শিশুদের মলে রক্ত, ঘন ঘন পেট খারাপ, কোলনে পলিপ নেই তো! কী কী লক্ষণ দেখে বুঝবেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছোট বাচ্চাদের প্রায়ই মলের সঙ্গে রক্ত বের হতে দেখা যায়। মলদ্বারে ব্যথা, ঘন ঘন পেট খারাপ লেগেই থাকে। সেই সঙ্গে বমিভাব থাকে সারাক্ষণ। যদিও মলের সঙ্গে রক্ত নানা কারণে বের হতে পারে, তবে একটি সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না একেবারেই। সেটা হল বৃহদন্ত্র বা কোলনে ছোট টিউমার। সহজ কথায়, ফুলে ওঠা মাংসপিণ্ড যাকে পলিপ বলা হয়। যদি কোলনে একসঙ্গে অসংখ্য এমন মাংসপিণ্ড বা পলিপ গজায় তাহলে তাকে জুভেনাইল পলিপ (Juvenile Polyposis) বলে। পলিপোসিস মানে হল একসঙ্গে অনেকগুলো পলিপ একসাথে যদি একই জায়গায় গজিয়ে ওঠে।

পলিপোসিসের নানা ধরণ আছে। বড়দেরও হয়, আবার শিশুদেরও। সাধারণ ২ বছর থেকে ১০ বছরের বাচ্চাদের জুভেনাইল পলিপোসিস সিন্ড্রোম দেখা দেয়। এরও কারণ অনেক। অনেক সময় এই জুভেনাইল পলিপ বংশগত কারণেও হতে পারে। পারিবারিক ইতিহাস থাকলে সন্তানেরও মধ্যেও আসতে পারে। পলিপ যে সবসময় সাঙ্ঘাতিক ক্ষতিকর হতে পারে এমনটা নয়, তবে সঠিক সময় চিকিৎসা না করালে বিপদ বাড়তে বাড়ে। পলিপ ম্যালিগন্যান্ট হয়ে কোলন ক্যানসারও হতে পারে।

 

কোথায় হয় পলিপ?

তিন ধরনের জুভেনাইল পলিপোসিস দেখা যায়। ১) কোলন বা রেকটামে হতে পারে। ২) খাদ্যনালীতে সংক্রমণের কারণে পলিপ হতে পারে এবং ৩) পরিবারে পলিপোসিসের ইতিহাস থাকলে বাচ্চাদের মধ্যেও তা চলে আসতে পারে।

পলিপ হল কোষের অস্বাভাবিক ও অনিয়মিত বাড়বৃদ্ধি। কোলনে যে মিউকোসা থাকে, তার ভেতরের আবরণীতে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়ে ছোট মাংসপিণ্ড তৈরি করতে পারে। একে পলিপ বলে। যদি একসঙ্গে অসংখ্য কোষের বিভাজন শুরু হয়, তাহলে অনেকগুলো মাংসপিণ্ড গজিয়ে উঠতে পারে। তখন বলা হয় পলিপোসিস সিন্ড্রোম।

Colon Polyps-Causes-Symptoms-Diagnosis-Treatment-Prevention-Complications

জুভেনাইল পলিপোসিসের লক্ষণ কী কী?

জুভেনাইল পলিপোসিসের কিছু উপসর্গ দেখে সাবধান হতে হবে। তিন থেকে পাঁচ বছরের বাচ্চাদের গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল ট্র্যাক্টে পলিপ হতে পারে। সেই সময় হজমে সমস্যা দেখা দেয় বাচ্চাদের। প্রোটিনের পরিমাণ কমতে থাকে শরীরে। হঠাৎ করেই ওজন কমতে থাকে। শরীরের বাড়বৃদ্ধিও বন্ধ হয়ে যায়। খিদে চলে যায়, কিছু খেলেই বমি হতে থাকে বাচ্চাদের।

কোলন বা রেকটামে পলিপ হলে মলদ্বারে ব্যথা, মলের সঙ্গে রক্ত বের হতে থাকে। সেই সঙ্গেই বমিভাব থাকে সারাক্ষণ। অনেক্ষেত্রেই মলত্যাগের সময় পলিপগুলি ফেটে গিয়ে রক্তপাত শুরু হয়।

