অসংক্রামক রোগই বিপজ্জনক দেশে, নীরবে আক্রান্ত হচ্ছে হার্ট-লিভার-কিডনি, ভাল থাকার উপায় বললেন ডাক্তারবাবুরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরম পড়ে, তারপর বর্ষা আসে, আর আমরা ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গি, ভাইরাল জ্বরের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করি। সংক্রামক নানা রোগের খবর ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এই যে করোনা অতিমহামারী নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে, তার খুঁটিনাটি খবরের কাগজ খুললে বা অনলাইন পোর্টালে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বত্রই একেবারে প্রথমেই পাওয়া যাবে। আর যে রোগ নীরবে আসে, মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ে না ঠিকই কিন্তু চুপিচুপি প্রাণ কেড়ে নেয়, তার খবর সেভাবে কখনও হয় না। সংক্রামক রোগ নয়, এই অসংক্রামক অসুখেরই কিন্তু বাড়বাড়ন্ত দেশে। হার্ট, লিভার, কিডনির রোগ, গেঁটে বাত থেকে শ্বাসকষ্ট, হাইপারটেনশন, ওবেসিটি—ভেবে দেখুন তো এই ধরনের অসুখ কীভাবে ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে। অথচ অসংক্রামক রোগ নিয়ে তেমন হইচই হয় না কখনও। অ্যাপোলো হাসপাতালের ডাক্তারবাবুরা আজ একটি ওয়েইবিনারে এই অসংক্রামক অসুখ নিয়েই সচেতনতার বার্তা দিলেন। রোগ ঠেকানোর উপায় নিয়েও আলোচনা করলেন।

Sugar tax an option if "all else fails" in Hong Kong's fight against  non-communicable disease

অ্যাপোলো হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রতাপ সি রেড্ডি বললেন, অসংক্রামক রোগীর সংখ্যা দেশে ৬৪ শতাংশের বেশি। কোমর্বিডিটিতে ভোগা রোগী স্বাস্থ্যমন্ত্রকের উদ্বেগের কারণ। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রসবকালীন জটিলতা বা সংক্রামক রোগের কারণে মৃত্যু ২৫ শতাংশ কমে গেছে, বদলে নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ বা অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। চেয়ারম্যানের কথায়, করোনা মহামারীর আগে থেকেই অসংক্রামক রোগের বাড়াবাড়ি হয়েছে দেশে। এখন মহামারী পর্যায়তেও এই ধরনের অসুখ বেড়ে চলেছে। ভারতে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সের লোকের রোগের ৬২ শতাংশই দীর্ঘস্থায়ী বা অসংক্রামক রোগের শিকার। অথচ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে শুরুতেই এই রোগ ধরা পড়ে। চিকিৎসাও আছে, হার্টের রোগের উন্নত ও আধুনিক মানের থেরাপি এখন বেরিয়ে গেছে। হার্ট সার্জারিও এখন আর ভয়ের কারণ নয়। এমনকি ক্যানসারও গোড়াতে ধরা পড়লে তার চিকিৎসা সম্ভব।

Fortification, quality and policy: Cargill report identifies three key  solutions to APAC malnutrition problem

অসংক্রামক রোগের মধ্যে আমাদের দেশে উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, গাঁটের ব্যথা এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীর সংখ্যা বেশি। তাছাড়া আছে, হাইপারটেনশন, ওবেসিটি। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)  একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল  পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া এবং ‘ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন’, তাতে দেখা গিয়েছিল, অসংক্রামক রোগে ভারতের অবস্থা ভয়াবহ। ১৯৯০ থেকে ২০১৬-র মধ্যে ভারতে হৃদরোগ ও স্ট্রোক ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ২ কোটি থেকে বেড়ে হয়েছে ৬ কোটি। গত কয়েক বছরে দিল্লি, কলকাতা, পাঞ্জাব-হরিয়ানা, মুম্বই-আহমেদাবাদ বেল্ট, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশার কিছু অংশে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এর কারণই হল অসচেতনতা এবং সঠিক সময় হেলথ চেক আপ না করানো।

4 Healthy Habits': mobilizing volunteers to help fight noncommunicable  diseases – IFPMA

আইসিএমআরের প্রাক্তন ডিরেক্টর-জেনারেল ও বর্তমানে অ্যাপোলো হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট ডক্টর নির্মল কুমার গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, এখন রোগীদের স্ক্রিনিং, ডিটেকশন, থেরাপির জন্য অনেক আধুনিক ব্যবস্থা হয়েছে। ২০১৩ সালে নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ রুখতে একটি জাতীয় কর্মসূচী নেওয়া হয়েছিল,যেখানে প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। ৩১ হাজারের বেশি রোগীকে শণাক্ত করে তাদের কাউন্সেলিং করা হয়েছিল। দেখা গিয়েছিল প্রত্যন্ত এলাকার মহিলাদের মধ্যে স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি। শুধুমাত্র প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে ১৭ জন ক্যানসার রোগীকে চিহ্নিত করা হয়েছিল যাদের রোগ সবে ছড়াতে শুরু করেছে। এই পরীক্ষার কারণেই পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলিতে কোমর্বিডিটিতে ভোগা রোগীদের চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়েছিল।

ডাক্তারবাবুরা বলছেন, লাইফস্টাইল ডিজিজই এখন বেশি। তাই সংযত জীবন, সঠিক ডায়েট, নিয়মিত শরীরচর্চা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আর সেই সঙ্গে রোগ গোপন না করে সঠিক সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোও দরকার। অসংক্রামক রোগের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নত করার চেষ্টা চলছে দেশজুড়েই। মানুষের সচেতনতা বাড়লে রোগের প্রকোপও অনেক কমে যাবে বলে আশা ডাক্তারবাবুদের।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More