চার মাসের রেহাই পাকিস্তানের, এখনই কালো তালিকাভুক্ত নয়, জানাল এফএটিএফ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আপাতত চার মাসের রেহাই। এখনই কালো তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে না পাকিস্তানকে। তবে আগামী বছর ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ধূসর তালিকায় থাকা পাকিস্তানকে সত্যি সত্যিই কালো তালিকাভুক্ত করা হবে বলে পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিল বিশ্ব সন্ত্রাসে অর্থ যোগানের উপর নজরদারি চালানো আন্তর্জাতিক সংস্থা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)। এটাই পাকিস্তানের শেষ সুযোগ শুধরে নেওয়ার। না পারলে, আন্তর্জাতিক ভাবে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে জারি হবে অর্থনৈতিক অবরোধ।

সন্ত্রাস দমনে তো বটেই, বারবার হুঁশিয়ারির পরও রাষ্ট্রপুঞ্জের চিহ্নিত আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কার্যত কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি  পাকিস্তান। জঙ্গিদের পুঁজি জোগান রোধে যে ৪০টি পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছিল এফএটিএফ-র পক্ষ থেকে, তার প্রায় কিছুই করেনি ইসলামাবাদ। এসএটিএফের তরফে জানানো হয়েছে, ন্যূনতম ২৭টি নির্দেশিকার মধ্যে মধ্যে ২২টিও করতে উঠতে পারেনি ইসলামাবাদ। ফলে আগামী বৈঠকেও ধূসর তালিকা থেকে পাকিস্তানের বেরোনোর সম্ভাবনা ক্ষীণ। বরং এইভাবে সন্ত্রাসে মদত দিতে থাকলে কালো তালিকাতেও ফেলা হতে পারে তাদের।

জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম), জামাত-উদ-দাওয়া (জেইউডি), লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি)-র মতো জঙ্গি সংগঠন বা হাফিজ সইদের মতো রাষ্ট্রপুঞ্জের ঘোষিত বিশ্ব-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও পাকিস্তান কোনও দমনমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। উল্টে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে রয়েছে সন্ত্রাসীদের মদত ও প্রশ্রয় দেওয়া এবং অর্থ জোগানোর অভিযোগ। এই সবকিছু খতিয়ে দেখে গত বছর জুনে পাকিস্তানকে ধূসর তালিকাভুক্ত করে দেয় এফএটিএফ। শুধরে নেওয়ার সময় দেওয়া হয় এ বছর অক্টোবর পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, নির্দেশিকা মেনে না চললে এ বছরই কালো তালিকাভুক্ত করা হতে পারে পাকিস্তানকে।

প্যারিসে চলতি ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)-এর শীর্ষ বৈঠকে জানানো হয় এখনই কালো তালিকাভুক্ত করা হবে না পাকিস্তানকে। শেষ সতর্কীকরণ হিসেবে পাকিস্তানকে ‘গাঢ় ধূসর’ তালিকাভুক্ত করা যেতে পারে বলে সওয়াল করে বেশিরভাগ সদস্য রাষ্ট্র। তবে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় চিন। মোট ৩৬টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে তৈরি এসএটিএফে কোনও রাষ্ট্রকে কালো তালিকাভুক্ত করা থেকে আটকাতে হলে অন্তত তিনটি রাষ্ট্রের আপত্তি প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় চিন, তুরস্ক ও মালয়েশিয়া।

এফএটিএফ-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নম্বর ধারায় তালিকাভুক্ত বিশেষ করে লস্কর-ই-তৈবা, জামাত-উদ-দাওয়া, ফালাহ-ই-ইনসানিয়াতের মতো সংগঠন বা তাদের মাথার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি পাকিস্তান। আগামী চার মাস এই জঙ্গি সংগঠনগুলিকে মদত দেওয়া ও তাদের অর্থ জোগানো বন্ধ না করলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাকিস্তান অবশ্য দাবি করেছে তারা বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর ৭০০ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। জঙ্গিদের অর্থ জোগান বা ‘মানি লন্ডারিং’-এর তেমন কোনও প্রমাণই নেই। তবে এসএটিএফ পাকিস্তানের এই যুক্তি খারিজ করেছে। এখন দেখা যাক আগামী বছর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কী কী ব্যবস্থা নেয় এই আন্তর্জাতিক সংগঠন।

পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

পুরস্কারের জন্য আমি সিনেমা বানাব না: প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More