শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

হাতি ও তাঁর মূর্তির জন্য পকেট থেকে টাকা দিতে হবে মায়াবতীকে, বলল সুপ্রিম কোর্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশের ভোটের আগে বড় ধাক্কা খেলেন মায়াবতী।

লখনউ থেকে নয়ডা- বিপুল আয়তনের সরকারি জমি ঘিরে যখন একের পর এক পার্ক বানাচ্ছিলেন মায়াবতী, এবং সেখানে পাল পাল হাতির মূর্তি ও নিজের মূর্তি বসাচ্ছিলেন, তখনই সমালোচনার ঢেউ উঠেছিল। হাতি বহুজন সমাজ পার্টির নির্বাচনের প্রতীক। তবে মায়াবতীর তরফে বলা হয়েছিল, সেগুলি দলিতদের ক্ষমতায়ণ আর উত্থানের প্রতীক। এ জন্য সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ করেছিল উত্তরপ্রদেশের বহুজন সমাজ পার্টির সরকার।

কিন্তু শুক্রবার, সুপ্রিম কোর্ট এক মাইলফলক রায়ে এই রাজনীতির উপর যেন কষাঘাত করল। সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ জানিয়ে দিলেন, সরকার তথা জনগণের টাকা এ ভাবে নিজের রাজনৈতিক প্রচারের জন্য খরচ করা যায় না। ওই সব হাতির মূর্তি এবং মায়াবতীর মূর্তি বানাতে ও বসাতে যা খরচ হয়েছে তা দলিত নেত্রীকেই দিতে হবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, মোটামুটি ভাবে আমাদের এটাই মত যে সব টাকা মায়াবতীকে তাঁর নিজের পকেট থেকেই দিতে হবে। 

উত্তরপ্রদেশে ২০০৭ সালে প্রায় তিন চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ে লখনউ-র তখত দখল করেছিলেন মায়াবতী। তার পর তাঁকে আর পায় কে! মায়াবতী আর হাতির মূর্তি বানাতে যখন বল্গাহীন ভাবে টাকা খরচ করছে উত্তরপ্রদেশ সরকার, তখন বিরোধীরা গোড়ায় সমালোচনা করেছিল ঠিকই। রাজনৈতিক ভাবে এও আতঙ্ক ছিল, দলিতরা তাঁদের উপর চটে যেতে পারে। এমনকি পরবর্তী কালে উত্তরপ্রদেশে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকারে এলেও ওই মূর্তিগুলিতে হাতও দেননি মুলয়াম সিংহ পুত্র অখিলেশ যাদব।

তবে দুই আইনজীবী রবিকান্ত ও সুকুমার সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, সাধারণ মানুষের টাকা নির্লজ্জ ভাবে খরচ করা হচ্ছে স্রেফ রাজনৈতিক লাভের জন্য। শুক্রবার ওই মামলার শুনানিতে বসপা নেত্রী সম্পর্কে কড়া কথা শোনান বিচারকরা। প্রধান বিচারপতি ছাড়াও তিন সদস্যের ওই বেঞ্চে রয়েছেন, বিচারপতি দীপক গুপ্ত ও সঞ্জীব খান্না।

এ দিন শুনানির সময় বসপার তরফে আইনজীবীরা অনুরোধ করেন, মামলার শুনানি যাতে পিছিয়ে মে মাসে করা হয়। শুনে বিচারপতিরা বলেন, এমন কিছু করবেন না, যাতে যেটা বলতে চাই না, সেটাই বলতে হয়।

মূর্তি নির্মাণের খরচ মায়াবতীর থেকে আদায়ের ব্যাপারে মোটামুটি ভাবে মত প্রায় পাকা করে ফেললেও চূড়ান্ত রায় এ দিন ঘোষণা হয়নি। এপ্রিল মাসের ২ তারিখ পরবর্তী শুনানি হবে। বলতে গেলে প্রায় ভরা ভোটের মাঝে।

স্বাভাবিক ভাবেই সুপ্রিম কোর্টের এ দিনের পর্যবেক্ষণ জাতীয় রাজনীতির দুই যুযুধান দলকেই অক্সিজেন দিয়েছে। বিজেপি-র মুখপাত্র জেভিএল নরসিংহ রাও বলেন, আঞ্চলিক দলের নেতা নেত্রীদের এই এক ব্যামো। সরকারি টাকা খরচ করে শুধু নিজের প্রচার। এটা বলতে পারবে না যে বিজেপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে। আদালতের এই রায়কে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।

উত্তরপ্রদেশে এ বার মায়াবতী-অখিলেশ জোট হয়েছে। কংগ্রেস জোটে নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণের পর খুশি কংগ্রেস নেতারা। যদিও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য এখনও করেননি কংগ্রেস নেতারা। তবে ঘরোয়া আলোচনায় বলছেন, আদালতের এই পর্যবেক্ষণ সমাজের জন্য ভাল। 

Shares

Comments are closed.