করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি ‘ম্যানমেড’, হাসপাতালে বেয়াদবি করলে বার করে দেব, হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্য আধিকারিকের

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: মানুষকে স্বাস্থ্য বিধি মানার জন্য কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন করোনা বিষয়ক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার সুশান্ত রায়। তাঁর মতে, ”এবারের করোনা সংক্রমণ একেবারেই ”ম্যানমেড”। তাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যদি কেউ বেয়াদবি করে, তবে তাঁর চিকিৎসা না করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হবে।”

কিছু আগেই ডাক্তার সুশান্ত রায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার সভা ও মানুষের বেপরোয়া আচরণকে দায়ী করে ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ”লাগাম না ধরলে করোনা সংক্রমণ হু হু করে বাড়বে। তাতে হাসপাতালে বেড বা চিকিৎসক পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়বে। তাঁর এই আশঙ্কা কয়েকদিন বাদে থেকেই বাস্তবে দেখা দিচ্ছে।”

রাজ্যে লাগামহীন ভাবে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ইতিমধ্যে জলপাইগুড়িতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী। এই অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকা করোনা আক্রান্তদের কিভাবে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হবে, তা নিয়ে সমস্যায় স্বাস্থ্য দফতর।

গত ১৭ দিনে জলপাইগুড়ি জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৭৩ জন। এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। এই মুহূর্তে জলপাইগুড়ি করোনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯৩ জন। আজ ফের নতুন করে আরও প্রচুর করোনা আক্রান্তের খবর আসায় স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে চিন্তিত স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।

ঘটনায় করোনা সংক্রান্ত উত্তরবঙ্গের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ডাক্তার সুশান্ত রায় জানান, ” আমরা বারবার স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে এসেছি। কিন্তু মানুষ আমাদের কথায় কর্ণপাত করেনি। আর এই রোগীদের পরিষেবা দিতে গিয়ে জলপাইগুড়ি জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন চিকিৎসক। যাঁদের মধ্যে মারা গেছেন ৬ জন। এছাড়া শতাধিক নার্স ও আরোও অনেক স্বাস্থ্য কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন। এই মুহূর্তে জলপাইগুড়িতে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অন্তত ৪ জন চিকিৎসক ও ৬ জন নার্স। তাই এই ”ম্যান মেড” করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসে কেউ যদি ভাঙচুর বা বেয়াদবি করলে, ডাক্তার বা স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ-মারধর করলে, তবে তাদের আমরা চিকিৎসা পরিষেবা দেব না। উলটে পুলিশ ডেকে হাসপাতাল থেকে বার করে দেব।  চিকিৎসার দায় আমরা নেব না। কারণ মাথায় রাখতে হবে হাসপাতালে বেড শেষ হয়ে গেলে বাজার থেকে বেড কিনে আনা যাবে। কিন্তু চিকিৎসক বা নার্স কোথায় কিনতে পাওয়া যায়, তা আমার জানা নেই।” পাশাপাশি তিনি কঠোর ভাবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার অনুরোধ জানান।

রবিবার দিনও জলপাইগুড়ি শহরে করোনা সংক্রান্ত স্বাস্থ্য বিধি না মানার দৃশ্য ধরা পড়েছে। এদিন জেলার বাজারে বাজারে দেখা গিয়েছে লোকজনের ভিড়। এদিনও বেশিরভাগ লোকের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। জিজ্ঞাসা করলে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি তাঁরা।

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More