পরিবারে চুপিসারে ঢুকে পড়েছে হেপাটাইটিস! আক্রান্ত গর্ভবতী মাও, ভয় নেই উপায় আছে: ডক্টর সৌভিক ঘোষ

পরিবারের কেউ হেপাটাইটিস বি বা সি-তে আক্রান্ত হলে কী করতে হবে? কতটা সতর্ক হতে হবে? রোগী ও পরিবারের অন্যদের কী কী সাবধানতা মেনে চলতে হবে? গর্ভবতী মায়েরা কতটা সতর্ক হবেন—এই সব প্রশ্নেরই সহজ ব্যাখ্যা করে লিখলেন হেপাটোলজিস্ট ডাক্তার সৌভিক ঘোষ। 

ডক্টর সৌভিক ঘোষ

(হেপাটোলজিস্ট ও গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট)

 

হেপাটাইটিস ধরা পড়েছে! ভয় আর আতঙ্কের শুরু এখান থেকেই। পরিবার-পরিজনের মধ্যে কারও হেপাটাইটিস ধরা পড়লে চিন্তা আরও বাড়ে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে না তো? ভয়ের কারণ কতটা? কাছের মানুষের হেপাটাইটিস হয়েছে মানেই কি তাকে আলাদা, নিঃসঙ্গ জীবন কাটাতে হবে? রোজকার জীবনে এই প্রশ্নগুলোই সবচেয়ে বেশি ভাবায়। হেপাটাইটিস হল লিভারের এমন এক রোগ যার কারণ ভাইরাস। আর ভাইরাসের সংক্রমণ মানেই আতঙ্ক কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষত হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি নামক লিভারের দুই সংক্রমণজনিত রোগ নিয়েই সারা বিশ্ব তোলপাড়। পরিবারের কেউ হেপাটাইটিস বি বা সি-তে আক্রান্ত হলে কী করতে হবে? কতটা সতর্ক হতে হবে? রোগী ও পরিবারের অন্যদের কী কী সাবধানতা মেনে চলতে হবে? গর্ভবতী মায়েরা কতটা সতর্ক হবেন—এই সব প্রশ্নেরই সহজ ব্যাখ্যা করে লিখলেন হেপাটোলজিস্ট ডাক্তার সৌভিক ঘোষ।

শুরুতেই বলি, পরিবারের কারও হেপাটাইটিস ধরা পড়লে অযথা চিন্তা বা আতঙ্কের কিছু নেই। সঠিক সময় টেস্ট করিয়ে ধরা পড়লে তার চিকিৎসা আছে। বিশেষত হেপাটাইটিস বি-এর ভ্যাকসিন আছে। তাই পরিবারের সকলেই যদি ভ্যাকসিন নিয়ে রাখেন তাহলে বিপদের ঝুঁকি কম।

আসলে লিভারের রোগ তো নানারকম হয়। হেপাটাইটিসের কারণ হল ভাইরাস। অর্থাৎ যাকে বলে ভাইরাল ইনফেকশন। এই রোগ জানান দিয়ে আসে না। ভাইরাস লিভারে ঢুকে পড়ে চুপিসাড়েই। সংক্রমণ ছড়ায় নিঃশব্দে। অনেক সময় বাহক নিজেই বোঝেন না তিনি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়ে যখন লিভার ফুলতে থাকে, তীব্র প্রদাহ তৈরি হয় তখনই রোগের বিষয়টা সামনে আসে। খুব বেশি দেরি হয়ে গেলে লিভার সিরোসিস এবং তার থেকে ক্যানসারও হয়। তাই ভয়ের কারণটা বাড়ে। কিন্তু সঠিক সময় ব্যবস্থা নিলে ভাইরাল ট্রান্সমিশন বা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া আটকানো যায়।

 

পরিবারের কেউ হেপাটাইটিস পজিটিভ, ভয়ের কারণ কতটা

অনেকেই জানেন, হেপাটাইটিস পাঁচ রকম হয়। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই। এই পাঁচ রোগের কারণই ভাইরাস। হেপাটাইটিস এ ও হেপাটাইটিস ই নিয়ে অতটা ভয় থাকে না। কারণ এরা হল অ্যাকিউট লিভার ডিজিজ। মূলত খাবার, পানীয় জল থেকে ছড়ায়। হেপাটাইটিস এ ভাইরাস (HAV) ও হেপাটাইটিস ই ভাইরাসের (HEV) সংক্রমণ ছড়ানোর রাস্তা বা ‘ট্রান্সমিশন রুট’ হল ফেকো-ওরাল (Fecal-Oral) । অর্থাৎ ওরাল-ট্রান্সমিশন যেমন থুতু, লালা থেকে ছড়াতে পারে, তেমনি আক্রান্তের মল-মূত্র থেকেও ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। পরিবারের কেউ হেপাটাইটিস এ বা ই-তে আক্রান্ত হলে তার দ্রুত চিকিৎসা সম্ভব।