ঘন ঘন পেট খারাপ বা কোষ্ঠকাঠিন্য এই রোগের লক্ষণ। মলত্যাগের সময় পেটে যন্ত্রণা হয়। অনেকেরই রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায়, অ্যানিমিয়া হতে পারে।

মুখের ভেতরে কালো ছোপ পড়ে অনেকের। এই লক্ষণ দেখেও সতর্ক হতে হবে। সেই সঙ্গে যদি মলের সঙ্গে কাঁচা রক্ত বের হয় তাহলে ফেলে না রেখে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

Practical management of polyposis syndromes | Frontline Gastroenterology

জুভেনাইল পলিপ মানেই যে ম্যালিগন্যান্ট হবে তেমনটা নয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাংসপিণ্ডগুলো কেটে ফেললে অনেক স্বস্তি মেলে। তবে দীর্ঘদিন চিকিৎসায় না করিয়ে ফেলে রাখলে পলিপগুলো ফেটে গিয়ে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তখন ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পারিবারিক ইতিহাস থাকলে চিন্তা বেশি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বংশগতভাবেও ছড়াতে পারে পলিপোসিস। সাধারণত দুই ধরনের জিনের সঙ্গে এই রোগের যোগ রয়েছে। বিএমপিআর১এ এবং এসএমএডি৪। সাধারণত দেখা গেছে, ৫০-৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে পলিপোসিস এই দুই জিন বাহিত হয়েই ছড়িয়েছে। যদি এসএমএডি৪ জিনের গঠন বদলে যায় বা মিউটেশন হয় তাহলে বংশগতভাবে এই রোগ বাচ্চাদের মধ্যেও চলে আসে।

বড়দের ক্ষেত্রে অ্যাডেনোমাস পলিপ হয়। সাধারণত এই ধরনের পলিপ কোলনের নীচে বাঁদিকে হয়। সিগময়েড কোলন বা রেক্টো সিগময়েডে পলিপ হতে পারে। এই ধরনের পলিপে চিন্তা কিছু বেশি থাকে। পলিপ ক্যানসারের চেহারা নিতে পারে।

A rare presentation and diagnosis of juvenile polyposis syndrome and  hereditary hemorrhagic telangiectasia overlap syndrome - ScienceDirect

পলিপ থেকে রেহাই পেতে অস্ত্রপোচারই ভরসা

কোলনে মাংসপিণ্ড জমছে কিনা জানতে কোলোনোস্কোপি করা হয়। ছোটদের বা বড়দের পলিপ আছে কিনা জানতে এই পদ্ধতিই সবচেয়ে বড় ভরসা।

একসঙ্গে অনেকগুলো পলিপ তৈরি হলে অস্ত্রোপচার করে তা কেটে বাদ দেওয়া হয়। অনেক সময় মোনোপোলার কারেন্টে সেই জায়গা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এটা এমন একধরনের সার্জিক্যাল পদ্ধতিতে যেখানে কারেন্ট দিলে কোনও শক লাগে না। বরং গোটা জায়গায় অবাঞ্ছিত মাসপিণ্ডগুলোকে পুড়িয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়।

বংশগতভাবে পলিপোসিসের ধাত থাকলে কিছু ওষুধের মাধ্যমে থেরাপি করা হয়। যাতে নতুন করে পলিপ তৈরি হতে না পারে।

সিগময়েড কোলনে পলিপ হলে ডাক্তাররা বায়োপসি করে দেখে নেন তা ম্যালিগন্যান্ট হয়েছে কিনা। বড়দের ক্ষেত্রেই এই ভয়টা বেশি থাকে। তবে ডাক্তারবাবুরা বলছেন, সঠিক সময় চিকিৎসা করালে এই রোগ সেরে যায়। পলিপ বড় হওয়ার আগেই তা অস্ত্রোপচার করে ফেলতে পারলে আর কোনও ভয় থাকে না।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More