হাওয়ায় ভেসে ছড়াবে না করোনা, বাঁচবেন বিমানযাত্রীরা, ‘এয়ার ফিল্টার’ বানাচ্ছে বোয়িং

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাতাসে ভাসমান জীবাণু, ধুলো-বালি সবই আটকে দেবে। এমন একধরনের ফিল্টার বানাচ্ছে আলাস্কা এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭-৯। করোনার সময় বিমানযাত্রা কতটা সুরক্ষিত সে নিয়ে বারে বারেই প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পাশাপাশি বসা যাত্রীদের থেকে সংক্রমণ ছড়াবার ভয়ও রয়েছে। পাশাপাশি দুই আসনের মাঝে দূরত্ব রেখে বসলেও গোটা বিমানের ভেতরে হাওয়া চলাচলের সময় ভাইরাসের কণা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। সেই কারণে এমন একধরনের এয়ার ফিল্টার তৈরি হচ্ছে যা বিমানের ভেতরের বাতাস পরিশোধন তো করবেই, পাশাপাশি হাওয়ায় ভেসে থাকা যে কোনও সূক্ষ্ম কণাকে শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকতে বাধা দেবে।

বিমানসংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ‘এয়ার কার্টন’  টেকনোলজির সাহায্যে একটা অদৃশ্য পর্দা তৈরি করা হবে পাশাপাশি বসা যাত্রীদের মাঝে। এই কার্টন বা পর্দা ফিল্টারের কাজ করবে। বাতাসের ভেসে থাকা দূষিত কণা, জীবাণু বা শ্বাসের সঙ্গে বেরিয়ে আসা ছোট ছোট জলকণা, এইসব আটকাতে পারবে এই এয়ার ফিল্টার।

Air curtain' designed to protect plane passengers from COVID-19 - Springwise

পুরোনো কিংবা ছোট বিমানে সাধারণত এইচইপিএ ফিল্টারের সুবিধা থাকে না। বিমানের বাতাস যদি ফিল্টার করার সুবিধা না থাকে তাহলে যাত্রী, বিমানের ক্রু এবং স্টাফদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। কারণ বিমানের মধ্যে যদি একজনও করোনা আক্রান্ত থাকে তাহলে তা অন্য সবাই সহজেই আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন। আর গবেষকরা বলেছেন, করোনাভাইরাস বাতাসের অ্যারোসলে ভেসে দ্রুত ছড়াতে পারে।

18 cabin ideas to boost airline passenger confidence during Covid - Aircraft Interiors International

মানুষের নাক ও মুখ থেকে বেরনো জলকণায় ভাইরাল স্ট্রেন মিশে থাকতে পারে। এই জলকণা যখন বাতাসের সংস্পর্শে আসে তখন জলীয় বাষ্পে ভরাট হয়ে আরও বড় জলকণা তৈরি করে। একে এয়ার ড্রপলেট বলে। এই ড্রপলেটে ভেসে ভাইরাল স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়তে পারে। এখন এই এয়ার ড্রপলেট বা বাতাসে ভাসমান ভাইরাস জলকণা কতদূর অবধি ছড়াতে পারে বা বাতাসে কতক্ষণ টিকে থাকতে পারে সেটা নির্ভর করে নানা ফ্যাক্টরের উপরে। যেমন হাওয়ার গতি, হাওয়ার দিক, বাতাসের আর্দ্রতা, জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ইত্যাদি।

বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন, এই বড় জলকণাগুলো মাধ্যাকর্ষণের টানে বেশিক্ষণ বাতাসে টিকে থাকতে পারে না। অল্পসময়ের পরেই খসে যায়। তাই হাঁচি বা কাশির কারণে যে বড় ড্রপলেট তৈরি হয় তাতে ভেসেই ভাইরাস বহুদূরে ছড়িয়ে পড়বে এমনটা ভাবা ভুল। বরং ছোট কণা বা অ্যারোসল যার ব্যস ৫ মাইক্রনের কাছাকাছি, সেগুলিতে ভেসে ভাইরাস অনেকদূর অবধি যেতে পারে বলেই দাবি। এই ধরনের ছোট জলকণাকে সাধারম ফিল্টারে আটকানো যায় না। সেক্ষেত্রে এয়ার কার্টন টেকনোলজি কাজে আসে। বোয়িং জানাচ্ছে, এয়ার ফিল্টার বিমানে লাগিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। কার্যকরী হলে সমস্ত বিমানে এই সুবিধা নিয়ে আসার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More