শিশুদের কোভিড হলে রেমডেসিভির দেওয়া যাবে না, ছ’মিনিট হাঁটাতেই পরীক্ষা: জারি গাইডলাইন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ স্তিমিত হচ্ছে। আশঙ্কা এবার তৃতীয় স্রোতের। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনার তৃতীয় ঢেউ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে শিশুদের উপর। এখনই তার প্রস্তুতি শুরু করে দিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। এ ব্যাপারে গাইডলাইন জারি করা হয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে।

তাতে বলা হয়েছে অনুর্ধ্ব আঠারো কারও কোভিড হলে রেমডেসিভির প্রয়োগ করা যাবে না। খুব গুরুতর এবং আশঙ্কাজনক অবস্থা হলে তবেই দেওয়া যাবে স্টেরয়েড।

কেন রেমডেসিভির প্রয়োগ শিশুদের ক্ষেত্রে করা যাবে না?

বলা হয়েছে, এই ইঞ্জেকশন শিশুদের উপর প্রয়োগের কোনও তথ্য নেই। প্রয়োগ করা হলে কী হতে পারে সে ব্যাপারেও নির্দিষ্ট কোনও স্টাডি নেই। সুতরাং এ ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকতে হবে। অর্থাত্‍ আঠারো ঊর্ধ্বদের ক্ষেত্রে যা জীবনদায়ী তা শিশুদের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থা কেমন তা বোঝার জন্য সিক্স মিনিট ওয়াক টেস্টের কথা বলা হয়েছে। সেটা কী?

বলা হয়েছে, আঙুলে অক্সিমিটার লাগিয়ে সেই শিশুকে ঘরের মধ্যে ছ’মিনিট হাঁটাতে হবে। যদি দেখা যায় তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৪-এর নীচে নেমে গেছে বা স্যাচুরেশন ৩-৫ শতাংশ কম অথবা সেই শিশুটি চোখে অন্ধকার দেখছে, শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হচ্ছে তাহলে তখনই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হবে।

তবে যে শিশুদের ছোট থেকে হাঁপানির সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ছমিনিট হাঁটার টেস্ট প্রযোজ্য নয়। সংক্রমণহীন বা মৃদু সংক্রমণ থাকা কোভিড আক্রান্ত শিশুদের জন্য স্টেরয়েড প্রয়োগ না করাই বাঞ্ছনীয়। একমাত্র গুরুতরদের ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিডের সময়ে স্টেরয়েড প্রয়োগ ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণের অন্যতম কারণ। যা ইতিমধ্যেই দেশে মহামারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

পাঁচ বা তার চেয়ে কম বয়সী শিশুদের মাস্ক না পরলেও চলবে বলে জানিয়েছে গাইডলাইন। তবে ৬-১১ বছর বয়সীরা বাবা-মায়ের তত্ত্বাবধানে মাস্ক পরতে পারে। কোভিড আক্রান্ত শিশুদের সিটি স্ক্যানের উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে গাইডলাইনে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস মোকাবিলা করার জন্য তা জরুরি।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More