শ্রী সিমেন্টের সঙ্গে চুক্তি মীমাংসার জন্য আবারও মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান লাল হলুদ কর্তারা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময় পেরিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বরং সদস্য-সমর্থকদের মধ্যে একটা চাপা উৎকন্ঠা, ক্লাবের কী হবে আগামী মরসুমে! দলগঠন ঠিকঠাক হবে তো? ভালমানের বিদেশীদের নিয়ে এসে চ্যাম্পিয়নের লক্ষ্যে দল খেলবে কিনা, এরকম বহু ভাবনা মাথায় ভিড় করছে।

করোনা আবহের মধ্যেও এরকম হাজারো ভাবনা কিলবিল করছে লাল হলুদ সমর্থকদের মনে। বিভিন্ন ফ্যান গ্রুপ তাদের মনের কথা লিখছে টুইটার কিংবা ফেসবুক ওয়ালে। কেউ নানা ভিডিও বের করে শেয়ার করছে। তাতে নানা সমীকরণের কথা লেখা হচ্ছে। কোনও কোনও গ্রুপ তো টাইম টেবিলের মতো বারবার সময় দিয়ে বলছে, এই দিন এই সময়ে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঝামেলা মিটে যাবে!

সম্প্রতি ক্লাবের শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি চুক্তিসংক্রান্ত বিষয়ে অত ভাবছেন না। কারণ তিনি মনে করছেন, এই ব্যাপারে তাঁদের কিছু করণীয় নেই। তাঁরা তাদের শর্তাবলী আইনজীবীদের মাধ্যমে ইনভেস্টর শ্রী সিমেন্টকে জানিয়ে দিয়েছেন। তারা আলোচনা করে ক্লাবকে জানাবে। এর মধ্যে কোনও জটিলতা খোঁজা ঠিক নয়।

জটিলতা তবুও থাকছে। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতবছরই মহা ধূমধামে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ক্লাবের মেলবন্ধন ঘটিয়ে সম্পর্কের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেছিলেন। সেটাই একবছরের মধ্যে বিচ্ছেদের পথে কেন, সেই নিয়েই নানা কথা চলছে। দুই পক্ষই চুক্তির বিষয়ে নমনীয় না হলে এই সমস্যা যে মিটবে না, তা ময়দানে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে।

আবার একপক্ষ বলছে, ইস্টবেঙ্গল ভেতরে ভেতরে স্পনসর খুঁজছে, সেই কারণেই বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ফের সম্পর্কস্থাপনে অনিহা দেখাচ্ছে। কর্তাদের মনোভাব, থাকলে থাক, চলে গেলে ক্ষতি নেই। কারণ শর্তে এমনকিছু স্পর্শকাতর বিষয় রয়েছে, যেগুলি মানলে স্বাধীনতা বলে কোনও বস্তু থাকবে না কর্তাদের। সেই জন্যই ইনভেস্টর শ্রী সিমেন্টের আধিকারিকরা মাইন্ড গেম-এর পন্থা অবলম্বণ করছেন। আর মুখে সরাসরি হুমকি দিচ্ছেন, চুক্তিতে সই করলে তবেই আমরা নতুন করে চলতি মরসুমের জন্য অর্থ বিনিয়োগ করব, না হলে নয়।

ক্লাব কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখেছে, অর্থ দিয়েছে বলে ক্লাবের সব অভ্যন্তরীন বিষয়ে বিনিয়োগকারী হস্তক্ষেপ করবে, এটা মানা যায় না। তাই তারা ধীরে চলো নীতি পন্থা অবলম্বণ করছে। এতে করে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দলের ফুটবলাররা। তাঁরা সত্যিকারের ধোঁয়াশা ও বিভ্রান্তিকর অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। আদৌ তাঁদের সঙ্গে চুক্তি করা হবে কিনা, তারা জানেন না।

অনেক ফুটবলারই নতুন ক্লাব খুঁজতে শুরু করে দিয়েছেন। কেউ কেউ বিনিয়োগকারী কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। গতবার দল চরম ব্যর্থ হয়েছিল। ক্লাবের শতবর্ষ এত ব্যর্থতার মধ্যে গিয়েছে সমর্থকদের মন ভাল নেই।

এখন তা হলে এই সমস্যা থেকে পরিত্রানের উপায় কি? কর্তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, একমাত্র মুখ্যমন্ত্রীই পারেন এই সমস্যা থেকে সমাধানের পথ দেখাতে। চুক্তি মীমাংসার জন্য ক্লাবের এক কর্তা ভোট পর্বের মধ্যেই ক্রীড়ামন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, ভোট পর্ব মিটলে তিনি এই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন।
ভোট পর্ব ও ফলপ্রকাশ হয়ে গেলেও মুখ্যমন্ত্রীর এই সময়ে একটাই মিশন, কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি করা। তিনি আর কোনও বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন না। কর্তারা আশায় করোনার দাপট একটু কমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গিয়ে ফের মীমাংসার জন্য অনুরোধ করা। কারণ এই জট একমাত্র তিনিই খুলতে পারবেন, সেটাই আশা লাল হলুদ ক্লাব কর্তৃপক্ষের।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More