লকডাউনে বাংলাকেই গ্রাম-গরিব খাতে সবথেকে বেশি টাকা দিয়েছে মোদী সরকার

মার্চ মাসের ২৫ তারিখ থেকে লকডাউন শুরু হয়েছে দেশে। দেখা যাচ্ছে, মার্চ থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত মূলত ৬ টি প্রকল্প খাতে সবকটি রাজ্যকে মোট ৪৯,২৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে ৫৯২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের সময়ে গ্রামীণ প্রকল্প খাতে পশ্চিমবঙ্গই সব থেকে বেশি টাকা পেয়েছে কেন্দ্র থেকে। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের পরিসংখ্যানই সেই দাবি করছে।

মার্চ মাসের ২৫ তারিখ থেকে লকডাউন শুরু হয়েছে দেশে। দেখা যাচ্ছে, মার্চ থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত মূলত ৬টি প্রকল্প খাতে সবকটি রাজ্যকে মোট ৪৯,২৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে ৫৯২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।

পশ্চিমবঙ্গের পরই সবথেকে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে বিহার। পূর্বের এই পড়ছি রাজ্য ৫২৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। তুলনায় বরং অনেক কম বরাদ্দ পেয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি। যেমন মধ্যপ্রদেশ এই ৬টি প্রকল্প খাতে পেয়েছে ৪৯৭৪ কোটি টাকা। উত্তরপ্রদেশ পেয়েছে ৪৬৩৬ কোটি টাকা। তা ছাড়া ওড়িশা পেয়েছে ৪৫৩৫ কোটি টাকা। সব থেকে কম বরাদ্দ পেয়েছে গোয়া। পশ্চিম উপকূলের এই ছোট রাজ্যটি মাত্র ২.১ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে।

গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের এক যুগ্ম সচিব বলেন, যেহেতু লকডাউনের জন্য বহু মানুষ সাময়িক ভাবে কাজ হারিয়েছেন, সেই কারণে মন্ত্রকের ফোকাসও ছিল গ্রামীণ কর্মসংস্থানের উপর। তাই মূলত, একশ দিনের কাজ প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি আরবান মিশন, ন্যাশনাল সোশ্যাল অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রাম, ন্যাশনাল রুরাল লাইভলিহুড মিশন তথা আজীবিকা প্রকল্প এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী একশ দিনের কাজ প্রকল্প খাতে সব থেকে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে উত্তরপ্রদেশ। এই প্রকল্প খাতে উত্তরপ্রদেশ পেয়েছে ২৫৯০ কোটি টাকা। অন্ধ্রপ্রদেশ পেয়েছে ১৯৬৩ কোটি টাকা। বিহার পেয়েছে ১৭৪৩ কোটি টাকা।

আবার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় সব থেকে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে ওড়িশা। ওই খাতে ওড়িশা ২৮০৩ কোটি টাকা পেয়েছে। তবে এই ছটি প্রকল্প মিলিয়ে মোট বরাদ্দ সবথেকে বেশি বাংলাই পেয়েছে। তার পর রয়েছে বিহার।

সদ্য বিহারে বিধানসভা ভোট শেষ হয়েছে। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সেখানে শেষমেশ জিতেছে বিজেপি-নীতীশ কুমার জোট। এর পরই ভোট রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। বিজেপির লক্ষ্যও তাই। তবে তার সঙ্গে এই বরাদ্দের কোনও যোগাযোগ রয়েছে কিনা তা স্পষ্ট করে বলা যায় না।
এখন প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গ কি এতে খুশি? এমনিতে লকডাউনের সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার অভিযোগ করেছেন কেন্দ্র থেকে কোনও সাহায্য রাজ্য পাচ্ছে না। তা ছাড়া জিএসটির ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্য টাকা কেন্দ্র দিচ্ছে না বলেও সরব ছিল নবান্ন।

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ বরাবরই বাংলার রাজনীতির অস্ত্র ছিল। অতীতে বামেরা তা আকছার করতেন। আর সে সময়ে কেন্দ্রের ধরা বাঁধা বক্তব্য থাকত, প্রকল্প খাতে অর্থ খরচের রিপোর্ট দেয় না রাজ্য। একমাত্র দ্বিতীয় ইউপিএ জমানার প্রথম দিকে কিছুটা সময়ে এই চাপানউতোর বন্ধ ছিল। কারণ, তখন কেন্দ্রে জোট শরিক ছিল তৃণমূল। পরে অবশ্য সেই সরকারের মধ্যমেয়াদে তৃণমূল সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়।

কিন্তু বাস্তব হল, ইউপিএ সরকারের আমলেও গ্রামোন্নয়ন খাতে ভাল মতো বরাদ্দ পেয়েছিল বাংলা। সে সময়ে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন জয়রাম রমেশ। রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে বেশ বন্ধুত্বও পাতিয়ে ফেলেছিলেন। জয়রাম কলকাতায় এলে সেই হোটেলে পাশের ঘরে ভাড়া নিয়ে থাকতেন সুব্রতবাবু। ওই জমানায় একে তো বাংলার পিছিয়ে পড়া এলাকার উন্নয়নে ৮৭৫০ কোটি টাকা পেয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ। তা ছাড়া গ্রাম সড়ক প্রকল্প বিপুল সাহায্য পেয়েছিল কেন্দ্র থেকে। বাংলায় তৃণমূলের প্রথম মেয়াদে যে গ্রামে গ্রামে রাস্তা তৈরি হয়েছিল তার বারো আনাই কেন্দ্রের অনুদানে।

পরে গ্রাম সড়ক প্রকল্প খাতে কেন্দ্র ও রাজ্যের বরাদ্দের অনুপাত বদলে যায়। আগে ৯০ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করত কেন্দ্র। পরে কেন্দ্র রাজ্য সম্মতি করে তা হয়ে যায় ৬০: ৪০। অর্থাৎ প্রশাসনিক খরচ মিলিয়ে রাজ্যের প্রায় অর্ধেক টাকা দিতে হচ্ছিল। কিন্তু রাজ্যের আবার অর্থসঙ্কট। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় মেয়াদে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের গতি শ্লথ হয়। পুরনো রাস্তা মেরামতেও কোথাও কোথাও ঢিলেমি দেখা যায়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More