কে ঠিক প্রমাণ মিলবে গলার স্বরেই! চিন্ময়ানন্দ, ধৃত ছাত্রী-সহ পাঁচজনের ভয়েস রেকর্ড চেয়ে পাঠাল আদালত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা স্বামী চিন্ময়ানন্দ এবং তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা কলেজ ছাত্রী, উভয়েরই ভয়েস রেকর্ড খতিয়ে দেখে তবেই সিদ্ধান্তে আসা যাবে ছাত্রীটি যে তথ্যপ্রমাণ জমা করেছিলেন সেগুলো সত্যি কিনা। অন্যদিকে, চিন্ময়ানন্দ ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে যে তোলাবাজি ও ব্ল্যাকমেলিং-এর অভিযোগ এনেছেন তারও ভিত্তি আছে কিনা। শনিবার এমনটাই জানিয়েছে শাহজাহানপুর জেলা আদালত। ভয়েস রেকর্ড মিলিয়ে দেখতে স্বামী চিন্ময়ানন্দ, কলেজ ছাত্রী-সহ ধৃত পাঁচজনকে আজ, রবিবার লখনউয়ের ফরেন্সিক ল্যাবে নিয়ে যাবে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)।

আদালতের নির্দেশে স্বামী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা ওই আইনের ছাত্রীকে ইতিমধ্যেই ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তাঁর জামিনের আবেদনও নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রীকে সাহায্য করার অভিযোগে তাঁর আরও তিন বন্ধু সচিন, সঞ্জয় ও বিক্রমকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। জেলা আদালতের বিচারক ওমভীর সিং জানিয়েছেন, পাঁচজনেরই ভয়েস রেকর্ড তদন্তে সাহায্য করবে। ছাত্রীর আইনজীবী অনুপ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, “লখনউয়ের ফরেন্সিক ল্যাবে যেতে রাজি ছিলেন না কেউই। তাঁদের জোর করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রমাণ বদলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

শাহজাহানপুরের বাসিন্দা ওই আইনের ছাত্রী অভিযোগ করেছিলেন, মাসের পর মাস তাঁকে ধর্ষণ এবং যৌন হেনস্থা করেছেন চিন্ময়ানন্দ। ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রেখেছিলেন। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করে চিন্ময়ানন্দর আইনজীবী পাল্টা অভিযোগ আনেন, ওই ছাত্রী পাঁচ কোটি টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন চিন্ময়ানন্দকে। সেই অভিযোগে ছাত্রীকে গ্রেফতার করে সিট। তার আগে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ঘিরে ফেলা হয়েছিল ওই ছাত্রীর বাড়ির চারপাশ।

স্বামী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে প্রমাণস্বরূপ তদন্তকারীদের কাছে ৬৪ জিবি পেনড্রাইভ জমা করেছিলেন ওই ছাত্রী। ৪২টি ভাগে সেই ভিডিও সামনে এনেছিলেন তরুণী। সেই ভিডিও যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে ফরেন্সিক ল্যাবে।

সিট প্রধান নবীন অরোরার দাবি, ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে ফরেন্সিক এবং ডিজিটাল প্রমাণ রয়েছে। তা ছাড়া, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানও ওই ছাত্ররী বিরুদ্ধে গিয়েছে। টাকা চাওয়ার কথা ছাত্রীটি স্বীকারও করেছেন বলে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। যদিও তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের অভিযোগ না এনে ওই নেতার বিরুদ্ধে অনেক লঘু অভিযোগ আনা হয়েছে যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের জেল।

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More