চিন্তার কারণ হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি। কারণ এই দুই ভাইরাসই ছড়াতে পারে ‘ক্লোজ কনট্যাক্ট’-এ। রক্ত, দেহরস যেমন বীর্য, ভ্যাজাইনাল সিক্রেশনে ভাইরাস ছড়াতে পারে। তাই পরিবারের কেউ হেপাটাইটিস বি পজিটিভ হলে সচেতন থাকার প্রয়োজন। যেহেতু বডি ফ্লুইডের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে তাই আক্রান্তের সঙ্গে কোনও রকম শারীরিক সম্পর্ক সেই সময় চলবে না, গভীর চুম্বন বা যৌন সম্পর্ক এড়িয়ে চলাই ভাল। আক্রান্তের সঙ্গে যাতে রক্তের সংযোগ না হয় সে দিকটাও খেয়াল রাখতে হবে। ধরা যাক, পরিবারের কেউ হেপাটাইটিস বি পজিটিভ। এবার কোনও কারণে তাঁর শরীরে ক্ষত তৈরি হল বা কেটে গিয়ে রক্তপাত হল, এবার সেই রক্ত বা ক্ষত থেকে বের হওয়া পুঁজ বা রস যদি সুস্থ মানুষের শরীরে ঢোকে তাহলে তিনিও হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হবেন। তার মানে এই নয় যে আক্রান্তের দেখাশোনা করা যাবে না, সবই করা যাবে শুধু সতর্ক থাকতে হবে।

আপনজন হেপাটাইটিস বি পজিটিভ? আইসোলেশনে নয়, কাছে থেকেও রোগ সারানো যায়

হেপাটাইটিস বি করোনা সংক্রমণের মতো থুতু-লালার জলকণা বা ড্রপলেটে ছড়ায় না। আক্রান্তের দেহরস যদি শরীরে ঢোকে তবেই সংক্রমণ ছড়াবার সম্ভাবনা থাকে। অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন, স্বামী, সন্তান বা পরিবারের খুব কাছের মানুষ যদি হেপাটাইটিস বি পজিটিভ হন তাহলে কী তাঁকে আইসোলেশনে রাখতে হবে? আমি বলব, তেমন কোনও ব্যাপার নেই। একসঙ্গেই থাকা যেতে পারে তবে সতর্ক হতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, কোনওভাবেই যাতে আক্রান্তের রক্ত, বডি ফ্লুইড বা দেহরস শরীরের সংস্পর্শে না আসে। এই সময় যৌন মিলন এড়িয়ে চলাই ভাল। বেশি ঘনিষ্ঠতাও বিপদের কারণ হতে পারে।

এরপরেই যে প্রশ্নটা আসে, একই শৌচাগার ব্যবহার করা যাবে কিনা। আমি বলব, তাতেও কোনও বাধা নেই। পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তি যে থালা-বাসন ব্যবহার করছেন, ভাল করে ধুয়ে নিয়ে তাও ব্যবহার করা যেতে পারে। শুধু খেয়াল রাখতে হবে যাতে বডি ফ্লুইডের ট্রান্সমিশন না হয়। এর বাইরে ভয়ের কারণ নেই। আরও একটা কথা হল, যদি যৌথ পরিবার হয় বা একসঙ্গে বাস হয়, তাহলে একজনের হেপাটাইটিস বি ধরা পড়লে সকলেই ভ্যাকসিন নিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তি যদি দ্রুত ভ্যাকসিন নেন তাহলে রোগ নিরাময়ের সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস

পরিবারের কারও লিভার সিরোসিস আছে মানেই সকলের হবে এমনটা নয়

লিভারের অন্তিম পরিণতি সিরোসিস। এই লিভার সিরোসিস নিয়ে এখন সকলেরই ভয়। অনেকেই ভাবেন পরিবারের একজনের লিভার সিরোসিস ধরা পড়লে বাকিদেরও হতে পারে। আমি বলব, এটা ঠিক নয়। সিরোসিস নানা কারণেই হতে পারে। ভাইরাসজনিত কারণে সিরোসিস হলে তার জন্য দায়ী হেপাটাইটিস বি ভাইরাস।

