বিজেপি বিধায়করাও শপথ নিলেন হেস্টিংসে, ভোকাল টনিক দিলেন জগৎপ্রকাশ নাড্ডা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার সকালে রাজভবনে যখন মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ বাক্য পাঠ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিকই সেই সময়েই হেস্টিংসে দলীয় দফতরে শপথ পাঠ করানো হল বিজেপি বিধায়কদেরও। তার পর নব নির্বাচিত বিধায়কদের গঠনমূলক বিরোধীর ভূমিকা পালনের জন্য কার্যত ভোকাল টনিক দিলেন সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা।

এই শপথ বাক্য পাঠ একেবারেই দলের অভ্যন্তরীণ কর্মসূচি। এর সঙ্গে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু কী শপথ নিলেন বিজেপি বিধায়করা? কেন শপথ নিলেন?

বিজেপি বিধায়কদের এদিন শপথ পাঠ করান রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দলের বিধায়করা যাতে মানুষের অধিকারের জন্য কাজ করেন, সাংবিধানিক রীতি মেনে চলেন, বাবা সাহেব আম্বেদকরের দেখানো পথে চলেন ইত্যাদি বিষয়ই ছিল শপথের প্রতিপাদ্য।

তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এই শপথ পাঠের অর্থ হয়তো ছিল ভিন্ন। বাংলায় রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে পথ চলার সংস্কৃতি ক্ষয়িষ্ণু। ভোটের আগেই আয়ারাম-গয়ারাম পর্ব দেখা গিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের রাত থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে এই আলোচনা চলছে যে বিজেপি তাদের বিধায়কদের ধরে রাখতে পারবে তো!

গত বিধানসভা ভোটে বাংলায় ৭৭টি আসনে জিতেছিল কংগ্রেস ও বামেদের জোট। এ বার বিজেপি ঠিক সেই সংখ্যক আসনে জিতেছে। কিন্তু গতবার ভোটের পর দেখা যায়, ভোটের দু’মাস পর থেকেই বাম-কংগ্রেস শিবির থেকে বিধায়করা বেরিয়ে গিয়ে তৃণমূলে সামিল হতে শুরু করেছেন। সেই প্রবণতা এবারও দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে দলের বিধায়কদের ধরে রাখাও বিজেপির কাছে এ বার কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

সেই প্রেক্ষাপটেই এদিন দলীয় বিধায়কদের উদ্দেশে বক্তৃতা দেন জেপি নাড্ডা। তিনি বলেন, বিজেপি যথার্থ বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। বাংলায় রাজনৈতিক হিংসা, অনুন্নয়ন, তোষণের রাজনীতির বিরুদ্ধে বিজেপির লড়াই ছিল। সেই লড়াই অব্যাহত থাকবে। শাসক দলের কোনও হুমকি বা দমন নীতির সামনে কোনও ভাবেই মাথানত করবে না।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More