সাজছে ইসরোর ‘গগনযান’, একুশের শেষেই পাড়ি দেবে মহাকাশে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইসরোর বড় মিশন এ বছরেই।

করোনা মহামারীর জন্য গত বছর থমকে গিয়েছিল মহাকাশ-অভিযান। সেই ঘাটতি পূরণ হবে এ বছরেই। একুশের ডিসেম্বরেই মহাকাশে পাড়ি দেবে ইসরোর ‘গগনযান’ । এখনই মানুষ নিয়ে নয়, চলতি বছরে গগনযানের ‘আনম্যানড’ মিশনের পরিকল্পনাই করেছে ইসরো। ২০২২-২৩ সালে দ্বিতীয় গগনযানের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিশন হবে। তারপরেই মহাকাশে মানুষ নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আজ লোকসভায় বলেছেন, গগনযানের প্রথম ম্যানড মিশনের জন্য বৃহত্তর প্রস্তুতি চলছে। তার আগে মহাকাশের হাল হকিকত ঘুরে ফিরে দেখে আসবে গগনযান। চলতি বছর ও আগামী দুই বছর গগনযানের কয়েকটি অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরপরে চার বায়ুসেনা অফিসারকে নিয়ে পৃথিবীর কক্ষে পাক দেবে ইসরোর মহাকাশযান।

Image result for gaganyaan ISRO

গত বছর ডিসেম্বরেই ‘হিউম্যানয়েড’ ব্যোমমিত্রকে নিয়ে মহাকাশে ঘুরে আসার কথা ছিল গগনযানের, নভশ্চরদের মহাকাশে পাঠানোর আগে সেটা হত গগনযানের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ।  তবে করোনা সংক্রমণের জন্য  সেই মিশন পিছিয়ে দেওয়া হয়।

Image result for gaganyaan ISRO

প্রথম ‘ম্যানড মিশন’ মহাকাশবিজ্ঞানের ইতিহাসে মাইলস্টোন হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন। গগনযানের চার নভশ্চর ভারতীয় বায়ুসেনার চার দক্ষ অফিসার। তাদের প্রশিক্ষণ চলছে রাশিয়ায়। রাশিয়ার ইউরি গ্যাগারিন কসমোনট ট্রেনিং সেন্টারে (GCTC)কঠোর প্রশিক্ষণ পর্ব চলছে চার বায়ুসেনা অফিসারের। রাশিয়ার স্পেস এজেন্সি গ্ল্যাভকসমস ও জেএসসি (স্টেট স্পেস কর্পোরেশন রসকসমস)এবং ইসরোর হিউম্যান স্পেসফ্লাইট সেন্টারের তত্ত্বাবধানে ট্রেনিং চলছে চার নভশ্চরের। বায়োমেডিক্যাল ট্রেনিং-এর পাশাপাশি নানা শারীরিক কসরত করানো হবে ট্রেনিং সেন্টারে। সয়ুজ এয়ারক্রাফ্টের খুঁটিনাটি শেখানো হবে নভশ্চরদের। এই সয়ুজ এয়ারক্রাফ্টে চাপিয়েই পৃথিবী থেকে নভশ্চরদের আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে পাঠানো হয়।

Image result for gaganyaan ISRO

শূন্য মাধ্যাকর্ষণে নভশ্চরদের থাকার কায়দা শেখাবেন ওলেগ ভ্যালেরিয়েভিচ কতভ। রাশিয়ার এই নভশ্চর ৫২৬দিন কাটিয়ে এসেছেন মহাশূন্যে। বিশেষ আইএল-৭৬এমডিকে এয়ারক্রাফ্টে ওজনশূন্য অবস্থায় ভেসে থাকার প্রশিক্ষণ দেবেন ভারতীয় নভশ্চরদের। ‘ম্যানড-মিশন’-এর জন্য ইসরোর অন্দরে তৈরি হয়েছিল একটি অ্যাডভাইজরি কমিটি। সেখানে নির্বাচন করা হয়েছে এই চার নভশ্চরকে। তাঁরা প্রত্যেকেই বায়ুসেনার বিভিন্ন বিভাগে রয়েছেন। চারজনেই বায়ুসেনার দক্ষ পাইলট। দীর্ঘ সময় আকাশে বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা আছে।  ইসরো সূত্রের খবর, গগনযান অভিযানে ব্যবহার করা হবে জিএসএলভি এম-৩। ইসরোর চেয়ারম্যান শিবন জানিয়েছেন, চার নভশ্চরের শারীরিক পরীক্ষা প্রাথমিকভাবে হয়েছে আইআইএমে। এর পরের যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা চলবে রাশিয়ায়। গগনযানের যাত্রা হবে তিনটি পর্যায়ে। দু’টো আনম্যানড-মিশন এবং একটা ম্যানড-মিশন। মানুষ নিয়ে গগনযান মহাশূন্য পাড়ি দেবে এ বছর থেকেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More