেলায় ছড়াবে। তৃণমূল এ ভাবে ভোট প্রভাবিত করতে চাইবে। তিনি আরও বলেন, বাংলার মানুষকে একটা কথা বুঝতে হবে, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও এই সরকার ১২৫ পুরসভায় ভোট করায়নি। অর্থাৎ পুরসভাগুলো মানুষকে ঠিকমতো পরিষেবা দিতে পারেনি। মানুষের কথা শোনার জন্য, সমস্যা দূর করার জন্য ১ বছর ধরে এই সব পুরসভায় কোনও নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই।

অন্যদিকে কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, “আমফানের পরের কথা মনে আছে তো! দশ দিন ধরে কলকাতায় জল, বিদ্যুৎ ছিল না। সেদিন তৃণমূলের অধিকাংশ কাউন্সিলরকে খুঁজে পাননি স্থানীয় মানুষ। সাধারণের দুর্ভোগের সময়ে তাঁদের টিকির নাগাল পাওয়া যায়নি। তার জবাব দিতেই হবে এবার”।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More