সেনার জন্য ফাইটিং ভেহিকল বানাচ্ছে টাটা গ্রুপ, অস্ত্র বইবে, আইইডি বিস্ফোরণ থেকে বাঁচাবে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের পর থেকে প্রতিরক্ষার নানা অস্ত্রশস্ত্রে শান দিচ্ছে ভারত। মিসাইল পরীক্ষা হচ্ছে একের পর এক। নিউক্লিয়ার সাবমেরিন তৈরি হচ্ছে মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ওঠানামা করার মতো লাইট ওয়েট হেলিকপ্টার তৈরি করছে দেশীয় সংস্থা। এসবের মধ্যেই আর্মার্ড ফাইটিং ভেহিকলেরও চাহিদা বেড়েছে। এতদিন বিদেশ থেকে ফাইটিং ভেহিকল কিনতে হত, তাতে খরচও পড়ত অনেক বেশি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিরক্ষাতেও আত্মনির্ভরতার ডাক দিয়েছেন। কাজেই এখন দেশের সংস্থাগুলিই সেনাবাহিনীর জন্য নতুন প্রজন্মের আর্মার্ড ফাইটিং ভেহিকল তৈরি করতে উঠেপড়ে লেগেছে।

কল্যাণী গ্রুপ ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষামন্ত্রকের সঙ্গে চুক্তি করে এম-৪ আর্মার্ড ফাইটিং ভেহিকল তৈরি করছে। সম্প্রতি মাহিন্দ্রা গ্রুপের সঙ্গেও চুক্তি হয়েছে। মাহিন্দ্রা ডিফেন্স সিস্টেম লিমিটেড ১৩০০ লাইট স্পেশালিস্ট ফাইটিং ভেহিকল তৈরি করছে সেনাবাহিনীর জন্য। প্রতিরক্ষা সূত্রেই খবর পাওয়া গেছে, টাটা গ্রুপও হাল্কা ওজনের আইআইডি-প্রুফ ফাইটিং ভেহিকল তৈরির জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছে। যে কোনও বুলেট প্রতিরোধী এই ফাইটিং ভেহিকল বিস্ফোরণের ধাক্কা থেকেও সেনা জওয়ানদের বাঁচাতে পারবে। পাশাপাশি অস্ত্রশস্ত্রও বয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

Kalyani Vehicles spotted at the Ladakh : IndianDefense

আর্মার্ড ফাইটিং ভেহিকল সেনাবাহিনীর বড় হাতিয়ার। যদি নতুন প্রজন্মের ফাইটিং ভেহিকল হয় তাহলে তার প্রযুক্তি হবে বেশ উন্নত। পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চিনের সেনা আর নিয়ন্ত্রণরেখা তথা এলওসি-তে পাক বাহিনী যেভাবে আস্ফালণ করছে তাতে সেনাবাহিনীর হাতে এমন সশস্ত্র ভেহিকল থাকা খুবই প্রয়োজন। জঙ্গিরা এখন সেনা কনভয়ে আত্মঘাতী হামলা চালানোর ছক কষছে। কিছুদিন আগেই পুলওয়ামা ধাঁচে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ছক ভেস্তে দেয় কাশ্মীর পুলিশ। তার আগে সেনা কনভয়ে মাইন পুঁতে বিস্ফোরণের চেষ্টা করেছিল জঙ্গিরা। মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে প্রায়ই শোনা যায় সিআরপিএফের কনভয়ে মাইন ফেটে জওয়ানদের মৃত্যু হয়েছে। এই বিস্ফোরণের ধাক্কা সামলানোর জন্যই এম-৪ ক্যাটেগরির হাল্কা ওজনের ফাইটিং ভেহিকল তৈরির দিকে ঝুঁকেছে প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি।

Indian Army Armored Vehicles | Page 154 | Indian Defence Forum

জানা গিয়েছে, মাহিন্দ্রার মতো টাটা গ্রুপও এমন গাড়ি বানাচ্ছে যা হাল্কা ওজনের, কিন্তু গতি বেশি। লাদাখের মতো দুর্গম পাহাড়ি এলাকাতেও ছুটতে পারবে এই গাড়ি। লাইট স্পেশালিস্ট ভেহিকল যা অস্ত্র বয়ে নিয়ে যেতে পারে। এই আর্মার্ড ভেহিকল থেকে মিডিয়াম রেঞ্জের মেশিনগান, অটোমেটিক গ্রেনেড লঞ্চার ও অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইলও বয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। স্টিল-কোর বুলেট ভেদ করতে পারবে না এই ফাইটিং ভেহিকলকে। জইশ জঙ্গিদের হাতে এখন চিনের তৈরি স্টিল-কোর বুলেটই বেশি। সাধারণ বুলেটের থেকে শক্তিশালী এই গুলি যে কোনও গাড়ি বা বুলেট-প্রুফ জ্যাকেটকে ভেদ করে চলে যেতে পারে। তাই ভারতীয় সেনার হাতে এমন ফাইটিং ভেহিকল থাকা দরকার যা স্টিল-কোর বুলেট প্রতিরোধী হবে।

Indian Army To Acquire New Armoured Vehicles For Ladakh; Tata Competes  Against US' Stryker and Humvee

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এম-৪ আর্মার্ড ভেহিকল টিএনটি বা আইইডির মতো শক্তিশালী বিস্ফোরণেও দুমড়ে মুচড়ে যাবে না। গ্রেনেড হামলা ঠেকাতে পারবে। উঁচু পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র ও সেনার রসদ বয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে এই গাড়িতে।

DEFENCE Master India Pvt Ltd | Indian Defence Companies

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রিমোর্ট চালিত সাঁজোয়া গাড়িও তৈরি হচ্ছে ভারতে। ‘সুরান’ (SOORAN) এই সাঁজোয়া গাড়ি নতুন অস্ত্র হতে চলেছে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে। ‘আনম্যানড’ এই গাড়ির ডিজাইন ও প্রযুক্তির ভাবনা ডিফেন্স মাস্টার ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের। ৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের এই গাড়িটি চালনা করা যাবে কন্ট্রোল রুম থেকে। আবার প্রয়োজনে রিমোট কন্ট্রোল এবং মোবাইল থেকেও অপারেট করা যাবে এই সাঁজোয়া গাড়িকে। পেট্রল ইঞ্জিন রয়েছে এই গাড়িতে। এর কার্যক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স। গাড়ির নেভিগেশন, অস্ত্র চালনা, নিশানা স্থির করা, আচমকা আক্রমণ হলে তাকে প্রতিরোধ করা, শত্রুপক্ষের গুলি, মিসাইল রুখে দেওয়া—এই সাঁজোয়া গাড়ির কাজ অনেক।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More