করোনায় কমেছে প্লেটলেট, নানা অঙ্গে প্রদাহ, কিশোরের প্রাণ বাঁচাল কলকাতার হাসপাতাল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ ধরাই যায়নি শুরুতে। কয়েক মাস কেটে যাওয়ার পরে রোগের মারাত্মক উপসর্গ দেখা দেয় কিশোরের শরীরে। তীব্র শ্বাসকষ্ট, জ্বর, লালচে র‍্যাশ, হ্যালুসিনেশন। শারীরিক অবস্থার এতটাই অবনতি হতে থাকে যে ভয় পেয়ে যান তার অভিভাবকরা। পরীক্ষা করে দেখা যায় ছেলেটি করোনায় আক্রান্ত এবং সেই কারণেই জটিল রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে শরীরে। নানা অঙ্গ বিকল হতে বসেছে। সেই পরিস্থিতি থেকে ছেলেটিকে বাঁচিয়ে ফিরিয়ে এনেছে কলকাতার অ্যাপোলো গ্লেনেগলস হাসপাতাল।

চোদ্দ বছরের ছেলেটির নাম ব্রতীন দাসগুপ্ত। পার্ক সার্কাস ডন বস্কোর নবম শ্রেণির ছাত্র। ব্রতীনের পরিবার জানিয়েছে, হঠাৎ করেই প্রবল জ্বর আসে। সারা গায়ে লালচে র‍্যাশ বের হতে থাকে। পেশির ব্যথা শুরু হয়, চোখ-মুখের রঙ ফ্যাকাসে হতে শুরু করে। জ্বর কমানো জন্য প্যারাসিটামল দেওয়া হয়, কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয়নি। শরীর আরও দুর্বল হতে থাকে। তখন অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ব্রতীনকে। তার চিকিৎসা শুরু করেন ডক্টর কৌস্তভ চৌধুরী।

ডাক্তারবাবুরা বলছেন, ব্রতীনের যে রোগ দেখা গিয়েছিল তার নাম মাল্টিসিস্টেম ইনফ্ল্যামেটরি সিন্ড্রোম (MIS-C ) । মাল্টি-সিস্টেম মানেই শরীরের নানা অঙ্গ আক্রান্ত হচ্ছে ভাইরাসের সংক্রমণে। ফুসফুসের সংক্রমণ তো বটেই, হার্ট, লিভার, কিডনি, খাদ্যনালীতেও দেখা যাচ্ছে সংক্রমণ। ইনফ্ল্যামেশন মানেই প্রদাহ, আর করোনার সংক্রমণ হলে দেহকোষে সাইটোকাইন প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে তীব্র প্রদাহজনিত রোগ তৈরি হচ্ছে শরীরে। যাকে বলে ‘সাইটোকাইন স্টর্ম।’ গবেষকরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্করা যেমন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তেমনি শিশুরাও। ইউরোপ ও আমেরিকার নানা জায়গায় কোভিড পজিটিভ শিশুদের মধ্যে মাল্টিসিস্টেম ইনফ্ল্যামেশনের উপসর্গ দেখা গিয়েছে। ফুসফুসের সংক্রমণ, হাঁপানি ও কার্ডিওভাস্কুলার রোগে আক্রান্ত হয়েছে শিশুরা।

এই রোগে শরীরের নানা অঙ্গে তীব্র প্রদাহ শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর, পেটে ব্যথা, বমিভাব, পেট খারাপের উপসর্গ দেখা দেয়। ধীরে ধীরে তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, ঝিমুনি, চোখ ফুলে যাওয়া, ত্বকের রঙে বদল এমনকি হাতে-পায়ে জ্বালাপোড়া ক্ষত, লালচে র‍্যাশও দেখা যায় অনেকের শরীরে। কার্ডিওভাস্কুলার রোগ ও মাল্টিঅর্গান ফেলিওরের ঝুঁকিও থেকে যায় কমবয়সীদের।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর কৌস্তভ চৌধুরী ইমিউনোগ্লোবিউলিন ও স্টেরয়েড দিয়ে ব্রতীনের থেরাপি করেন। ডাক্তারবাবু বলেছেন, ছেলেটির থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া দেখা দিয়েছিল অর্থাৎ শরীরে প্লেটলেট বা অনুচক্রিকা কমতে শুরু করেছিল, পোস্ট-কোভিড মায়েকার্ডিয়াল ডিসফাংশন দেখা যাচ্ছিল। হ্যালুসিনেশনও হচ্ছিল তার। ওই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করে ধীরে ধীরে ব্রতীনের প্লেটলেট বাড়ানো হয়। ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ কমানো হয়। এখন ছেলেটির সব বিপদ কাটিয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তারবাবুরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More