কেরল সোনা পাচার কাণ্ডে দাউদ-যোগ! সন্দেহ জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার

সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে উপ-দূতাবাসের মাধ্যমে কেরলের তিরুঅনন্তপুরমে সোনা পাচারের ঘটনায় কূটনৈতিক সুরক্ষাকবচ ছিল বলে এতদিন দাবি করে এসেছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তদন্তকারী অফিসাররা এবার অভিযোগ তুললেন, পাচারকাণ্ডে বড়সড় যোগ থাকতে পারে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গি দাউদ ইব্রাহিমের।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরল সোনা পাচার তদন্তে নতুন মোড়।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে উপ-দূতাবাসের মাধ্যমে কেরলের তিরুঅনন্তপুরমে সোনা পাচারের ঘটনায় কূটনৈতিক সুরক্ষাকবচ ছিল বলে এতদিন দাবি করে এসেছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তদন্তকারী অফিসাররা এবার অভিযোগ তুললেন, পাচারকাণ্ডে বড়সড় যোগ থাকতে পারে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গি দাউদ ইব্রাহিমের। অন্তত অনুমান করা হচ্ছে তেমনটাই।

দুবাই থেকে সোনা পাচারকাণ্ডে আন্তর্জাতিক চক্রের জড়িত থাকার সম্ভাবনা প্রবল ছিল। এনআইএ-র দাবি, জঙ্গি কার্যকলাপের জন্যই দুবাই থেকে সোনা পাচার হচ্ছিল কেরলে। আর এই পাচারকাণ্ডে দুবাইয়ের মাফিয়া ডনের দলবল জড়িত ছিল বলেই অনুমান। এই সন্দেহের আরও একটা কারণ হল, পাচারকাণ্ডে ধৃত রামিসকে জেরা করে এমনই কিছু তথ্য পেয়েছে এনআইএ। তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, জেরায় রামিস বলেছে তাঞ্জানিয়ায় তার হিরের ব্যবসা ছিল। আমিরশাহিতে দীর্ঘদিন ধরেই সোনা বিক্রি করত সে। এই সোনাই ঘুরপথে কেরলে পাচার করা হচ্ছিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ৪ জুলাই তিরুঅনন্তপুরম বিমানবন্দরে ৩০ কেজি সোনা আটক করে শুল্ক দফতর। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে কূটনৈতিক চ্যানেলে তিরুঅনন্তপুরমে ওই সোনা এসেছিল বলে খবর ছড়ায়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সৌদি আরবের দূতাবাসের প্রাক্তন জনসংযোগ আধিকারিক সরিথ কুমারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আমিরশাহি দূতাবাসের মাধ্যমে ভারতে সোনা পাচারের ঘটনা সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয় কেরলের রাজ্য রাজনীতিতে। পাচারের ঘটনায় নাম জড়ায় মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের দফতরের এক আধিকারিকের। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী দফতরের প্রভাবশালী মহিলা কর্মী স্বপ্না সুরেশকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিরুঅনন্তপুরমে আমিরশাহি দূতাবাসের অফিসার ছিলেন স্বপ্না, পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের দায়িত্বে রয়েছে এমন একটি সংস্থাতেও কর্মরত ছিলেন।

এনআইএ দাবি করে, কূটনৈতিক চ্যানেলের সুবিধা নিয়ে দুবাই থেকে সোনা পাচারে সাহায্য করেছিলেন স্বপ্না সুরেশ। দীর্ঘদিন ধরেই ওই পাচারের কাজ চলছিল। গোয়েন্দা সূত্র এও দাবি করে ৩০ কেজি নয়, বরং দুশো কেজির বেশি সোনা পাচার করা হয়েছিল দুবাই থেকে। কূটনৈতিক রক্ষাকবচ থাকায় বিমানবন্দরে সোনা ভর্তি ব্যাগ চেকিং করাই হয়নি।

সোনা পাচারকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। পাচারকাণ্ডে নাম জড়িয়েছে আমিরশাহি দূতাবাসের আরও এক কর্মী ফয়সাল ফরিদের। তাকে ধরার জন্য আগেই ব্লু কর্নার নোটিস জারি করার জন্য ইন্টারপোলকে আর্জি জানিয়েছিল এনআইএ। তদন্তকারী অফিসাররা বলছে, যে সিন্ডিকেটটি কূটনৈতিক সুরক্ষার আড়ালে এই পাচার চক্র চালাচ্ছিল তাদের প্রত্যেককে গ্রেফতার করা হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More