সংক্রমণ অ্যাকিউট হলে তাড়াতাড়ি সেরে যায়, কিন্তু যদি ক্রনিক হয় তাহলেই লিভার ফুলতে থাকে, জল জমে, রক্তবমি হয় ও শেষে ফাইনাল স্টেজে গিয়ে পৌঁছয় অর্থাৎ সিরোসিস হয়। ক্রনিক হেপাটাইটিসের ক্ষেত্রে হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা (যকৃত ক্যানসার) হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরিবারের কারও লিভার ফাংশন টেস্টে সিরোসিস ধরা পড়লে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা দরকার।

আরও একটা কথা বলব, জন্ডিসকে ভয় পান অনেকেই। বিশেষত বাড়ির কারও জন্ডিস ধরা পড়লেই ভেবে বসেন তিনি হেপাটাইটিসে আক্রান্ত। সবসময় এমনটা হয় না। জন্ডিস ধরা পড়লে হেপাটাইটিসের টেস্ট করাতেই হয়। অ্যাকিউট হলে সেরে যায় আর ক্রনিক হলে অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধের কোর্স করানো হয়।

 

রোগ ধরতে পারে সদ্যোজাতকে, গর্ভাবস্থাতেই চিকিৎসা শুরু হলে ভাল

প্রসবকালে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা খুব বেশি। বিশেষত যদি মায়ের শরীরে ভাইরাল লোড বেশি থাকে। তাই ভয়ের কারণ আছে বলাই যায়। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমি বলব, মা যদি হেপাটাইটিস বি পজিটিভ হন, আর সংক্রমণ ধরা পড়ে শুরুতেই, তাহলে ভাইরাল লোডের পরিমাণ দেখে অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধের কোর্স শুরু করা যায়। সাধারণত দেখা যায়, সন্তান যখন মায়ের পেটে থাকে তখন ভাইরাল ট্রান্সমিশন হয় না। অর্থাৎ মায়ের শরীর থেকে ভাইরাস সন্তানের শরীরে আসে না। এই ট্রান্সমিশনের শুরু হয় প্রসব বেদনা ওঠার পরেই। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্লাসেন্টার মাধ্যমে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে সন্তানের শরীরে। তাই হেপাটাইটিস বি পজিটিভ মা যখন সন্তানের জন্ম দেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সদ্যোজাত হেপাটাইটিস বি নিয়েই জন্মেছে।

এরও প্রতিকার আছে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। যাকে অ্যাকটিভ ইমিউনাইজেশন বলি আমরা। তাও দেখা যায় ১০% শিশু ক্রনিক হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়েছে। এই ঝুঁকি এড়ানোর জন্য গর্ভাবস্থার প্রথম ২৮ দিন থেকেই অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধের ট্রিটমেন্ট শুরু করে দেন ডাক্তাররা। মায়ের শরীরে যদি রোগের উপসর্গ দেখা দেয় তাহলে দ্রুত টেস্ট করিয়ে টেনোফোভির ওষুধের কোর্স শুরু করা হয়। আর যদি তেমন উপসর্গ না থাকে তাহলেও ভাইরাল লোড দেখে ওষুধের থেরাপি শুরু করা হয়। এর সুবিধা হল, প্রসবের সময় ভাইরাসের সংক্রমণ আর শিশুর শরীরে ছড়াতে পারে না।

 

সন্তান নিতে চাইছেন? হেপাটাইটিসের লক্ষণ ধরা পড়েছে? ভয় নেই

ফ্যামিলি প্ল্যানিং করছেন যাঁরা অনেকেই এই প্রশ্ন করেন। সন্তান নিতে চাইছেন অথচ হেপাটাইটিস বি বা সি ধরা পড়েছে তাহলে কী হবে। আগে বলি, হেপাটাইটিস সি যদি ধরা পড়ে তাহলে ভয়ের কারণ খুব একটা নেই। কারণ হেপাটাইটিস সি মায়ের থেকে সন্তানের শরীরে আসার সম্ভাবনা কম। কারণ হেপাটাইটিস সি ভাইরাস বি-এর থেকে কিছুটা হলেও কমজোরি। তবে হেপাটাইটিস সি ধরা পড়লেও ফেলে রাখা যাবে না। কারণ হেপাটাইটিস সি-এর কোনও ভ্যাকসিন নেই। তবে ভাল খবর হল, গত কয়েক বছরে অনেক অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ এসেছে বাজারে। যেমন সোফোসোভির, ড্যাকলাটাসভির, লেডিপ্যাসভির ইত্যাদি যাদের কম্বিনেশনে কোর্স করলে ১২ থেকে ২৪ সপ্তাহের মধ্যে অন্তত ৯৫-১০০ শতাংশ রোগ নিরাময় সম্ভব। সন্তান ধারণ করার আগে এই অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধের কোর্স করে নিলে সংক্রমণ একেবারেই নির্মূল হয়ে যায়।

