চা, গরম জল খেলেই সারে না করোনা, জানুন কী কী ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে, সতর্ক করল হু ও সরকারি নির্দেশিকা

সরকারি তরফে জানানো হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বা কোনও ওয়েবপেজে ছড়িয়ে পড়া এইসব নিদানের কোনও ভিত্তিই নেই। ভুয়ো খবর রটিয়ে মানুষকে আরও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চা খেলেই নাকি সারছে কোভিড-১৯?  কেউ আবার নিদান দিয়েছেন আদা-রসুন খাওয়ার। এমন মতও রয়েছে, ঘন ঘন উষ্ণ গরম জলে গার্গেল করলে বা গরম জল খেলে গলায় আটকে থাকা ভাইরাস নাকি ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যায়। করোনা ঠেকাতে পরামর্শ, টোটকা, চটজলদি উপায় এমন অজস্র ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সরকারি তরফে জানানো হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বা কোনও ওয়েবপেজে ছড়িয়ে পড়া এইসব নিদানের কোনও ভিত্তিই নেই। ভুয়ো খবর রটিয়ে মানুষকে আরও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।

কোনও রকম উপসর্গ দেখা গেলেই সঙ্গে সঙ্গে টেস্ট করানো দরকার। অভিজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শও নিতে হবে। নিজে থেকে ডাক্তারি করা অথবা কোনও ওষুধ খেয়ে ফেলা একেবারেই উচিত হবে না।

কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) গাইডলাইন অনুযায়ী দেখে নেওয়া যাক, কোভিড-১৯ সংক্রমণ সারাতে কী কী ভুয়ো তথ্য চালু হয়েছে বাজারে—

১) চা—চা খেলে করোনা সারে এমন খবর ছড়িয়েছিল নাকি চিন থেকেই। সেখানকারই নানা সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়েছিল চিনের সেই হিরো ডাক্তার লি ওয়েনলিয়াঙ চা খেয়ে করোনা উপশমের কথা বলেছিলেন। কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল, চায়ে রয়েছে রাসায়নিক মিথাইলজ্যানথিন এবং থিওব্রোমিন ও থিওফাইলিন যা যে কোনও সংক্রমণ প্রতিরোধী। চিনের হাসপাতালে চা খাইয়েই নাকি সারিয়ে তোলা হচ্ছে রোগীদের। সরকারি নির্দেশিকা বলছে, এই খবর পুরোপুরি ভুয়ো। চা খেয়ে করোনার সংক্রমণ সারে না। বরং সংক্রমণ ধরা পড়লে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

২) রসুন—রসুন খেলে কোভিড-১৯ সংক্রমণ সারে এমন ভুয়ো খবরও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। হু-এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রসুনের মধ্যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান আছে ঠিকই, তবে সারে এই মারণ জীবাণুর সংক্রমণ সারবে না। উল্টে এমন টোটকা ব্যবহার করে অসুস্থ হওয়ার উদাহরণ আছে অনেক। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছিল, এমন টোটকার কথা শুনে দেড় কিলোগ্রাম রসুন খেয়ে গলায় মারাত্মক সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এক মহিলা।

৩)  ১০ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখা—জাপানের বিশেষজ্ঞরা নাকি বলেছিলেন করোনার উপসর্গ ধরার জন্য ১০ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখতে হবে। কেউ যদি সংক্রামিত হন তাহলে তার ফুসফুস আগে আক্রান্ত হবে। অনেক ক্ষেত্রেই শ্বাসযন্ত্রে ফাইব্রোসিস হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে শ্বাস ধরে রাখা সম্ভব হবে না। কিন্তু হু বলছে, শ্বাস ধরে রেখে উপসর্গের পরীক্ষা একেবারেই ভুয়ো। বরং তার জন্য ল্যাব-টেস্টের দরকার।

৪) উষ্ণ গরম জলে ধুয়ে যাবে ভাইরাস—প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর নাকি উষ্ণ গরম জল খেলে বা গার্গেল করলে গলায় থাকা ভাইরাস ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাবে, এমন খবরও রটেছে অনেক জায়গায়। এমনকি এই খবর পড়ে অনেকে এইভাবে জল খাওয়াও শুরু করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জল খাওয়া ভাল তবে ১৫ মিনিট অন্তর উষ্ণ গরম জল খেলে ভাইরাস ধুয়ে যাবে এই ধারণা পুরোপুরি ভ্রান্ত। এমনকি স্যালাইন স্প্রে বা ভিনিগারে নাক-মুখ ধুলেও সংক্রমণ কমার সম্ভাবনা নেই।

৫) ফেস-মাস্কেই রুখবে কি ভাইরাস—হু-র বিশেষজ্ঞরা বলছেন সার্জিক্যাল ফেস-মাস্কে ভাইরাস ঠেকানো সম্ভব নয়। এই ভাইরাস এয়ার ড্রপলেটে ছড়ায়। সর্দি-কাশি, থুতু-লালার মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াতে পারে, সেটা সার্জিক্যাল মাস্কে ঠেকানো যায় না। তবে এন৯৫ রেসপিরেটর মাস্কে এয়ারবর্ন ভাইরাস রোখা সম্ভব।

৬) শরীরে অ্যালকোহল বা ব্লিচ স্প্রে—অ্যালকোহল যুক্ত স্যানিটাইজার জরুরি তবে সারা শরীরে অ্যালকোহল স্প্রে করলেই ভাইরাস মরবে না, এমনটাই বলেছেন হু-র বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই আবার সংক্রমণ ঠেকাতে ঘন ঘন অ্যালকোহল খাওয়ার নিদান দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাতে শরীরেরই বারোটা বাজবে, সংক্রমণ রুখবে না।

৭) বাড়িতে তৈরি হ্যান্ড-স্যানিটাইজার- ইউটিউব বা ফেসবুকে দেখে বাড়িতে বানানো হ্যান্ড-স্যানিটাইজারও কার্যকরী নয়। বরং উপাদানে ভুল করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক স্যালি ব্লুমফিল্ড বলছেন, এমন স্যানিটাইজার বাছতে হবে যাতে অ্যালকোহল আছে ৬০-৭০%। ভদকাতে ৪০% অ্যালকোহল থাকে। এমন স্যানিটাইজার না পেলে, ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে স্যানিটাইজার কেনা উচিত।

৮) গরমকাল পড়লেই মরবে ভাইরাস—এমন ধারণা চালু রয়েছে বাজারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ভাইরাস আবহাওয়ার প্রকৃতির উপর নির্ভর করে ঠিকই, তবে গ্রীষ্মকালেই যে ভাইরাসের প্রভাব কমবে এমনটা এখনও জানা যায়নি। ইউনিসেফও তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলেছে, সূর্যের আলোয় ভাইরাস মরবে অথবা আইসক্রিম খেলেই সংক্রমণ হবে এমন তথ্য সম্পূর্ণ ভুয়ো।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More