গর্ভেই ভ্রূণে ঢুকল করোনা! সংক্রমণ নিয়ে জন্ম হল সদ্যোজাতের, চিন্তায় ডাক্তাররা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গর্ভবতী হওয়ার পরে কোভিড আক্রান্ত হয়েছিলেন মা। প্রসবের পরে দেখা গেল, সদ্যোজাতের শরীরেও ভাইরাসের সংক্রমণ রয়েছে। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণে সংক্রমণ ছড়াতে পারে কিনা সে নিয়ে এখনও দ্বিধায় রয়েছেন ডাক্তার, গবেষকরা। কিন্তু এই ঘটনার পরে চিন্তার পারদ কয়েকগুণ বেড়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, গর্ভেই মায়ের শরীর থেকে ভাইরাল স্ট্রেন ভ্রূণে ঢুকে গিয়েছিল। কারণ প্রসবের পরেই দেখা যায় শিশুর শরীরেও সংক্রমণের কিছু উপসর্গ রয়েছে।

এই ঘটনা হরিয়ানার আয়ুষ্মান ভব হাসপাতালের। ডাক্তাররা বলছেন, শিশুটির মা ও বাবা দুজনেই করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। মহিলাকে কোভিড টেস্ট করে যখন রিপোর্ট পজিটিভ আসে, তখন তিনি গর্ভবতী। মহিলার স্বামীকে আলাদা আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল। প্রসবের সময়েও খেয়াল রাখা হয়েছিল যাতে লেবার রুমে কোনওভাবে সংক্রমণ না ছড়ায়। সবকিছু জীবাণুনাশক করে নেওয়া হয়েছিল আগে থেকেই। কিন্তু তার পরেও দেখা যায়, সদ্যোজাতের শরীরে সংক্রমণের চিহ্ন রয়েছে। তাই ডাক্তারদের অনুমান, মায়ের প্লাসেন্টার মাদ্যমে বাহিত হয়ে ভাইরাসের কণা গর্ভেই ঢুকে গিয়েছিল শিশুর শরীরে।

গর্ভাবস্থায় কীভাবে মায়ের শরীর থেকে শিশুর শরীরে ভাইরাস আসতে পারে—

মায়ের শরীর থেকে প্যাথোজেনের সংক্রমণ শিশুর শরীরে ছড়াতে পারে নানা ভাবে। প্লাসেন্টার মাধ্যমে অথবা প্রসবের সময় বিভিন্ন কারণে। ডাক্তাররা একে ‘ভার্টিকল ট্রান্সমিশন’ বলেন। এইচআইভি ও জিকা ভাইরাসের ভার্টিকল ট্রান্সমিশন সম্ভব। কিন্তু সার্স-কভ-২ ভাইরাস এইভাবে ছড়াতে পারে কিনা সেটা এখনও সঠিকভাবে বলা যায়নি। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) একসময় জানিয়েছিল, করোনার ভার্টিকল ট্রান্সমিশন বিরল ঘটনা, প্রায় অসম্ভব।

6 Important Functions Of Placenta During Pregnancy

কিন্তু পুণের একটি হাসপাতালেও গত বছর এমনই ঘটনা ঘটে। অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণী ভাইরাস আক্রান্ত হন এবং প্রসবের পরে দেখা যায় সদ্যোজাতও করোনাও আক্রান্ত। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশুটির শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে, করোনার অন্যান্য উপসর্গও দেখা দিতে থাকে। অ্যাম্বিলিকাল কর্ড, প্লাসেন্টার নমুনা পরীক্ষা করে কোভিড পজিটিভ ধরা পড়ে। এটা কীভাবে ঘটল তার সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ডাক্তাররা।

Placental Abruption - Causes, Symptoms & Treatments - Apollo Cradle

ভআইরাস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড সংক্রমণের কারণেই প্লাসেন্টার মধ্যে এমন অস্বাভাবিকতা দেখা গেছে আগেই। প্লাসেন্টার মধ্যে অনিয়মিত রক্তপ্রবাহ দেখা গেছে। রক্তপাতের ঘটনাও ঘটেছে। তবে প্লাসেন্টা ভাইরাস সংক্রামিত হলে সেখান থেকে গর্ভস্থ ভ্রূণের শরীরে ভাইরাস ঢুকে পড়ার ঘটনা কমই হয়েছে।

COVID-19 and the placenta: How are newborns protected? - Boston Children's  Discoveries

নিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে যেখানে ভ্রূণ তৈরি হয় সেখানেই এই প্লাসেন্টা তৈরি হয়। এর কাজ হল সেতুর মতো। নাভির মাধ্যমে জরায়ু ও ভ্রূণের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে। এর কাজ হল মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণকে খাবার, অক্সিজেন সরবরাহ করা। ভ্রূণের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবারহ করে এই প্লাসেন্টাই। তাছাড়া ভ্রূণের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ভ্রূণের রক্ত থেকে বর্জ্য পরিষ্কার করা, সংক্রমণ ঠেকানো ইত্যাদিও কাজ করে প্লাসেন্টা। আর করোনা যেভাবে মানুষের শরীরে ঢুকে পড়ার কৌশল খুঁজে নিয়েছে, তাতে এই প্লাসেন্টা বাহিত হয়ে ভ্রূণে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না গবেষকরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More