এবার আসি হেপাটাইটিস বি-এর কথায়। এমন অনেক মহিলাই আসেন যাঁরা হেপাটাইটিস বি পজিটিভ কিন্তু সন্তান নিতে চান। তাঁদের জন্যও অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধের কোর্স আছে। এন্টেকাভির, টেনোফোভির ইত্যাদি। আমরা মূলত টেনোফোভিরের থেরাপি শুরু করি। এই ওষুধ খেতে থাকলে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে না। মা যদি ওষুধের ট্রিটমেন্টে থাকেন তাহলে সন্তান নেওয়া যেতেই পারে।

 

মায়ের দুধে ছড়ায় না ভাইরাস

মায়ের দুধে ভাইরাসের ট্রান্সমিশন হয় না। কিন্তু যদি মা অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধের ট্রিটমেন্টে থাকেন, তাহলে সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন না। আগেই বলেছি, গর্ভাবস্থার ২৮ দিন থেকে টেনোফোভির ওষুধের কোর্স শুরু করলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে তার শরীরে সংক্রমণ ছড়াতে পারে না। কিন্তু এই ওষুধের একটা সমস্যাও আছে। টেনোফোভিরের থেরাপিতে থাকলে সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো যায় না। কারণ ওষুধের প্রভাবে সন্তানের শরীরে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।

আমার পরিবার থাক সুখে

রোগ বলে-কয়ে আসে না। কখন চুপি চুপি ভাইরাস সেঁধিয়ে যাবে পরিবারে ধরা খুব মুশকিল। চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। জানিয়ে রাখি, হেপাটাইটিসের উপসর্গ তেমনভাবে নাও দেখা দিতে পারে। তাই সবাইকেই বলি ভ্যাকসিন নিয়ে রাখতে। আজকের দিনে এটা মাস্ট। জন্মের পরে যদি ভ্যাকসিন নেওয়া থাকে তাহলে ভাল, যদি না থাকে তাহলে প্রাপ্তবয়স্করাও নিয়ে রাখতে পারেন। ০.১ এমএল ডোজে তিন বার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। শুরুর প্রথম একমাস পরে ও ফের ছ’মাস পরে। তাছাড়া, তিন থেকে ছ’ মাস অন্তর একবার করে লিভার ফাংশন টেস্ট করিয়ে নেওয়া দরকার। লিভারে সংক্রমণ বাসা বেঁধেছে কিনা, কোনওরকম অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছে কিনা তার পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া দরকার। রোগ শুরুতেই চিহ্নিত করা গেলে দ্রুত নিরাময় করা সম্ভব।

যদি দেখেন পরিবারের কারও চোখে বা ত্বকে হলদেটে ভাব দেখা যাচ্ছে, পেট ব্যথা ক্রনিক হয়ে গেছে, ঝিমুনি, ক্লান্তিভাব, পেশী ব্যথা, গাঁটে গাঁটে ব্যথা হচ্ছে, প্রস্রাব ঘন ও গাঢ় রঙের হচ্ছে, ভুল বকছে তাহলে সতর্ক হতে হবে। বাড়াবাড়ি হলে রক্তবমি হয়, লিভার ফুল যায়। তবে সেটা অ্যাডভান্সড স্টেজে লিভার সিরোসিসের ক্ষেত্রে।

আরও একটা ব্যাপারে সতর্ক করতে চাই। সকলের জন্যই বলব, অন্যের ব্যবহার করা চিরুনি, ব্রাশ বা প্রসাধনীর জিনিসপত্র ব্যবহার করা ঠিক নয়। সেলুন থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বিশেষত সেলুনগুলোতে একই রেজ়ার বা সেভিং ব্রাশ ব্যবহার করা হয়। তার থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। ক্ষুর দিয়ে দাড়ি-গোঁফ কামানো হলে তার থেকেও সংক্রমণ ছড়াবার ঝুঁকি থাকে। সবশেষে বলতে পারি, হেপাটাইটিস রোগ সারানো সম্ভব। অযথা আতঙ্কের কিছু নেই। সতর্ক থাকতে হবে, নিয়ম মানতে হবে তাহলেই ভাইরাসকে একেবারে গুড বাই করে দেওয়া যাবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More